এতে তিনটি মৌলিক আকিদা—তাওহিদ, নবুওয়াত ও পুনরুত্থান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সুরার প্রথম আয়াতে কোরআনুল কারিমের সত্যতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
ভাববার বিষয় হল 'হরফে মুকাত্তায়াত' দ্বারা যেসব সুরার সূচনা হয়েছে, তার শুরুতে সাধারণত কোরআনুল কারিম সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়, যার মাধ্যমে বক্তব্যের সমর্থন হয় যে, যারা কোরআনকে মানবরচিত বলে দাবি করে এসব হরফের মাধ্যমে তাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ সুরায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করা হয়েছে, তা নিম্নে প্রদত্ত হল:
১. সুরার শুরুতে আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্ব এবং তার একত্ববাদের দলিল করা হয়েছে।
২. কেয়ামত দিবস, পুনরুত্থান ও বিচার দিবসের বিষয়টি প্রমাণ করা হয়েছে।
৩. মানুষের হেফাজতের জন্য আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতা নির্ধারণ করে রেখেছেন।
৪.আল্লাহ তায়ালা কোনো জাতির প্রতি তার আচরণ পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা তাদের অবস্থার পরিবর্তন করে।
৫. বাতিল ও বাতিলপন্থিদের পানির স্রোতধারায় তৈরি হওয়া স্ফীত ফেনারাশির সাথে তুলনা করা হয়েছে, যা সব জিনিসের উপর ছেয়ে যায়। কিন্তু পরিশেষে তা নিঃশেষ হয়ে যায়। আর হক ও হকপন্থিদের সোনারুপার সাথে তুলনা করা। হয়েছে, যা জমিনে স্থির থাকে। এরপর আগুনের তাপে তা নিখাদ করা হয়। তার ময়লা দূর করা হয়।
৬. মুত্তাকি ও আল্লাহর বিধান পালনকারীদের কিছু গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো: তারা আল্লাহর সাথে কৃতঅঙ্গীকার পুরা করে, আত্মীয়দের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে, স্বীয় প্রতিপালককে ভয় করে, পরকালের হিসাবকে ভয় করে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সবর করে, নামাজ কায়েম করে, আল্লাহপ্রদত্ত সম্পদ থেকে প্রকাশ্যে ও গোপনে খরচ করে, মন্দের জবাব ভালোর মাধ্যমে দেয়।
৭. নবীরাও অন্যান্য মানুষের মতো মানুষ হয়ে থাকেন। তাদের স্ত্রী-সন্তান থাকে। তারা যে মুজিজা প্রদর্শন করেন, তা তাদের ব্যক্তিগত যোগ্যতা নয়; বরং আল্লাহর হুকুমেই তা করে থাকেন।
৮. সুরার শেষাংশে আল্লাহ নিজে নবার নবুওয়াত ও রিসালাতের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর বলেছেন, এমনিভাবে হঠকারিতামুক্ত আহলে কিতাবরাও এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়ে থাকে।
বইঃ খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা)
লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আসলাম শেখোপুরী রহমাতুল্লাহ
অনুবাদঃ মুজাহিদুল মাইমুন
পৃষ্ঠাঃ ১৩৭-১৩৯
Comments
Post a Comment