হরফে মুকাত্তাঘাত দ্বারা সুরাটির সূচনা হয়েছে। হরফে মুকাত্তায়াতযুক্ত অন্যান্য সুবার ন্যায় এ সুরার শুরুতেও কোরআনুল কারিমের আলোচনা এসেছে। এ প্রথম আয়াতে কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার হেকমত ও মাকসাদ বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এ এমন এক কিতাব, যা আমি আপনার উপর অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি পরাক্রমশালী, প্রশংসনীয় সভার নির্দেশে মানুষদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন।
সুরা ইবরাহিমে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বর্ণনা করা হয়েছে, নিম্নে তা উল্লে করা হল :
১. মৌলিক আকিদা তথা তাওহিদ, রিসালাত, পুনরুত্থান ও বিচার দিবসের উপর ঈমান আনয়ন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
২. কাফেরদের নিন্দা করা হয়েছে। তাদেরকে জাহান্নামের ধমক দেওয়া হয়েছে। আর মুমিনদের জন্য জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
৩. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে যে, আপনার সম্প্রদায় আপনার সাথে যেমন আচরণ করছে, পূর্ববর্তী নবীদের সাথেও এমন আচরণ করা হয়েছিল।
৪. আল্লাহ তায়ালার নীতি ও ওয়াদা হচ্ছে, তিনি শোকর গুজার বান্দাদের নেয়ামত বৃদ্ধি করে দেন। আর অকৃতজ্ঞদের জন্য তার শাস্তি কঠোর।
৫. ইবরাহিম আ. কাবাঘর নির্মাণের পর স্বীয় মক্কাবাসী সন্তান ও বংশধরদের অন্য যে দোয়া করেছিলেন, এ সুবায় তা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
৬. হক ও ঈমানকে উত্তম বৃক্ষের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যার গোড়া মজবুত, ফল সুমিষ্ট। পক্ষান্তরে বাতিলকে গোড়া উপড়ানো গাছের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যার কোনো স্থায়িত্ব নেই।
৭. সুরা ইবরাহিমের শেষরুকুতে কেয়ামতের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
৮. শেষ আয়াতে কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার উদ্দেশ্য বলা হয়েছে।
আল্লাহ বলেন, এ কোরআন মানুষের জন্য আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এক পরগান, যাতে তারা তাকে ভয় করে, তারা যেন জানতে পারে যে, তিনি একক উপাস্য আর জ্ঞানীরা যাতে উপদেশ গ্রহণ করে।
বইঃ খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা)
লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আসলাম শেখোপুরী রহমাতুল্লাহ
অনুবাদঃ মুজাহিদুল মাইমুন
পৃষ্ঠাঃ ১৪০-১৪১
Comments
Post a Comment