এ সুবায় ঈমানের মৌলিক বিষয় আকিদা-বিশ্বাস এবং বিশেষ করে কোরআনুল কারিমের আলোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, খাতামুল মুরসালিন হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত ও রিসালাত আশ্চর্য কিছু নয়। কেননা তাকেই প্রথম নবী হিসেবে পাঠানো হয়নি; বরং প্রত্যেক জাতিতে কোনো-না-কোনো নবী-রাসুল এসেছেন।
এরপর রুবুবিয়্যা , উলুহিয়্যাত ও উবুদিয়্যাতের বাস্তবতা এবং স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যকার সম্পর্কের ভিত্তিমূল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যিনি প্রতিপালক এবং স্রষ্টা, তিনিই ইবাদতের উপযুক্ত। বিশ্বজগতের সমস্ত ব্যবস্থাপনা তার রুবুবিয়্যাত ও কুদরতের সাক্ষ্য বহন করে। বিষয়গতের এই ব্যবস্থাপনা এবং তার কুদরতের দলিল-প্রমাণ নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনার ক্ষেত্রে মানুষ দু-দলে বিভক্ত। মিথ্যাপ্রতিপন্ন কারী ও সত্য সাব্যস্তকারী । মিথ্যাপ্রতিপন্নকারীদের ঠিকানা হচ্ছে জাহান্নাম। আর সত্য সাব্যস্তকারীদের ঠিকানা হচ্ছে জান্নাত।
এরপর এ সুরায় মুশরিকদের মূর্তিপূজা এবং একত্ববাদের দলিল উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বড় ধরনের বিপদের সময় মুশরিকরাও মিথ্যা উপাস্যদের সে দিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে খাঁটি মনে ডাকতে বাধ্য হয়।
কোরআনের সত্যতার চ্যালেঞ্জ কোরআনের সত্যতার ব্যাপারে তাদের সাথে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, কোরআনের যদি মানবরচিত হয়ে থাকে তা হলে তোমরাও এর মতো কোনো বানিয়ে দেখাও। এজন্য আরবদের মধ্য থেকে যাকে যাকে খুশি তার সহযোগিতা নিতে পারো। আল্লাহ তায়ালা এরপর তাদের ঈমান না আনার কারণ নিজেই বলে নিয়েছেন। তিনি বলেন, মানুষের স্বভাব হচ্ছে সে যে বিষয়ে জানে না এবং যার প্রভৃতি উপলব্ধি করতে পারে না সে তা সরাসরি অস্বীকার করে বসে।
তাওহিদের দলিল-প্রমাণ, পুনরুত্থানের অনিবার্যতা, কোরআনুল কারিমের সত্যতা এবং মুশরিকদের ভ্রান্ত ধারণা খণ্ডন করার পর শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণের জন্য তিনটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথম ঘটনাটি হজরত নুহ আলাইহিস সালামের। তার দাওয়াতি কাজের সময়কাল অন্যান্য নবীর চেয়ে বেশি ছিল। কিন্তু তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল নিতাই কম।
দ্বিতীয় ঘটনাটি মুসা আলাইহিস সালাম ও হারুন আলাইহিস সালামের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে, যারা প্রভুত্বের দাবিদার ফেরাউনের মোকাবেলা করেছিলেন।
তৃতীয় ঘটনা ইউনুস আলাইহিস সালামের। এ সুরাটি তার নামেই নামকরণ করা হয়েছে। কোরআনের চার জায়গায় ইউনুস আলাইহিস সালামের নাম স্পষ্টভাবে এসেছে। অনা একস্থানে তাকে যুননুন (নাছওয়ালা) বলে সম্বোধন করা হয়েছে। তিনি তার সম্প্রদায়ের ঈমান আনার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়েছিলেন। আল্লাহর আজাব আসা সুনিশ্চিত জেনে তিনি নিনাওয়া ভূখণ্ড ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। যাওয়ার জন্য যখন তিনি জাহাজে উঠে বসেন তখন সমুদ্রে প্রচণ্ড ঝড় উঠলে জাহাজের অন্য যাত্রীরা তাকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করে। একটি বড় মাছ তাকে গিলে ফেলে। আল্লাহ তাকে সেই মাছের পেটে বাঁচিয়ে রাখেন। কিছুদিন পর মাছ তাকে সাগরতীরে এক মরুভূমিতে উপরে ফেলে। ওইদিকে তার সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ সকলেই মরুভূমিতে চলে আসে। তারা আহাজারি, তাওবা-ইসতিগফার শুরু করে। তারা খাঁটি মনে ঈমান আনে। আল্লাহ তাদের থেকে আজাব তুলে নেন।
এই তিনটি ঘটনা উল্লেখ করার পর মুশরিকদের সতর্ক করা হয়েছে যে, যদি তারা কুফর-শিরক থেকে বিরত না হয় তা হলে কেয়ামতের পূর্বেই তাদের উপর আজাব চলে আসতে পারে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুমিনদের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহর সাহায্য অতি নিকটে।
বইঃ খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা)
লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আসলাম শেখোপুরী রহমাতুল্লাহ
অনুবাদঃ মুজাহিদুল মাইমুন
পৃষ্ঠাঃ ১২২-১২৬
Comments
Post a Comment