Skip to main content

Posts

Showing posts from February, 2023

অবশ্যপাঠ্য পঞ্চাশটি ইসলামিক বই

 ১। আল কুরআনের সহজ সরল বাংলা অনুবাদ - হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ - আল কুরআন একাডেমী লন্ডন ২। তাফসীর : তাওযীহুল কুরআন - আল্লামা তাকী উসমানী / তাফহীমুল কুরআন - সাইয়েদ আবুল আ’লা / আহসানুল বায়ান - আল্লামা হাফিয সালাহুদ্দিন ইউসুফ / মাআরেফুল কুরআন - মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ শফী ৩।হাদীস : রিয়াদুস সালেহীন - ইমাম মুহিউদ্দীন ইয়াহইয়া আন-নববী ৪। সীরাত : সীরাহ - রেইনড্রপস / আর রাহীকুল মাখতুম - আল্লামা সফিউর রহমান মোবারকপুরী / মানবতার বন্ধু মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ (ﷺ) – নঈম সিদ্দিকী / নবীয়ে রহমত - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী ৫। নবিদের কাহিনি (১,২) - মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব ৬। আসহাবে রাসূলের জীবনকথা- ড. মুহাম্মদ আবদুল মা’বুদ / সাহাবায়ে কেরামের ঈমানদীপ্ত জীবন - ড. আব্দুর রহমান রাফাত পাশা ৭। সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী ৮। ইসলামের বুনিয়াদী শিক্ষা / হাকীকত সিরিজ - সাইয়েদ আবুল আ’লা ৯। ঈমান সবার আগে - মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মালেক ১০। আকীদা : ইসলামী আকীদা - ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর / ইসলামী আকীদা ও ভ্রান্ত মতবাদ - মাওলানা মুহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিন  ১১। ফিকহ : আহকা...

সুরা হিজর: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ২০

নামকরণ: এতে হিজর উপত্যকায় বসবাসকারী সম্প্রদায়ের আলোচনা এসেছে বিধায় এতে সুরা হিজর বলা হয়। হিজর উপত্যকাটি মদিনা ও শামের মাঝামাঝি অবস্থিত। এ সুরার শুধু প্রথম আয়াতটি তেরোতম পারায়, বাকি পূর্ণ সুরা চোদ্দতম পারায় অবস্থিত। এ সুরাটিও হরফে মুকাত্তায়াত দ্বারা শুরু হয়েছে। এর প্রথম আয়াতে কোরআনুল কারিমের প্রশংসা ও গুণ বর্ণনা করা হয়েছে। সুরাটিতে ইসলামের মৌলিক আকিদার বিষয়টি প্রমাণ করা হয়েছে। এই সুরাতে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ হয়েছে, নিম্নে তা তুলে ধলা হল : ১. কেয়ামতের দিন কাফেররা আজাবের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করে বলে উঠবে, হায়, আমরা যদি মুসলমান হতাম! কিন্তু সেদিন ঈমান ও ঈমান আনার কামনা কোনোটাই কাজে আসবে না।  ২. কোরআনের এক উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা এর হেফাজতের দায়িত্ব নিয়েছেন। পক্ষান্তরে অন্যান্য আসমানি কিতাব হেফাজতের দায়িত্ব সে সম্প্রদায়ের কাঁধেই ছিল, যার কারণে মানুষের হস্তক্ষেপ থেকে তা রেহাই পায়নি। কিন্তু বহু শতাব্দী অতিক্রান্ত হওয়ার পরও কোরআন সবধরনের পরিবর্তন-পরিবর্ধন ও বেশকম থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র ও নিরাপদ রয়েছে।  ৩. এ সুরার বহু আয়াতে আল্লাহ...

সুরা ইবরাহিম: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ১৯

হরফে মুকাত্তাঘাত দ্বারা সুরাটির সূচনা হয়েছে। হরফে মুকাত্তায়াতযুক্ত অন্যান্য সুবার ন্যায় এ সুরার শুরুতেও কোরআনুল কারিমের আলোচনা এসেছে। এ প্রথম আয়াতে কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার হেকমত ও মাকসাদ বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এ এমন এক কিতাব, যা আমি আপনার উপর অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি পরাক্রমশালী, প্রশংসনীয় সভার নির্দেশে মানুষদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। সুরা ইবরাহিমে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বর্ণনা করা হয়েছে, নিম্নে তা উল্লে করা হল :  ১. মৌলিক আকিদা তথা তাওহিদ, রিসালাত, পুনরুত্থান ও বিচার দিবসের উপর ঈমান আনয়ন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।  ২. কাফেরদের নিন্দা করা হয়েছে। তাদেরকে জাহান্নামের ধমক দেওয়া হয়েছে। আর মুমিনদের জন্য জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ৩.  রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে যে, আপনার সম্প্রদায় আপনার সাথে যেমন আচরণ করছে, পূর্ববর্তী নবীদের সাথেও এমন আচরণ করা হয়েছিল।  ৪. আল্লাহ তায়ালার নীতি ও ওয়াদা হচ্ছে, তিনি শোকর গুজার বান্দাদের নেয়ামত বৃদ্ধি করে দেন। আর অকৃতজ্ঞদের জন্য তার শাস্তি কঠোর।  ৫. ইবরাহিম আ. ...

সুরা রাদ: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ১৮

এতে তিনটি মৌলিক আকিদা—তাওহিদ, নবুওয়াত ও পুনরুত্থান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সুরার প্রথম আয়াতে কোরআনুল কারিমের সত্যতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। ভাববার বিষয় হল 'হরফে মুকাত্তায়াত' দ্বারা যেসব সুরার সূচনা হয়েছে, তার শুরুতে সাধারণত কোরআনুল কারিম সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়, যার মাধ্যমে বক্তব্যের সমর্থন হয় যে, যারা কোরআনকে মানবরচিত বলে দাবি করে এসব হরফের মাধ্যমে তাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়েছে। এ সুরায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করা হয়েছে, তা নিম্নে প্রদত্ত হল:  ১. সুরার শুরুতে আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্ব এবং তার একত্ববাদের দলিল করা হয়েছে।  ২. কেয়ামত দিবস, পুনরুত্থান ও বিচার দিবসের বিষয়টি প্রমাণ করা হয়েছে। ৩. মানুষের হেফাজতের জন্য আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতা নির্ধারণ করে রেখেছেন।  ৪.আল্লাহ তায়ালা কোনো জাতির প্রতি তার আচরণ পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা তাদের অবস্থার পরিবর্তন করে।  ৫. বাতিল ও বাতিলপন্থিদের পানির স্রোতধারায় তৈরি হওয়া স্ফীত ফেনারাশির সাথে তুলনা করা হয়েছে, যা সব জিনিসের উপর ছেয়ে যায়। কিন্তু পরিশেষে তা নিঃশেষ হয়ে যায়। আর হক ও হকপন্থি...

সুরা ইউসুফ: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ১৭.২

ইউসুফ আলাইহিস সালামের ঘটনা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হল। ঘটনা থেকে যেসব শিক্ষা ও উপদেশ পাওয়া যায় তা নিম্নে উল্লেখ করা হল : ১. কখনো কখনো মুসিবতের সুরতে নেয়ামত ও শাস্তি আসে।  ২. হিংসা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর রোগ। আপন ভাইদের মধ্যে তা সৃষ্টি হলে দুঃখজনক ঘটনার অবতারণা হতে পারে। ৩. সর্বাবস্থায়ই উন্নত চরিত্র, উত্তম গুণাবলি, সঠিক লালনপালনের ফল ভালো হয়ে থাকে। হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের লালনপালন হয়েছিল এক মহান পিতার হাতে, নবীবংশে। উত্তরাধিকারসূত্রে বাপ-দাদার থেকে তিনি মহৎ গুণাবলি লাভ করেছিলেন। ৪. সচ্চরিত্র, বিশ্বস্ততা ও দৃঢ়তা সবার জন্যই কল্যাণের উৎস।  ৫. বেগানা নারী-পুরুষের পরস্পর মেশামেশি ও নির্জনে একত্রে অবস্থান ফেতনার কারণ। এই কারণে ইসলাম (পরস্পর মাহরাম নয় এমন) নারী-পুরুষের নির্জনে অবস্থান হারাম ঘোষণা করেছে।  ৬. ঈমান বিপদে সহনশীলতা ও গুনাহমুক্ত থাকা সহজ করে। ৭.  কষ্টের সময় আল্লাহ তায়ালার দিকে প্রত্যাবর্তন করা।  ৮. প্রকৃত দায়ী অনেক কষ্ট-মুসিবতের মধ্যেও দাওয়াতের দায়িত্ব থেকে উদাসীন হয় না। ৯. চারিত্রিক পবিত্রতার প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ রাখা উচিত। ১০.ধৈর্যধারণের ফজিলত। ১১.ইউস...

সুরা ইউসুফ: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ১৭.১

এ সুরায় ইউসুফ আলাইহিস সালামের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। এজন্য সুরাটিকে ইউসুফ নামকরণ করা হয়েছে। কোরআনে বিভিন্ন নবীর ঘটনা বারবার উল্লেখ হয়েছে।  সব জায়গাতেই নতুন শব্দ, নতুন উপস্থাপনা, নতুন কোনো শিক্ষা, নতুন কোনো উপদেশ পাওয়া যায়। এই ঘটনাগুলো ছোট কলেবরে চমৎকারভাবে গোটা কোরআনে বিক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ হয়েছে। একত্র করা হলে পুরো ঘটনাটি বুঝে আসে। কিন্তু হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ঘটনা একাধিকবার বর্ণিত হয়নি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো ঘটনা সুরা ইউসুফে উল্লেখ হয়েছে। অন্যান্য সুরায় ইউসুফ আলাইহিস সালামের নাম এসেছে; কিন্তু তার ঘটনা উল্লেখ করা হয়নি। ইউসুফ আলাইহিস সালামের এ ঘটনাকে কোরআন নিজেই "আহসানুল কাসাস' (সর্বোত্তম ঘটনা) বলে উল্লেখ করেছে। কেননা এ ঘটনায় যে পরিমাণ শিক্ষণীয় নসিহত ও উপাদান রয়েছে, সম্ভবত একসাথে অন্য কোনো ঘটনায় তা নেই। হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ঘটনা  এক.  ইয়াকুব আলাইহিস সালামের বারো ছেলে ছিল। হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম তাদের মধ্যে অস্বাভাবিক সুন্দর ছিলেন। তার চেহারা ও চরিত্র—দুটোই সুন্দর ছিল। তিনি ও তার ভাই বিনয়ামিনের সবার ছোট হওয়াও এই ভালোবাসার একটি কারণ ছিল। এ...

সুরা হুদ: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ১৬

কোরআনের মহত্ত্ব বর্ণনার মাধ্যমে এ সুরা শুরু হয়েছে। বলা হয়েছে, স্বীয় আয়াত, অর্থ ও বিষয়ের দিক থেকে এই কোরআন (দলিল-প্রমাণ দ্বারা) মুহকাম  তথা সুন্দর কিতাব। এতে কোনো ত্রুটি নেই। কোনো ধরনের বৈপরীত্য নেই। মুহকাম হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হল, এমন এক সত্তা এ কিতাবের ব্যাখ্যা- বিশ্লেষণ করেছেন, যিনি হাকিম (প্রায়) ও খবির (সর্বজ্ঞাত)  এরপর তাওহিদের প্রতি আহ্বান করা হয়েছে। তাওহিদের প্রতি আহ্বানের পর গোটা বিশ্বজগতে ছড়িয়ে থাকা তাওহিদের দলিল-প্রমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। তিনিই আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু যারা তার দলিল-প্রমাণ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করে না, হঠকারিতাবশত যারা নিজেদের চোখে পট্টি বেঁধে রেখেছে, তারা তাওহিদ অস্বীকার করে থাকে। আল কোরআনের চ্যালেঞ্জ যারা কোরআনকে আল্লাহ তায়ালার কালাম বলে স্বীকার করে না সেই অস্বীকারকারীদের চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে যে, কোরআন যদি আসলেই মানবরচিত হতো তা হলে তোমরাও এর মতো দশটি সুরা বানিয়ে নিয়ে এসো। অস্বীকারকারীদের প্রতি তিন-তিনবার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়।  প্রথমবার সুরা ইসরাতে (আয়াত : ৮৮) কোরআনের মতো একটি পূর্ণ কিতাব আনার চ্যালেগ্ন করা হ...

সুরা ইউনুস: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ১৫

এ সুবায় ঈমানের মৌলিক বিষয় আকিদা-বিশ্বাস এবং বিশেষ করে কোরআনুল কারিমের আলোচনা করা হয়েছে।  বলা হয়েছে, খাতামুল মুরসালিন হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত ও রিসালাত আশ্চর্য কিছু নয়। কেননা তাকেই প্রথম নবী হিসেবে পাঠানো হয়নি; বরং প্রত্যেক জাতিতে কোনো-না-কোনো নবী-রাসুল এসেছেন।  এরপর রুবুবিয়্যা , উলুহিয়্যাত ও উবুদিয়্যাতের বাস্তবতা এবং স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যকার সম্পর্কের ভিত্তিমূল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যিনি প্রতিপালক এবং স্রষ্টা, তিনিই ইবাদতের উপযুক্ত। বিশ্বজগতের সমস্ত ব্যবস্থাপনা তার রুবুবিয়্যাত ও কুদরতের সাক্ষ্য বহন করে। বিষয়গতের এই ব্যবস্থাপনা এবং তার কুদরতের দলিল-প্রমাণ নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনার ক্ষেত্রে মানুষ দু-দলে বিভক্ত। মিথ্যাপ্রতিপন্ন কারী ও সত্য সাব্যস্তকারী । মিথ্যাপ্রতিপন্নকারীদের ঠিকানা হচ্ছে জাহান্নাম। আর সত্য সাব্যস্তকারীদের ঠিকানা  হচ্ছে জান্নাত।  এরপর এ সুরায়  মুশরিকদের মূর্তিপূজা এবং একত্ববাদের দলিল উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বড় ধরনের বিপদের সময় মুশরিকরাও মিথ্যা উপাস্যদের সে দিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আ...

সুরা তাওবা: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ১৪

প্রেক্ষাপট সুরা তাওবা: এটি মাদানি সুরা। আয়াতসংখ্যা : ১২৯। রুকুসংখ্যা : ১৬ নবম হিজরিতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রোমকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য বের হয়েছিলেন তখন সুরাটি অবতীর্ণ হয়। এই যুদ্ধকে গাজওয়ানে তাবুক (তাবুকের যুদ্ধ)-ও বলা হয়। তখন ভীষণ গরম ছিল। সফর ছিল অনেক দীর্ঘ। মদিনাবাসীদের জীবনধারণের প্রধান মাধ্যম—ফলফলাদিও তখন পাকা শুরু হয়েছিল। শত্রুবাহিনীও ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী, তৎকালীন বিশ্বে যারা নিজেদেরকে পরাশক্তি মনে করত। মোটকথা, এ যুদ্ধ মুমিনদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জের বিষয় ছিল। এটি তাদের ইখলাস ও সত্যবাদিতার পরীক্ষা ছিল। এ যুদ্ধের মাধ্যমে মুমিন ও মুনাফিকদের মাঝে পার্থক্য তৈরি হয়ে যায়।  সুরা তাওবার মৌলিক উদ্দেশ্য দুটি। ১. মুশরিক ও আহলে কিতাবদের সাথে জিহাদের বিধান বর্ণনা করা।  ২. তাবুকযুদ্ধের মাধ্যমে মুমিন ও মুনাফিকদের মাঝে পার্থক্যরেখা টেনে দেওয়া ৷   এ সুরায়  আহলে কিতাবদের সাথে যুদ্ধের অনুমতি, মুনাফিকদের আলামত, তাদের অন্তরের অবস্থা সম্পর্কে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। সর্বসম্মুখে তাদেরকে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করা হয়েছে, এ কারণে এ সুরাকে (অপদস্থকারী সুরা)...

তোমরা নিজেদের প্রতি অবিচার করছ।

তোমাদের যাদের বয়স বিশের দশকে, তোমাদের কতজন বন্ধু মারা গিয়েছে, তোমরা রয়ে গিয়েছ। তোমাদের যাদের বয়স ত্রিশের দশকে, সম্প্রতি তোমরা তারুণ্য অতিক্রম করেছ, আফসোস হয় কি? তোমাদের যাদের বয়স চল্লিশের দশকে, যৌবন কাল শেষ হয়ে গিয়েছে, তোমরা এখন খেল তামাশায় পড়ে আছো। তোমাদের যাদের বয়স পঞ্চাশের দশকে, একশর অর্ধেক বয়স হয়ে গিয়েছে, তবু তোমরা নিজেদের সাথে ইনসাফ করলে না।  তোমাদের যাদের বয়স ষাটের দশকে, তোমরা তো মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত হয়েছ, তোমরা কি এখন হাসি-ঠাট্টায় আর খেলাধুলায় মজে আছো। তোমরা নিজেদের প্রতি বড়ো অবিচার করছ।  বাণীতেঃ ইমাম ইবন রজব রহি.  তথ্যসুত্রঃ https://www.youtube.com/watch?v=ZrzHG4wKmeY মূলঃ Islamography

কুরআন নিয়ে স্বাপ্নিক যাত্রা । কুরআন থেকে নেওয়া জীবনের পাঠ

একটা জীবন যদি কুরআনের রঙে সাজানো যায়, যদি জীবনের সকল অনুষঙ্গের উপাদান উঠে আসছে কুরআন থেকে - কেমন হবে? কেমন হবে যদি কুরআন সেই অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতন হয়ে ওঠে। দুঃখের দিনে যে কাঁধে হাত রেখে বলে-  ভয় পেয়ো না, সাথে আছি? কুরআন কীভাবে  আমাদের জীবনে আলো ছড়ায় । কীভাবে  তার মণি-মুক্তোর আকর থেকে আমরা কুরিয়ে আনবো আমাদের জীবনের রসদ। তার বাতলে দেয়া পথ থেকে কীভাবে গুছিয়ে নিবো অনন্ত জীবনের পাথেয়। জীবনের সেই অনুষঙ্গগুলোকে কুরআনের আয়নাতে তুলে ধরার একটা স্বপ্নময় প্রচেষ্টার নাম - কুরআন থেকে নেয়া জীবনের পাঠ (২০২৩), লেখক আরিফ আজাদ।  বাণীতেঃ আরিফ আজাদ তথ্যসুত্রঃ https://www.youtube.com/watch?v=dtc0c-OIz9I মূলঃ Arif Azad 

সুরা আনফাল: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ১৩

নামকরণ যেহেতু এ সুরাতে আনফাল তথা যুদ্ধলব্ধ সম্পদের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে, তাই এর নাম আনফাল। সুরাটি দ্বিতীয় হিজরি সনে মদিনায় নাজিল হয়েছে।  অন্যান্য মাদানি সুরার ন্যায় এতে শরয়ি বিধিবিধান বর্ণনার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সুরাটি ইসলামি ইতিহাসের সকল যুদ্ধের ভিত্তি বদরযুদ্ধের পর অবতীর্ণ হয়েছে। যুদ্ধে চর্ম চোখে আল্লাহ তায়ালার সাহায্য পরিলক্ষিত হয়েছে। একটি ছোট্ট বাহিনী বহুগুণ বহু বাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছে। এরপর প্রকৃত মুমিনের পাঁচটি গুনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তা হচ্ছে- ১. আল্লাহর স্মরণ হলে তাদের হৃদয় ভীত হওয়া। ২. কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ঈমান বৃদ্ধি পাওয়া। ৩. দয়াময় আল্লাহর উপর ভরসা করা। ৪. নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়া। ৫. আল্লাহর দেওয়া রিজিক হতে তার পর্থে খরচ করা।  সুরা আনফালের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা এতে মুমিনদের ছয়বার (হে মুমিনগণ)-এর মতো ভালোবাসামিশ্রিত বাক্য দ্বারা সম্বোধন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি এমন মূলনীতি বলে দিয়েছেন, যার উপর আমল করে জিহাদের ময়দানে তারা সফল হতে পারে।...

সুরা আরাফ: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ১২

আল্লাহর একটি নেয়ামত এই সুরায় আল্লাহর একটি নেয়ামতের প্রতি মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে যে, তিনি গোটা মানবজাতিকে একই পিতা আদম আলাইহিস সালাম থেকে সৃষ্টি করেছেন, যাকে আল্লাহ তায়ালা নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন, নিজে তার মধ্যে রুহ ফুঁকেছেন এবং তাকে সিজদা করার জন্য ফেরেশতাদের নির্দেশ নিয়েছে যেন সৃষ্টির ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে যে সম্মান প্রদান করেছেন, সেট বুঝতে পারে, একে অপরের সহযোগী হয় এবং একথা স্মরণ রাখে যে, মান ক্ষেত্রে তারা একে অপরের ভাই। এর সাথে সাথে শয়তানের চক্রান্ত থেকে বেঁচে থাকারও নির্দেশ দিয়েছেন।   সুরা আরাফের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য সুরা আরাফের এক উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এ সুরায় আল্লাহ তায়া ধারাবাহিকভাবে চারবার 'ইয়া বানি আদাম' বলে মানুষকে সম্বোধন করেছেন। সুরা আরাফ ব্যতীত কোনো সুরায় এভাবে চারবার মানুষকে সম্বোধন করা হয়নি। দশম রুকুতে ২৬ নং আয়াতে  প্রথম সম্বোধন করা হয়েছে। তারপর দশম রুকুর ২৭নং আয়াতে দ্বিতীয়বার, দশম রুকুর ৩১ নং আয়াতে তৃতীয়বার এবং এগারোতম রুকুর ৩নং আয়াতে চতুর্থবার সম্বোধন করা হয়েছে। এ সুরায় শয়তানের ওয়াসওয়াসা ও কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচ...

সুরা আনআম: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ১১

এ সুরায় তিনটি মৌলিক আকিদা তাওহীদ,  রিসালাত,  আখেরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এই সুরার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এতে মুশরিকদের বিশ্বাস খণ্ডন করার জন্য দুটি পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে। আর তা হল 'তাকরির' ও 'তালকিন', যা অন্যান্য সুরায় খুব কমই পরিলক্ষিত হয়।  প্রথমত তাকরির দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, আল্লাহর একত্ববাদ, তার ক্ষমতা, বড়ত্ব ও মহত্ত্বের দলিল প্রমাণগুলো এমন স্বীকৃত মূলনীতির আলোকে পেশ করা যে, কোনো সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মানুষ তা অস্বীকার করতে পারে না।  আর তালকিনের সারমর্ম হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা স্বীয় উম্মি রাসুলকে এমন দলিল শিখিয়ে দেন যে, বিরোধীরা যার কোনো জবাব খুঁজে পায় না। তারা লজ্জিত হয়ে যায় এবং মাথা নত করতে বাধ্য হয়। সাধারণত প্রশ্নোত্তর-রীতিতে এ পন্থার প্রয়োগ করা হয় । এ সুরায় উল্লেখিত বিষয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিষয় নিম্নরূপ:  ১.  মুমিনের দৃষ্টাস্ত হচ্ছে জীবিত ব্যক্তির মতো, যাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে নূর দেওয়া হয়েছে। আর কাফেরের দৃষ্টান্ত হল মৃত ব্যক্তির মতো, যে অন্ধকারে নিমজ্জিত। ২. ঈমান ও হেদায়েত একমাত্র আল্লাহ তায়ালার হাতে। তিনি যাকে চান তাকে তা দান ...