আল্লাহর একটি নেয়ামত
এই সুরায় আল্লাহর একটি নেয়ামতের প্রতি মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে যে, তিনি গোটা মানবজাতিকে একই পিতা আদম আলাইহিস সালাম থেকে সৃষ্টি করেছেন, যাকে আল্লাহ তায়ালা নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন, নিজে তার মধ্যে রুহ ফুঁকেছেন এবং তাকে সিজদা করার জন্য ফেরেশতাদের নির্দেশ নিয়েছে যেন সৃষ্টির ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে যে সম্মান প্রদান করেছেন, সেট বুঝতে পারে, একে অপরের সহযোগী হয় এবং একথা স্মরণ রাখে যে, মান ক্ষেত্রে তারা একে অপরের ভাই। এর সাথে সাথে শয়তানের চক্রান্ত থেকে বেঁচে থাকারও নির্দেশ দিয়েছেন।
সুরা আরাফের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য
সুরা আরাফের এক উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এ সুরায় আল্লাহ তায়া ধারাবাহিকভাবে চারবার 'ইয়া বানি আদাম' বলে মানুষকে সম্বোধন করেছেন। সুরা আরাফ ব্যতীত কোনো সুরায় এভাবে চারবার মানুষকে সম্বোধন করা হয়নি। দশম রুকুতে ২৬ নং আয়াতে প্রথম সম্বোধন করা হয়েছে। তারপর দশম রুকুর ২৭নং আয়াতে দ্বিতীয়বার, দশম রুকুর ৩১ নং আয়াতে তৃতীয়বার এবং এগারোতম রুকুর ৩নং আয়াতে চতুর্থবার সম্বোধন করা হয়েছে। এ সুরায় শয়তানের ওয়াসওয়াসা ও কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকার জন্য আদম সন্তানকে বারবার সম্বোধন করা হয়েছে।
তৃতীয় দল আসহাবুল আরাফ
তৃতীয় একদলকে কোরআন 'আসহাবুল আরাফ (আরাফবাসী) বলে আখ্যা দিয়েছে। বিশ্বাসের দিক থেকে তারা মুমিন হবে। কিন্তু আমলের দিক থেকে তারা অন্যান্য জান্নাতির তুলনায় পিছিয়ে থাকবে। তাদের না জান্নাত মিলবে আর না তাদের জাহান্নামে প্রবেশ করানো হবে; বরং তাদের ব্যাপারে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত ঘোষিত হবে। তবে পরিশেষে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।' এই আসহাবুল আরাফ ও জাহান্নামিদের মাঝেও কথাবার্তা হবে, যা তেরোতম রুকুতে আলোচনা করা হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালার কুদরত ও তাওহিদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল:
১. স্তরবিশিষ্ট সাত আকাশ একটি অপরটির উপর স্থাপিত হয়েছে। এত বিশাল ও প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও আকাশগুলো কোনো স্তম্ভ ব্যতীতই দাঁড়িয়ে আছে।
২.রহমানের আরশ এতটাই প্রশস্ত যে, আসমান-জমিন কিছুতেই তার সংকুলান হবে না। তা কত বড় কেউ তার কল্পনাও করতে পারবে না।
৩. চন্দ্র, সূর্য ও নক্ষত্র সৃষ্টির মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার অসীম ক্ষমতা ও তাওহিদের উপর তৃতীয় দলিল দেখা হয়েছে। এসব জিনিস আল্লাহ তায়ালার অধীন।
সুরা আরাফে ছয়জন নবীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন: হযরত নুহ আলাইহিস সালাম, হযরত হুদ আলাইহিস সালাম, হযরত সালেহ আলাইহিস সালাম, হযরত লুত আলাইহিস সালাম, হযরত শোয়াইব আলাইহিস সালাম এবং হযরত মুসা আলাইহিস সালাম। এছাড়া এ সুরায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সান্ত্বনা দেয়া হয়েছে যেন স্বীয় কওমের অস্বীকৃতি ও অবাধ্যতার কারণে বিরক্ত ও চিন্তিত না হন।
বইঃ খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা)
লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আসলাম শেখোপুরী রহমাতুল্লাহ
অনুবাদঃ মুজাহিদুল মাইমুন
পৃষ্ঠাঃ ৯৫-১০৬
Comments
Post a Comment