এ সুরায় ইউসুফ আলাইহিস সালামের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। এজন্য সুরাটিকে ইউসুফ নামকরণ করা হয়েছে।
কোরআনে বিভিন্ন নবীর ঘটনা বারবার উল্লেখ হয়েছে। সব জায়গাতেই নতুন শব্দ, নতুন উপস্থাপনা, নতুন কোনো শিক্ষা, নতুন কোনো উপদেশ পাওয়া যায়। এই ঘটনাগুলো ছোট কলেবরে চমৎকারভাবে গোটা কোরআনে বিক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ হয়েছে। একত্র করা হলে পুরো ঘটনাটি বুঝে আসে। কিন্তু হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ঘটনা একাধিকবার বর্ণিত হয়নি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো ঘটনা সুরা ইউসুফে উল্লেখ হয়েছে। অন্যান্য সুরায় ইউসুফ আলাইহিস সালামের নাম এসেছে; কিন্তু তার ঘটনা উল্লেখ করা হয়নি। ইউসুফ আলাইহিস সালামের এ ঘটনাকে কোরআন নিজেই "আহসানুল কাসাস' (সর্বোত্তম ঘটনা) বলে উল্লেখ করেছে। কেননা এ ঘটনায় যে পরিমাণ শিক্ষণীয় নসিহত ও উপাদান রয়েছে, সম্ভবত একসাথে অন্য কোনো ঘটনায় তা নেই।
হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ঘটনা
এক. ইয়াকুব আলাইহিস সালামের বারো ছেলে ছিল। হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম তাদের মধ্যে অস্বাভাবিক সুন্দর ছিলেন। তার চেহারা ও চরিত্র—দুটোই সুন্দর ছিল। তিনি ও তার ভাই বিনয়ামিনের সবার ছোট হওয়াও এই ভালোবাসার একটি কারণ ছিল। এ ভালোবাসার কারণে ভাইয়েরা তার সাথে হিংসা করা শুরু করে। তারা তাদের পিতাকে খেলাধুলার কথা বলে হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামকে জঙ্গলে নিয়ে যায়। তারপর তাকে কূপে ফেলে দেয়।
দুই. কূপের পাশ দিয়ে একটি কাফেলা যাচ্ছিল। পানি নেওয়ার জন্য তারা কূপে বালতি ফেলে। ভেতর থেকে ইউসুফ আলাইহিস সালাম বের হয়ে আসেন। কাফেলার লোকেরা মিসরে নিয়ে তাকে বিক্রি করে দেয়।
তিন. মিসরের জনৈক মন্ত্রী তাকে ক্রয় করে বাড়িতে নিয়ে যান। ইউসুফ আলাইহিস সালাম যৌবনে পদার্পণ করলে বাদশাহর স্ত্রী তার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। সে (বাদশাহর স্ত্রী) মন্দ কাজের জন্য তাকে (ইউসুফ আলাইহিস সালামকে) ফুসলানোর চেষ্টা করে। হজরত ইউসুফ তার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন। মন্ত্রী দুর্নাম থেকে বাঁচার জন্য ইউসুফ আলাইহিস সালামকে জেলে বন্দি করেন।
চার. জেলখানায় তিনি তাওহিদের দাওয়াত দিতে থাকেন, যার কারণে বন্দিরা তাকে অনেক সম্মান করত। তৎকালীন বাদশাহর স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়ায় তিনি তার নজরে পড়েন। বাদশাহ তাকে খাদ্যভাণ্ডার, ব্যবসা-বাণিজ্যের দায়িত্বশীল এবং রাষ্ট্রের উজির মনোনীত করেন। মিসর এবং তার আশপাশে দুর্ভিক্ষের কারণে তার ভাইয়েরা রেশন নেওয়ার জন্য মিসর আসে। দুয়েকবার সাক্ষাতের পর তিনি তাদের বলেন, আমি তোমাদের ভাই ইউসুফ। এরপর তার মাতাপিতাও মিসর চলে আসেন। সকলেই এখানে বসতি গড়ে তোলেন।
বইঃ খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা)
লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আসলাম শেখোপুরী রহমাতুল্লাহ
অনুবাদঃ মুজাহিদুল মাইমুন
পৃষ্ঠাঃ ১৩১-১৩৩
Comments
Post a Comment