সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকার: মিডিয়া ন্যারেটিভে সেকুলার আধিপত্য
- ১৯৭১ এ ভাষাভিত্তিক বিভাজনের ফলে ইসলামিস্টরা পিছিয়ে পড়েছে। কারণ মাদ্রাসার একাডেমিক ভাষা ছিলো উর্দু কিন্তু স্বাধীনতার পর এদেশ উর্ধু নিষিদ্ধ করা হয়।
- বাংলা ভুখণ্ডে ২ বার ভাষা নিষিদ্ধ হয়েছে
● ফারসি, ব্রিটিশ আমলে
● উর্দু, বাংলাদেশে।
- বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ভাষার বিপরীতে মুসলিম শাসকরাই তৈরি করেছিলেন কারণ আর্য অর্থাৎ উঁচু হিন্দুদের ভাষা ছিল সংস্কৃত তার বিপরীতে এই অঞ্চলের আদিবাসী অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, নিগ্রো, অনার্যর তৎকালীন ভাষা ছিল অপরিণত বাংলা। যেটা ধীরে ধীরে পরিপূর্ণ ভাষায় রূপান্তরিত হয় মুসলিম শাসকদের আমলে।
- মিডিয়া সংকট
ইস্রা*য়েলের জাতির পিতা দাভিদ বেন গুরিয়ন ছিলেন একজন সম্পাদক তাই উনি সঠিকভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়াতে মিডিয়া ব্যবহার করতে পেরেছিলেন।
খেলাফত পতন হয়েছে মিডিয়ার মাধ্যমে ইয়াং তুর্করা আব্দুল হামিদ সানির পতন ঘটেছিল যারা মিডিয়া দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
- বক্তার মতে আমাদের প্রধান শত্রুকে চিহ্নিত করতে হবে আর তা হচ্ছে মিডিয়া। আমরা মিডিয়াকে আমার মূল প্রতিদ্বন্দী মনে করি না দেখেই আমরা আমাদের মূল সমস্যা নির্ধারণ করতে পারি না এবং আমাদের সমস্যার সমাধান হয় না।
- ২০০৮ সালের আগে পরের সময় আলাদা
- ২০০৮ এরপর ইসলাম বিদ্বেষ বাংলায় প্রকট হয়েছে
- ত্রিভুবন দুর্ঘটনায় বায়তুল মোকারমে বড় করে মোনাজাত হয় কিন্তু প্রথম আলোতে ত্রিভুবন বিমানবন্দর দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্জলন করে আর ছোট একটা ব্যানারে লিখে স্মরণ করা হয় আর বোঝানো হয় আর বুঝানো হয় এটাই বাংলাদেশের সংস্কৃতি ।
- ৫ নং, ৬ নং সমন্বয়কের নাম জানি না (সম্ভবত মাহিন সরকার এবং আব্দুল কাদের) কারণ সে ইসলাম পন্থী। মিডিয়া শুধু আসিফ, নাহিদ, সার্জিস, হাসনাত কে দেখাইতে চাইসে এবং ঐটাই দেখাচ্ছে ।
- অথচ এদেশে যুগে জুগে ইসলামিস্ট, আলেম উলামার অবদান অনেক, সিলেটের আলেমরা না থাকলে আজকে সিলেট বাংলাদেশের অংশ হতোনা ।
- এরপর বক্তা খুবই ইমোশনাল কথাবার্তা বলেন এবং উপস্থিত ৩৫০+ মানুষের চোখে পানি চলে আসে, শাপলা ট্রাজেডির ঠিক একবছর পর ৫ মে, ২০১৪ সালে ইনসাফ২৪ এর যাত্রা শুরু, জুনায়েদ বাবুনগরী হাটহাজারী মাদ্রাসায় ইনসাফ২৪ এর যাত্রা শুরু করেন, সম্পাদক সম্ভবত কওমি মাদ্রাসার, এখন পর্যন্ত তার কোনো পরিবার নাই, কর্মী রাখতে পারেন না, তার সাথে কাজ করা অনেককেই তিনি ছেড়ে দিয়েছেন অনেক বড় বড় পত্রিকায় কাজ করেন। তিনি কোনোমতে আছেন এই দেশে ইসলামী মিডিয়া রাজত্ব করবে এই স্বপ্ন নিয়ে।
খালিদ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ: মুসলিম আইডেন্টিটি ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি
- প্রচুর তত্ত্বের ছড়াছড়ি :
● র্যান্ড কর্পোরেশন
● কালচারাল এলিয়েশন
● জ্ঞানসন্ত্রাস
- লিবারেল, মডারেট, জ***ঙ্গী, উগ্রবাদী: ধার করা ট্যাগিং, যা পশ্চিম থেকে আনা হয়েছে।
আমাদের সমাজের নেরেটিভ এ এমন যে এখন কর্তার পরিচয়ে সর্বদা বুদ্ধিজীবি, স্কলার, গবেষকরা থাকে আর কর্মে থাকে সাধারণ ক্ষমতাহীন সমাজ।
বাঙালি মুসলিম,
ব্রিটিশ আমলে মুসলিম হিসেবে নিগৃহীত
পাকিস্তান আমলে বাঙালি হিসেবে নিগৃহীত
বাংলাদেশ আমলে মুসলিম হিসেবে নিগৃহীত
মানুষদের কথা বলেছেন, মূলত আহমদ ছফাকে অনেকে পছন্দ করলেও তিনি আসলে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের সংজ্ঞায়নে অনেক কিছুকে সংজ্ঞায়ন করেছেন।
যেমন এদেশের বাঙালিদের বলেছেন নিম্নবর্গের হিন্দু থেকে হওয়া দরিদ্র কৃষক মানুষদের কথা বলেছেন যেখানে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের আধিপত্যের বিষয়টা ফুটে উঠে?
এ দেশের বাঙালি মুসলিমরা বিভিন্ন আন্দোলনে যোগ দিলেও নিজেরা নেতৃত্ব দিতে পারে নাই।
আসিফ মাহমুদ: বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও শাহবাগের রিশতা
তুমি কে? আমি কে?
রাজাকার, রাজাকার।
এটা ছিল হাসিনার বিরুদ্ধে মূল স্লোগান, কিন্তু ২ মাস পর তা বদলে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে এমনকি ৫ আগস্টের পরবর্তীতে গ্রাফিতিতে যেখানে লেখা হয়েছিল তুমি কে? আমি কে?
রাজাকার, রাজাকার।
সেখান থেকে রাজাকার কেটে বাঙালি লেখা হয়েছে আবার।
অর্থাৎ রাজাকারের ঠিক বিপরীতে বাঙালিকে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ আমলে ইংরেজদের টিকিয়ে রাখতে হলে ঘরে দ্বন্দ লাগাতে হবে এবং তারা সেটাই করেছিল। মুসলিমরা বহিরাগত হিসেবে প্রচারের চেষ্টা চলেছিল। অথচ, আর্যরাও কিন্ত বহিরাগত। অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, নিগ্রো অনার্যের মিশ্রণ হচ্ছে বাঙালি।
বাঙালি জাতীয়তাবাদের ব্যাপারে বক্তা ৩টি বই থেকে উদৃতি করেন।
"সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করেছে মূলত হিন্দু মধ্যবিত্ত"
- সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আলোকিত বাংলাদেশ, জুন ২৩, ২০১৫
"বঙ্গভঙ্গ: বিরোধিতা করেছে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা"
- বেহাত বিপ্লব - সলিমুল্লাহ খান
-জীবনের শাহবাগ ও জীবনযুদ্ধের শাহবাগ
আবেদ খান
- ২০১৩ সালের শাহবাগীদের চাওয়ার লিস্ট:
● যুদ্ধপরাধীর শাস্তি
● সেকুলার রাষ্ট্র
● মৌলবাদমুক্ত রাষ্ট্র
● জামায়াত শিবির নিষিদ্ধ
● বিএনপি নিষিদ্ধ
● ইসলামী দল নিষিদ্ধ
● ইসলামি ব্যাংক, টিভি, ইবনে সিনা, ফোকাস, রেটিনা নিষিদ্ধ
- আবু সাঈদ তার রাহাবি (দেলোয়ার হোসেন সাইদি) কে অবশ্যই রাজাকার হিসেবে দেখতে চায় নাই। কিন্তু ২০১৩ সালের আন্দোলন সেটাই করেছে । আওয়ামী লীগকে ওয়ান স্টেট ওয়ান পার্টিতে রূপান্তর করে, ফ্যাসিবাদ কায়েম করছে শাহবাগ।
ডা. শামসুল আরেফিন: বাঙালি মুসলিম জাতিসত্তা বিকাশ
- বিছিন্নভাবে বাংলায় এতো মুসলমান কেনো?
- বলা হয়ে থাকে বখতিয়ার খিলজিকে গোয়েন্দাগিরি করে বৌদ্ধরা এই বাংলায় এনেছিল হিন্দুদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে।
- বণিকদের আগমন ও সুফি দাঈদের মাধমেও এদেশে ইসলাম প্রচার হয়েছে প্রচুর মানুষ মুসলিম হয়েছে।
- আমাদের রক্তে, অনার্য অহিন্দু জনগণ, নিম্নবর্গের হিন্দু (হিন্দুদের জাত প্রথার চেয়ে মুসলিমদের সবাই সমান নীতি দেখে মুগ্ধ হয়ে), নিপীড়িত বৌদ্ধ, উচ্চবর্ণের হিন্ধু (মুসলিম শাসন আমলে উচ্চপদের আশায়,যেমন বার ভূঁইয়ার ঈশাখাঁর বাবা কালিদাস গজদানি থেকে সোলেমান খাঁ হিসেবে মুসলমান হওয়া), আরব বণিক, ইরানি-তুরানি সুফী দাঈ, তুর্কি পার্সি সেনাদল (যারা এখানে যুদ্ধ করতে এসে বসত গড়েছে)।
- বাঙ্গালাহ: সাতগাঁও এর শাসক শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ লখনৌতি এবং সোনারগাঁও দখল করে পুরো বাংলাকে একত্রে নাম দেন বাঙ্গালাহ। তার উপাধি ছিলো শাহ-ই-বাঙ্গালাহ। তার সময় থেকেই স্বাধীনভাবে বাংলা সাহিত্যের চর্চা শুরু হয় এদেশে।
- কারণ, এর আগে আর্যদের অত্যাচারে বাংলা ভাষার অবস্থা ছিল করুণ, এজন্য বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন চর্যাপদ কিন্তু নেপালের রাজদরবারে পাওয়া গেছে। কারণ আর্যদের হাতে নিপীড়িত বৌদ্ধরা নেপাল হয়ে তিব্বতে পালিয়ে যাওয়ার সময় সম্ভবত নেপালের রাজদরবারে চর্যাপদ রেখে গিয়েছিলো এবং চর্যাপদের বিভিন্ন শ্লোকে নির্যাতনের কথা উঠে এসেছে যেমন 'আপনা মাংসে হরিণা বৈরী'।
- ব্রিটিশদের আগমনের পর উচ্চবর্ণ হিন্দুর সাথে বৃটিশের সখ্যতা তৈরী হয় ।
- বুটিশরা আসার আগে থেকেই প্রশাসন ও কূটনীতি মুসলমানরা আর ভূমি ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসাবাণিজ্য হিন্দুরা দেখভাল করতো।
- বুটিশদের ব্যবসায়-সহযোগী হিসেবে তারা বিশাল অর্থসম্পত্তির মালিক হয়, এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে জমিদার হিন্দুরা বুটিশের জমিদারদের কাছ থেকে জমিদারির বকেয়া দেয় না।
- তৎকালীন সময়ে ৩৩৩ জনের মধ্যে ৩৪ জন জমিদার (১০%) ছিল মুসলিম আর বাকি ২৯৯ জনই (৯০%), যদিও জনসংখ্যার ৮০% ছিল মুসলিম।
- ব্রিটিশদের সময় এই জমিনে মুসলমানদের সবরকম এজেন্ডিকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়।
● মুসলমানদের আইন-বিচার ব্যবস্থা
● মুসলমানদের শিক্ষা ব্যবস্থা
● মুসলমানদের ভাষা-সংস্কৃতি
● মুসলমানদের আত্মপরিচয়
- এখন করণীয় কি?
বাঙালি জাতীয়তাবাদ মানেই মূলত হিন্দু জাতীয়তাবাদ এটা ভারতের একটা সফট পাওয়ার। বাঙালি শব্দের গঠনটা বাংলা-ভাষী অর্থ হয়নি। 'বাঙালি' কোনো ভাষাভিত্তিক জাতীয়তা নয়। ধর্মভিত্তিক জাতীয়তা শুরু থেকে ছিল বাঙালি-বাংলাভাষী হিন্দু। পরিভাষা রিকনাইজ করে লাভ হবে না। বাঙালি হতে হলে মুসলিমদেরই ইলিমেন্টারি ত্যাগ করে হিন্দু মেটাফিজিক্যাল ইলিমেন্টস নিতে হবে। তাই আমরা বাঙলাভাষী মুসলিম। আমরা কোনদিনই বাঙালি মুসলিম হতে পারবো না। বরং ভিন্ন কোনো পরিভাষা নেয়া উচিত। শামসুল আরেফিন শক্তি ভাইয়ের মতে আমরা নিজেদের বাঙালি না বলে বাংলাভাষী বলতে পারি।
রেফারেন্স:
মাহিন সরকার: https://www.facebook.com/profile.php?id=61564461556954
আব্দুল কাদের: https://www.facebook.com/profile.php?id=100013950997233
জুনায়েদ বাবুনগরী: https://en.wikipedia.org/wiki/Junaid_Babunagari
দাভিদ বেন গুরিয়ন: https://en.wikipedia.org/wiki/David_Ben-Gurion
সিলেট বাংলাদেশের অংশ হওয়ার ইতিহাস: https://en.wikipedia.org/wiki/1947_Sylhet_referendum
র্যান্ড কর্পোরেশন: https://en.wikipedia.org/wiki/RAND_Corporation
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আলোকিত বাংলাদেশ:
https://old.alokitobangladesh.com/todays/details/142010/2015/06/23
বেহাত বিপ্লব, সলিমুল্লাহ খান: https://www.rokomari.com/book/2118/behat-biplob-1971
জীবনের শাহবাগ ও জীবনযুদ্ধের শাহবাগ, আবেদ খান: https://www.rokomari.com/book/68834/jiboner-shahbag-o-jibonjuddher-shahbag
বাংলা সালতানাত: https://en.wikipedia.org/wiki/Bengal_Sultanate
চর্যাপদ: https://en.wikipedia.org/wiki/Charyapada--

Comments
Post a Comment