Skip to main content

সুরা নুর: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ২৯

 নুর (আলোকিত করে দেয়।) শব্দ ব্যবহৃত হওয়ায় একে সুরা নুর বলা হয়। এ সুরায় এমন আদব- শিষ্টাচার ও বিধি-বিধান বর্ণনা করা হয়েছে, যা সমাজ-জীবনকে নুরানি ও এর অধিকাংশ বিধান সুরায় যেসব বিধান উল্লেখ করেছেন, নিয়ে তা উল্লেখ করা হল :

প্রথম ও দ্বিতীয় বিধান ব্যভিচারের শাস্তি সম্পর্কে। ব্যভিচারী নারী-পুরুষ যদি অবিবাহিত হয় তা হলে তাদের একশ বেত্রাঘাত করা হবে। আর যদি তারা বিবাহিত হয় তা হলে তাদেরকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করা। 

তৃতীয় বিধানটি অপবাদ সংক্রান্ত। যদি কেউ কোনো বিবেকবান প্রাপ্তবয়স্ক পবিত্র চরিত্রের অধিকারী পুরুষ কিংবা নারীর উপর ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করে তা হলে তাকে বেত্রাঘাত করা হবে। 
চতুর্থ বিধানটি স্বামী-স্ত্রীর জন্য। স্বামী যদি স্ত্রীর উপর অপবাদ আরোপ করে; এবং তার নিকট যদি চারজন সাক্ষী না থাকে তা হলে একে অপরের উপর লানত করবে। এরপর তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো হবে।

পঞ্চম বিধানটিতে ইফকের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। ইফক অর্থ মিথ্যা অপবাদ। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার উপর কিছু মুনাফিক যখন অপবাদ আরোপ করে, তখন এ বিধান অবতীর্ণ হয়। এটা এক জঘন্য অপবাদ ছিল, সব ব্যক্তি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র স্ত্রী, মুসলমানদের মায়ের উপর না আরোপ করা হয়েছিল। আল্লাহ তায়ালা দশ আয়াতে এসব আয়াতে মুনাফিকদের নিন্দা করা হয়। মুসলমানদের সতর্ক করা হয় ভবিষ্যতে কখনো যেন তারা এ ধরনের অপবাদে কোনোভাবে অংশগ্রহণ না করে।

ষষ্ঠ বিধানটি ঘরে প্রবেশের অনুনতি ও আদব সংক্রান্ত। বলা হয়েছে, কারো ঘরে। অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করবে না। প্রবেশের পূর্বে সালাম দেবে।

সপ্তম বিধানটি মুমিন নারীদের সম্পর্কে। বলা হয়েছে, তারা যেন নিজেদের অবনত রাখে। লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। নারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন কারো সামনে নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, শুধু মাত্র মাহরাম ব্যতীত।

অষ্টম বিধান দেওয়া হয়েছে, স্বাধীন নারী-পুরুষ ও গোলামদের মধ্যে যারা বৈবাহিক অধিকার আদায়ে সক্ষম তাদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া। এ ছাড়াও বাদিদের বিয়ে দেওয়ার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে।
 
নবম বিধান দেওয়া হয়েছে বাদি ও গোলামদের ব্যাপারে। ইসলাম আসার পূর্বেই যুদ্ধবন্দিদের গোলাম বানানোর প্রচলন ছিল। গোলাম বাদিদের উপর সীমাহীন জুলুন করা হতো। ইসলাম এ প্রথাতে বহু পরিবর্তন এনেছে। গোলাম-বাদিদের উপর নির্যাতনের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যান্য মানুষের মতো তাদের অধিকার সাব্যস্ত করেছে। তাদের আজাদ করে দেওয়াকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের কারণ বলে উল্লেখ করেছে। 

দশম বিধান,  কিছু অসাধু লোভী ব্যক্তি বাঁদিদের টাকার বিনিময়ে ব্যভিচার করতে বাধ্য করত। এটাকে তারা পেশা বানিয়ে নিয়েছিল। আয়াতে এমনটি করতে নিষেধ করে দেওয়া হয়। আয়াতের উদ্দেশ্য এটা নয় যে, বাঁদিরা যদি স্বেচ্ছায় এমনটা করতে আগ্রহী হয় তা হলে তা জায়েজ হয়ে যাবে; বরং স্বেচ্ছা-অনিচ্ছা উভয় ক্ষেত্রেই তা হারাম। আয়াতের উদ্দেশ্য হচ্ছে বাঁদি হওয়া সত্ত্বেও সে যখন এই কাজের প্রতি ঘৃণাবোধ করে তা হলে তোমাদের স্বাধীনদের তো আরো আগে ঘৃণা পোষণ করা উচিত ছিল।

দশটি বিধান ও আদব উল্লেখ করার পর  তিনটি উদাহরণ উল্লেখ করা হয়েছে। 

প্রথম উদাহরণ মুমিনদের জন্য। দ্বিতীয় ও তৃতীয় উদাহরণ বাতিলপন্থিদের উদ্দেশ্যে। প্রথম উদাহরণে মুমিনদের অন্তরের নুরকে প্রদীপের সাথে তুলনা করা হয়েছে। যে প্রদীপটি একটি কাঁচপাত্রে স্থাপিত। কাঁচপাত্রটি উজ্জ্বল নক্ষত্রসদৃশ্য। তাতে বরকতপূর্ণ যায়তুন বৃক্ষের তেল প্রজ্বলিত হয়, যা পূর্বমুখীও নয় এবং পশ্চিমমুখীও নয়। আগুন স্পর্শ না করলেও তার তেল যেন আলোকিত হয়।

বাতিলপন্থিদের দুটি দৃষ্টান্ত পেশ করা হয়েছে। প্রথম দৃষ্টান্তে তাদের আমলের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, যারা কাফের, তাদের কাজ মরুভূমির মরীচিকার ন্যায়, । পিপাসার্ত ব্যক্তি যাকে পানি মনে করে। সে যখন তার কাছে যায় তখন কিছুই পায় না; বরং সেখানে আল্লাহকে পায়। অতঃপর আল্লাহ তার হিসাব চুকিয়ে দেন। আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।

দ্বিতীয় দৃষ্টান্তে আখেরাতের প্রতি তাদের আকিদা-বিশ্বাসের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, (তাদের কার্যাবলি) প্রমত্ত সাগরের বুকে গভীর অন্ধকারের ন্যায়, তরঙ্গের উপর তরঙ্গ যাকে উদ্বেলিত করে, যার উপর ঘন কালো মেঘ রয়েছে। একের উপর এক অন্ধকার। হাত বের করলে তাও দেখতে পাওয়া যায় না। আসলে আল্লাহ যাকে জ্যোতি দেন না তার কোনো জ্যোতিই নেই। 

হক ও বাতিলপন্থিদের উদাহরণ বর্ণনা করার পর বিশ্বজগতে দিনরাতের পরিবর্তন বৃষ্টিবর্ষণ, আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি, পাখির উড্ডয়ন এবং বিভিন্ন জীবজন্ত সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর একত্ববাদের যে দলিল-প্রমাণ নিহিত রয়েছে, সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। 

তাওহিদের দলিল উল্লেখ করার পর মুমিন ও মুনাফিকদের সম্পর্কে তুলনামূলক পর্যালোচনা করা হয়েছে। 
এরপর আরও তিনটি বিধান দেওয়া হয়েছে।

প্রথম বিধান: ছোট বাচ্চা এবং গৃহে অবস্থানকারীদের সম্পর্কে। তারা যেন ফজরের পূর্বে, দ্বিপ্রহরের সময় এবং ইশার নামাজের পর শয়নকক্ষে প্রবেশের ক্ষেত্রে অনুমতি নিয়ে নেয়। কেননা এ তিন সময় মানুষ সাধারণত ঘুমের পোশাক পরিধান করে থাকে।

দ্বিতীয় বিধান: সন্তান যখন প্রাপ্তবয়স্ক হবে তখন অন্যান্য প্রাপ্তবয়স্কের ন্যায় ঘরে প্রবেশের ক্ষেত্রে তাকে অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। যেভাবে সম্ভব— কাশি বা পায়ের আওয়াজ প্রভৃতির মাধ্যমে অনুমতি গ্রহণ করা যেতে পারে।

তৃতীয় বিধান: বৃদ্ধ নারী—যাদের বিয়ের বয়স অতিক্রান্ত হয়ে গেছে, তারা যদি পর্দার ক্ষেত্রে বাহ্যিক কাপড় খুলে রাখে তা হলে এতে কোনো সমস্যা নেই। পূর্বের দশটি বিধানের সাথে এ তিনটি বিধান মিলালে মোট ১৩টি বিধান ও আদবের কথা জানা যায়।

চোদ্দতম আদব, ঘরে প্রবেশের সময় তোমরা সালাম দেবে। 

পনেরোতম আদব, যখন তোমরা পরামর্শ প্রভৃতির জন্য কোনো মজলিসে বসবে তখন অনুমতি ব্যতীত মজলিস থেকে উঠবে না।

ষোলতম আদব, তোমরা যেভাবে পরস্পরকে ডেকে থাকো, আল্লাহর রাসুলকে সেভাবে ডেকো না।
সুরার শেষে বলা হয়েছে, বিশ্বজগৎ আল্লাহ তায়ালার ক্ষমতা এবং তার জ্ঞানের অধীন। আল্লাহ সবার অবস্থা ও আমল সম্পর্কে অবগত। কেয়ামতের দিন সবাইকে তাদের আমলের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করবেন।

বইঃ খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) 
লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আসলাম শেখোপুরী রহমাতুল্লাহ
অনুবাদঃ মুজাহিদুল মাইমুন
পৃষ্ঠাঃ ১৮৩-১৮৯

Comments

Popular posts from this blog

অবশ্যপাঠ্য পঞ্চাশটি ইসলামিক বই

 ১। আল কুরআনের সহজ সরল বাংলা অনুবাদ - হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ - আল কুরআন একাডেমী লন্ডন ২। তাফসীর : তাওযীহুল কুরআন - আল্লামা তাকী উসমানী / তাফহীমুল কুরআন - সাইয়েদ আবুল আ’লা / আহসানুল বায়ান - আল্লামা হাফিয সালাহুদ্দিন ইউসুফ / মাআরেফুল কুরআন - মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ শফী ৩।হাদীস : রিয়াদুস সালেহীন - ইমাম মুহিউদ্দীন ইয়াহইয়া আন-নববী ৪। সীরাত : সীরাহ - রেইনড্রপস / আর রাহীকুল মাখতুম - আল্লামা সফিউর রহমান মোবারকপুরী / মানবতার বন্ধু মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ (ﷺ) – নঈম সিদ্দিকী / নবীয়ে রহমত - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী ৫। নবিদের কাহিনি (১,২) - মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব ৬। আসহাবে রাসূলের জীবনকথা- ড. মুহাম্মদ আবদুল মা’বুদ / সাহাবায়ে কেরামের ঈমানদীপ্ত জীবন - ড. আব্দুর রহমান রাফাত পাশা ৭। সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী ৮। ইসলামের বুনিয়াদী শিক্ষা / হাকীকত সিরিজ - সাইয়েদ আবুল আ’লা ৯। ঈমান সবার আগে - মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মালেক ১০। আকীদা : ইসলামী আকীদা - ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর / ইসলামী আকীদা ও ভ্রান্ত মতবাদ - মাওলানা মুহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিন  ১১। ফিকহ : আহকা...

কৃতজ্ঞতা: ছোট ছোট পরিবর্তন ৩

আমাদের দ্বীনে একটা চমৎকার ব্যাপার হলো  বিভিন্নভাবে আমরা আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি।  আমরা মন থেকে আলহামদুলিল্লাহ বলার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, আবার আমরা আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতগুলো আল্লাহ খুশি হন করে এমন কাজে ব্যবহারের মাধ্যমেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, যেমন আল্লাহ আমাদের দুটি চোখ দিয়েছেন, আমরা পবিত্র কোরআন পাঠ করার মাধ্যমে এবং চোখ দিয়ে খারাপ কিছু দেখা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে  কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি। আল্লাহ যাদেরকে ভালো লেখার হাত দিয়েছেন, তারা সবসময় ভালো কথা লিখে লেখালেখির মাধ্যমে দ্বীনের খেদমত করে, মানুষের খেদমত করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি। যাদের অর্থ সম্পদ অনেক রয়েছে তারা বেশি বেশি দান সদকা করতে পারি, যার যেই বিষয়ে দক্ষতা সেই দক্ষতা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজে লাগিয়ে আল্লাহর সেই নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, কিছুক্ষণ ভেবে দেখুন আপনি কোন কাজটিতে এক্সপার্ট, এবার ভেবে দেখুন সেই দক্ষতা কিভাবে আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যবহার করতে পারেন। আল হামদুলিল্লাহ, সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি আপনাকে তার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়ার পথ দেখিয়ে দিয়...

বাংলাদেশে ইসলামী দাওয়াহ এবং কমিউনিটি ভিত্তিক সংস্থাসমূহ

বাংলাদেশে ইসলামী দাওয়াহ এবং কমিউনিটি ভিত্তিক সংস্থাসমূহ সংস্থার নাম ফেসবুক পেইজ এলাকা Dhaka University Dawah Circle https://facebook.com/dudcbd ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় Muslim Youth Noakhali https://www.facebook.com/MuslimYouthNoakhali নোয়াখালী জুলাইয়ের কাফেলা https://www.facebook.com/profile.php?id=61567169805213 ঢাকা উদ্দীপ্ত তরুণ সংঘ https://www.facebook.com/profile.php?id=61565409526695 টঙ্গী, গাজীপুর বিহান https://www.facebook.com/profile.php?id=61560610930267 চাঁদপুর ...

আঘাত না পেলে বিজয়ের আনন্দ কখনই উপভোগ করা যায় না।

ধৈর্য ধরো বাবা। ব্যথা সবসময় ক্ষণস্থায়ী। আঘাত না পেলে বিজয়ের আনন্দ কখনই উপভোগ করা যায় না। কষ্ট পেতে হয় বলেই বিজয়ের আনন্দ, দীর্ঘস্থায়ী হয়। যদি ব্যথায় স্বর্গসুখ না পাওয়া যেত। তাহলে "আল্লাহ" কেন তার প্রিয় বান্দাকে সবচেয়ে বেশি ব্যথা দিবেন? ব্যথা হচ্ছে আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা। বাণীতেঃ ইবনে আরাবী তথ্যসুত্রঃ https://www.facebook.com/watch/?v=1015461659413270 মূলঃ  দিরিলিস আরতুগ্রুল সিরিজ (তুরস্ক)

জুলাই আন্দোলন পরবর্তী ইসলামী ইভেন্টসমূহ (আগস্ট ২০২৪ - ডিসেম্বর ২০২৪)

জুলাই আন্দোলন পরবর্তী ইসলামী ইভেন্টসমূহ ইভেন্টের নাম তারিখ স্থান আয়োজক ইসলামিক কনফারেন্স ২০২৪ ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়াম JU Society of Islamic Knowledge Seekers প্রতিবাদী জনসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ শহীদ চত্ত্বর, পাঁচ রাস্তার মোড়, থানাপাড়া, কুষ্টিয়া কুষ্টিয়া জেলার সর্বস্তরের মুসলিম জনসাধারণ প্রতিবাদী জনসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ কাচারী বাজার, রংপুর সাধারণ মুসলিম সমাজ, রংপুর উত্তরার সাধারণ ছাত্র জনতার আয়োজ...

সুরা নিসা: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ৮

নামকরণ: সুরা নিসার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ চতুর্থ পারায় পড়েছে। এই সুরাকে 'বড় সুরা নিসা' বলা হয়। আর ২৮ পারার সুরা তালাককে 'ছোট সুরা নিসা' বলা হয়। এ সুরায় যেহেতু নারীদের বিধান বেশি বর্ণিত হয়েছে, তাই এর নামকরণ করা হয়েছে সুরা নিসা। এ সুরার যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও বিধান চতুর্থ পারায় এসেছে, তা হল : ১. বালেগ হলে এতিমদের অর্থ-সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া।  ২.এতিম ছেলে-মেয়ে উভয়ের সম্পদের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য।  ৩. একসঙ্গে চারজন নারীকে বিয়ে করার সুযোগ রয়েছে। তবে শর্ত হচ্ছে স্বামীর তাদের অধিকার আদায়ে সক্ষম হতে হবে। তাদের মাঝে ইনসাফসম্মত আচরণ করতে হবে। স্বামী যদি এমনটি করতে না পারে, তা হলে একজন স্ত্রী নিয়েই সম্ভষ্ট থাকতে হবে। ৪. একাধিক স্ত্রীর প্রচলন ইসলামের পূর্বেও ছিল। তবে তার কোনো সংখ্যা নির্দিষ্ট ছিল না। তারা স্ত্রীর বৈবাহিক ও জীবনযাপনের অধিকারও আদায় করত না।  এক্ষেত্রে ইসলাম হক আদায় ফরজ সাব্যস্ত করেছে।  ৫. ইসলামের পূর্বে নারীদের মিরাস দেওয়া হতো না। আরবদের প্রবাদ ছিল আমরা এমন মানুষকে কেন সম্পদ দেব, যারা ঘোড়ায় সওয়ার হতে পারে না, তরবারি বহন করতে পারে না, দুশমনের মো...

The Muslim Minds: বাঙালি মুসলিম আত্মপরিচয়ের সন্ধানের নোট (২য় পর্ব)

  সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকার: মিডিয়া ন্যারেটিভে সেকুলার আধিপত্য - ১৯৭১ এ ভাষাভিত্তিক বিভাজনের ফলে ইসলামিস্টরা পিছিয়ে পড়েছে। কারণ মাদ্রাসার একাডেমিক ভাষা ছিলো উর্দু কিন্তু স্বাধীনতার পর এদেশ উর্ধু নিষিদ্ধ করা হয়। - বাংলা ভুখণ্ডে ২ বার ভাষা নিষিদ্ধ হয়েছে ● ফারসি, ব্রিটিশ আমলে ● উর্দু, বাংলাদেশে। - বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ভাষার বিপরীতে মুসলিম শাসকরাই তৈরি করেছিলেন কারণ আর্য অর্থাৎ উঁচু হিন্দুদের ভাষা ছিল সংস্কৃত তার বিপরীতে এই অঞ্চলের আদিবাসী অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, নিগ্রো, অনার্যর তৎকালীন ভাষা ছিল অপরিণত বাংলা। যেটা ধীরে ধীরে পরিপূর্ণ ভাষায় রূপান্তরিত হয় মুসলিম শাসকদের আমলে। - মিডিয়া সংকট ইস্রা*য়েলের জাতির পিতা দাভিদ বেন গুরিয়ন ছিলেন একজন সম্পাদক তাই উনি সঠিকভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়াতে মিডিয়া ব্যবহার করতে পেরেছিলেন। খেলাফত পতন হয়েছে মিডিয়ার মাধ্যমে ইয়াং তুর্করা আব্দুল হামিদ সানির পতন ঘটেছিল যারা মিডিয়া দ্বারা প্রভাবিত ছিল। - বক্তার মতে আমাদের প্রধান শত্রুকে চিহ্নিত করতে হবে আর তা হচ্ছে মিডিয়া। আমরা মিডিয়াকে আমার মূল প্রতিদ্বন্দী মনে করি না দেখেই আমরা আমাদের মূল সমস্যা নির্ধারণ করতে পারি না এবং আমাদ...

সালাহ: ছোট ছোট পরিবর্তন ৪

আমরা সারাদিন যে কাজগুলো করি এরমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সালাত, নামায পড়া। সময় মতন নামায পড়া এটা আমাদের গোটা প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট। আপনার জীবনে অনেক অশান্তি? সময় মতন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ুন, আপনার জীবনকে উদ্দেশ্যহীন মনে হয়? সময় মতন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ুন। সমাজে অনিয়ম, অনেক অন্যায় অনাচার, সময় মতন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ুন। কত মানুষ দাঁড়ি টুপি রেখে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পরেও ঘুষ খাচ্ছে, দুর্নীতি করছে, আপনি সময় মতন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ুন। নামায পড়েও মনে শান্তি হচ্ছে না, সময় মতন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়তে থাকুন। একদিন পরিবর্তন আসবেই, একদিন আপনার অন্তর খুলে যাবে, বিষণ্ণতা কাটিয়ে উঠে আপনি অন্তরে আনন্দ অনুভব করবেন। বর্তমান মুসলিম উম্মতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, প্রতিটি মুসলিম ওয়াক্ত নিয়মিত নামায পড়ছে না। যেই উম্মতের বেশির ভাগ মানুষ প্রতিদিন কোনো না কোনো ওয়াক্তের নামায কাযা করছে, সেই উম্মত কিভাবে আশা করে তাদের মধ্যে থেকে দুর্নীতি সরে যাবে, তারা প্রশান্তি পাবে, তারা সাফল্য পাবে, তারা বিশ্বজুড়ে মর্যাদা পাবে? আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত একটি জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না , যতক্ষণ পর্যন্তও...

নিয়মিত সাদাকাহ: ছোট ছোট পরিবর্তন ২

আপনি আজকে এক কোটি টাকা পেলে কি করতেন? যখনই কাউকে এমন প্রশ্ন করা হয়, সব মানুষই কাল্পনিক এ টাকার একটা অংশ রেখে দেন মহৎ কোনো উদ্দেশ্যে দান করে দেওয়ার জন্য। এক মুহুর্তের জন্য সত্যি সত্যি চিন্তা করে দেখুন তো, যদি আজই আপনি আকস্মিকভাবে পুরোপুরি  হালাল উপায়ে এককোটি টাকা পেয়ে যেতেন, আপনি এর কতটুকু দান করে দিতেন? আশ্চর্য বিষয় কি জানেন? আপনি যে পরিমাণই নির্ধারণ করেন না কেন? সে পরিমাণ দান করার যে পুরস্কার  আল্লাহ আপনাকে দিতেন, সেই পুরস্কারটা আপনি আজই পেতে পারেন, সেই বিশাল পরিমাণ টাকা না থাকা সত্ত্বেও। আমাদের দ্বীনে দান সদকার ক্ষেত্রে কে কত টাকা দিলো সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং কে তার সম্পদের কতটুকু অংশ দান করলো সেটাই মুখ্য। অর্থাৎ আপনার ১ কোটি টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা দান করলে যে সওয়াব পেতেন, আপনার ১০০০ টাকা থাকলে সেখান থেকে ১০০ টাকা দান করে দিলেও সেই সওয়াব পেতে পারেন। আমি এখন আর্থিক সমস্যায় আছি, হাতে একটু টাকা পয়সা আসলেই দান করে দিবো। অথবা আমি স্টুডেন্ট মানুষ পড়াশোনা শেষ করে আয় করা শুরু করলেই দান করে দিবো। এমনভাবে চিন্তা না করে আসুন যে যেই অবস্থায় আছি অল্প অল্প করে নিয়মিত সদাকাহ করার অভ্যাস ...