এ সুরায় তিনটি মৌলিক আকিদা তাওহীদ, রিসালাত, আখেরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এই সুরার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এতে মুশরিকদের বিশ্বাস খণ্ডন করার জন্য দুটি পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে। আর তা হল 'তাকরির' ও 'তালকিন', যা অন্যান্য সুরায় খুব কমই পরিলক্ষিত হয়।
প্রথমত তাকরির দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, আল্লাহর একত্ববাদ, তার ক্ষমতা, বড়ত্ব ও মহত্ত্বের দলিল প্রমাণগুলো এমন স্বীকৃত মূলনীতির আলোকে পেশ করা যে, কোনো সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মানুষ তা অস্বীকার করতে পারে না।
আর তালকিনের সারমর্ম হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা স্বীয় উম্মি রাসুলকে এমন দলিল শিখিয়ে দেন যে, বিরোধীরা যার কোনো জবাব খুঁজে পায় না। তারা লজ্জিত হয়ে যায় এবং মাথা নত করতে বাধ্য হয়। সাধারণত প্রশ্নোত্তর-রীতিতে এ পন্থার প্রয়োগ করা হয় ।
এ সুরায় উল্লেখিত বিষয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিষয় নিম্নরূপ:
১. মুমিনের দৃষ্টাস্ত হচ্ছে জীবিত ব্যক্তির মতো, যাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে নূর দেওয়া হয়েছে। আর কাফেরের দৃষ্টান্ত হল মৃত ব্যক্তির মতো, যে অন্ধকারে নিমজ্জিত।
২. ঈমান ও হেদায়েত একমাত্র আল্লাহ তায়ালার হাতে। তিনি যাকে চান তাকে তা দান করেন।
৩. আল্লাহ তাদের সবাইকে কেয়ামতের দিন একত্র করবেন। এরপর প্রত্যেককে তার আমল অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন।
৪. মুশরিকদের একটা বোকামির কথা উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা প্রাণী ও জমিন থেকে উৎপন্ন ফসলের একটি অংশ নির্ধারণ করে বলে যে, এটা আল্লাহর, আর এটা আমাদের শরিকদের। এরপর শরিকদের যে অংশ, তাকে আল্লাহর অংশের সাথে মিশ্রণ হতে দিতো না। কিন্তু আল্লাহর অংশ যদি শরিকদের অংশে মিশ্রিত হয়ে যেত তা হলে তারা একে ফেরত দিত না।
এ সুরার ১৫১ নং আয়াত থেকে ১৫৩ নং আয়াত পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা দশটি অসিয়ত করেছেন। এগুলো হলো:
১. শুধু আল্লাহর ইবাদত করা। তার সাথে কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত না করা।
২. পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা। কথা কিংবা কাজে তাদেরকে কষ্ট না দেওয়া।
৩. দারিদ্র্য ও লজ্জার ভয়ে সন্তান হত্যা না করা।
৪. প্রকাশ্য ও গোপন সর্বাবস্থায় যাবতীয় অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে বেঁচে থাকা।
৫. মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হারাম। এটা জঘন্য কবিরা গুনাহ।
৬. এতিমের মাল অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ না করা।
৭. সঠিকভাবে ওজন করা।
৮. বন্ধু ও শত্রু নির্বিশেষ সকলের সাথে ইনসাফপূর্ণ আচরণ বলা।
৯. আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পুরা করা।
১০. সিরাতে মুসতাকিমের অনুসরণ করা।
বইঃ খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা)
লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আসলাম শেখোপুরী রহমাতুল্লাহ
অনুবাদঃ মুজাহিদুল মাইমুন
পৃষ্ঠাঃ ৮৮-৯৫
Comments
Post a Comment