নামকরণ
যেহেতু এ সুরাতে আনফাল তথা যুদ্ধলব্ধ সম্পদের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে, তাই এর নাম আনফাল। সুরাটি দ্বিতীয় হিজরি সনে মদিনায় নাজিল হয়েছে।
অন্যান্য মাদানি সুরার ন্যায় এতে শরয়ি বিধিবিধান বর্ণনার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সুরাটি ইসলামি ইতিহাসের সকল যুদ্ধের ভিত্তি বদরযুদ্ধের পর অবতীর্ণ হয়েছে। যুদ্ধে চর্ম চোখে আল্লাহ তায়ালার সাহায্য পরিলক্ষিত হয়েছে। একটি ছোট্ট বাহিনী বহুগুণ বহু বাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছে।
এরপর প্রকৃত মুমিনের পাঁচটি গুনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তা হচ্ছে-
১. আল্লাহর স্মরণ হলে তাদের হৃদয় ভীত হওয়া।
২. কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ঈমান বৃদ্ধি পাওয়া।
৩. দয়াময় আল্লাহর উপর ভরসা করা।
৪. নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়া।
৫. আল্লাহর দেওয়া রিজিক হতে তার পর্থে খরচ করা।
সুরা আনফালের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা এতে মুমিনদের ছয়বার (হে মুমিনগণ)-এর মতো ভালোবাসামিশ্রিত বাক্য দ্বারা সম্বোধন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি এমন মূলনীতি বলে দিয়েছেন, যার উপর আমল করে জিহাদের ময়দানে তারা সফল হতে পারে।
আল্লাহর সাহায্য লাভের চারটি উপায় উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো: যুদ্ধের ময়দানে অবিচল থাকা, আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করা, পরস্পর ঝগড়াবিবাদ থেকে বেঁচে থাকা এবং শত্রুর মোকাবেলা করার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়ে ধৈর্য ধারণ করা। এছাড়া এ সুরায়, গনিমতের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা, কাফেরদের পরিণতি, কুরাইশদের লাঞ্ছনার কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
বইঃ খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা)
লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আসলাম শেখোপুরী রহমাতুল্লাহ
অনুবাদঃ মুজাহিদুল মাইমুন
পৃষ্ঠাঃ ১০৭-১১৩
Comments
Post a Comment