Skip to main content

Posts

Showing posts from January, 2023

সুরা মায়েদা : খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ১০

এ সুরায় দস্তরখানের কথা আলোচনা করা হয়েছে দেখে এই সুরার নামকরন মায়েদা করা হয়েছে। এটি সর্বশেষ নাজিলকৃত সুরা। এখানে যেসব ঘটনা, মাসআলা ও বিধান উল্লেখ করা হয়েছে, নিম্নে প্রদত্ত হল : এ সুরার একটি আয়াত বিদায় হজের সময় নাজিল হয়েছে যাতে দীন পূর্ণ হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ সুরায় মুমিনদের অঙ্গীকার পূরণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  কোনোকিছু হালাল কিংবা হারাম ঘোষণা দেওয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহ তায়ালার। আল্লাহ তায়ালার অজু ও গোসলের নেয়ামত দান করেছেন। সপ্তম রুকুতে ইহুদীদের ভীরুতা, ফাসাদ সৃষ্টি ও অহংকার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এ সুরায় হাবিল ও কাবিলের ঘটনাও বর্ণনা করা হয়েছে। ডাকাত, রাষ্ট্রদোহী ও বিশৃঙ্খলাকারীদের শাস্তির কথা আলোচনা করা হয়েছে।  দশম রুকুতে পুরুষ চোর ও নারীদের হাত কেটে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরপর দুই ফেতনাবাজ সম্প্রদায় মুনাফিক ও ইহুদিদের কথা আলোচনা করা হয়েছে। এ সুরায় হেদায়াত ও গোমরাহির মধ্যে পার্থক্যকারী কোরআনের আলোচনা করা হয়েছে। এরপর ইহুদী ও খ্রিস্টানদের সাথে অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব নিষেধ করা হয়েছে বরং সত্যিকারের মুমিনদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ার হুকুম দেয়া হয়েছে। ইহুদী ও খ্রিস্টানদের ধর্...

সুরা নিসা: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ৯

এছাড়াও সুরা নিসাতে আরও যেসব বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছেঃ   ১. তৃতীয় রুকুতে পারিবারিক ব্যবস্থা ঠিক রাখার জন্য কিছু মৌলিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথম নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, ঘরের জিম্মাদার পুরুষ।  দ্বিতীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, নারী যদি অবাধ্য ও বদমেজাজি হয় তা হলে তাকে সঠিক পথে আনার জন্য তিনটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।এগুলো হলো:  ১। তাকে বোঝানো হবে, ২। তাকে বিছানা থেকে আলাদা করে দেওয়া হবে,  ৩। চূড়ান্ত অবাধ্যতার ক্ষেত্রে সীমার মধ্যে থেকে প্রহার করা হবে। ২. পঞ্চম রুকুতে সমাজ-জীবন ঠিক রাখার জন্য সকল কাজেই ইহসান অবলম্বনের বিধান দেওয়া হয়েছে। এটা বলা হয়েছে যে, ইহসানের ভিত্তি হচ্ছে পরপর কল্যাণকামিতা, আমানত, ইনসাফ ও সহানুভূতি। ৩. সপ্তম রুকুতে মুসলমানদের জিহাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ত বিশুদ্ধ রাখতে, শুধু আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি এবং তার দীনকে উঁচু করার জন্য জিহাদ করতে বলা হয়েছে।  ৪. জিহাদের ব্যাপারে মুসলমানদের উৎসাহ দেওয়ার পর মুনাফিকদের সম্পর্কে সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  ৫. (ইচ্ছাকৃত বা ভুলে) কোনো মুমিনকে হত্যা করার শাস্তি বর্ণনা ক...

সুরা নিসা: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ৮

নামকরণ: সুরা নিসার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ চতুর্থ পারায় পড়েছে। এই সুরাকে 'বড় সুরা নিসা' বলা হয়। আর ২৮ পারার সুরা তালাককে 'ছোট সুরা নিসা' বলা হয়। এ সুরায় যেহেতু নারীদের বিধান বেশি বর্ণিত হয়েছে, তাই এর নামকরণ করা হয়েছে সুরা নিসা। এ সুরার যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও বিধান চতুর্থ পারায় এসেছে, তা হল : ১. বালেগ হলে এতিমদের অর্থ-সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া।  ২.এতিম ছেলে-মেয়ে উভয়ের সম্পদের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য।  ৩. একসঙ্গে চারজন নারীকে বিয়ে করার সুযোগ রয়েছে। তবে শর্ত হচ্ছে স্বামীর তাদের অধিকার আদায়ে সক্ষম হতে হবে। তাদের মাঝে ইনসাফসম্মত আচরণ করতে হবে। স্বামী যদি এমনটি করতে না পারে, তা হলে একজন স্ত্রী নিয়েই সম্ভষ্ট থাকতে হবে। ৪. একাধিক স্ত্রীর প্রচলন ইসলামের পূর্বেও ছিল। তবে তার কোনো সংখ্যা নির্দিষ্ট ছিল না। তারা স্ত্রীর বৈবাহিক ও জীবনযাপনের অধিকারও আদায় করত না।  এক্ষেত্রে ইসলাম হক আদায় ফরজ সাব্যস্ত করেছে।  ৫. ইসলামের পূর্বে নারীদের মিরাস দেওয়া হতো না। আরবদের প্রবাদ ছিল আমরা এমন মানুষকে কেন সম্পদ দেব, যারা ঘোড়ায় সওয়ার হতে পারে না, তরবারি বহন করতে পারে না, দুশমনের মো...

সুরা আলে ইমরান: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ৬

আল্লাহর রাস্তায় খরচের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত সুরা আলে ইমরানে আল্লাহর রাস্তায় খরচ করার বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে একটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত পুণ্যের পূর্ণতায় পৌঁছতে পারে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা আল্লাহর রাস্তায় নিজেদের সবচেয়ে পছন্দনীয় জিনিস দান না করে। লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য প্রিয় জিনিস কোরবান করা আবশ্যক। কেবলা পরিবর্তন সম্পর্কে আহলে কিতাবদের জবাব কেবলা পরিবর্তনের বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বাইতুল মাকদিসের পরিবর্তে কাবাকে কেবলা নির্ধারণ করেন। তখন আহলে কিতাবরা হইচই শুরু করে দেয়। তারা বলতে থাকে- কাবার তুলনায় বাইতুল মাকদিস শ্রেষ্ঠ এবং এটাই ভূপৃষ্ঠে আল্লাহ তায়ালার আল্লাহ তায়ালা কাবা শরিফের তিনটি গুণের কথা উল্লেখ করে তাদের দাবি খণ্ডন করেন। প্রথমত, ভূপৃষ্ঠে কাবা শরিফই প্রথম ইবাদতখানা। দ্বিতীয়ত, কাবায় এমন কিছু নিদর্শন পাওয়া যায়, যা তার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল মাকামে ইবরাহিম (জমজম ও হাতিম)।  তৃতীয়ত, যে-ব্যক্তি হারামে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ হয়ে যাবে। গোটা বিশ্বে কাবার চেয়ে মর্যাদাপূর...

সুরা আলে ইমরান: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ৭

আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করা সুরা আলে ইমরানে মুসলমানদের হুকুম দেওয়া হয়েছে যে, তারা আল্লাহকে যেভাবে ভয় করা আবশ্যক সেভাবেই যেন ভয় করে, যেন তারা আল্লাহর রজ্জু শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে। তারা যেন বিভক্ত না হয়ে যায়। উম্মতে মুহাম্মদি অন্যান্য উম্মতের তুলনায় বহুগুণে শ্রেষ্ঠ। তাদের শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হচ্ছে, আল্লাহ যেসব বিষয়ে ঈমান আনার নির্দেশ দিয়েছেন, তারা তার উপর ঈমান আনার পাশাপাশি আমর বিল মারুফ (সৎকাজের আদেশ) ও নাহি আনিল মুনকার (অসৎকাজে বাধা প্রদান) করে থাকে, যা তাদের ধর্মীয় দায়িত্ব ও শরয়ি কর্তব্য। মুনাফিক ও কাফেরদের সাথে অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব রাখা নিষেধ মুনাফিক ও কাফেরদের সাথে অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ হিসেবে চারটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে :  প্রথমত, তারা তোমাদের ক্ষতি করতে কোনোরূপ ত্রুটি করে না। দ্বিতীয়ত, তারা মনেপ্রাণে চায় যে, ইহকাল ও পরকালের দিক থেকে তোমরা কষ্টে ও মুসিবতে আক্রান্ত হও। তৃতীয়ত, তাদের চেহারা ও কথাবার্তা থেকে তোমাদের ব্যাপারে ঘৃণা-বিদ্বেষ ও শত্রুতা ঝরে পড়ে। চতুর্থত, তারা মুখে যা বলে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি ঘৃণা-বিদ্বেষ অন্তরে লালন করে। সর্বদা আল্লাহ...

সুরা আলে ইমরান: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ৫.২

এ সূরায় তিনটি শিক্ষণীয় ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনাই অস্বাভাবিক ও আশ্চর্যজনক, যার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার মহত্ত্ব বুঝে আসে। প্রথম ঘটনাঃ হজরত মারিয়াম আলাইহাস সালামের পিতা হজরত ইমরান আলাইহিস সালান আল্লাহ তায়ালার নেককার বান্দা ছিলেন, তার  স্ত্রী হান্না বিনতে ফাকুজ অত্যন্ত বিদ্বান ও নেককার নারী ছিলেন। দীর্ঘকাল পর্যন্ত তার কোনো সন্তান হচ্ছিল না। একদিন তিনি (হান্না বিনতে ফাকুজ) একটি পাখি দেখলেন যে, সে তার বাচ্চাকে খাবার খাওয়াচ্ছে। এই দৃশ্য দেখে তার মনে নাড়া দেয়। সন্তান লাভের আশা জেগে ওঠে। আল্লাহ তায়ালার নিকট দোয়া করেন যে, যদি আল্লাহ তাকে কোনো সন্তান দেন তা হলে তাকে বাইতুল মাকদিসের খেদমতে ওয়াকফ করে দেবেন। আল্লাহ তায়ালা তার দোয়া কবুল করেন। তার এক কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। আল্লাহ তায়ালা পূর্বের রীতির বিপরীতে ইমরানের স্ত্রীর মানত কবুল করে নেন। তৎকালীন যুগের উত্তম ব্যক্তি হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালামকে এ মেয়ের ভরণ-পোষণ ও দেখাশোনার জন্য নির্বাচন করেন। হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালাম একদিন তাকে অসময়ে ফল (মৌসুমি ফল নয়) খেতে দেখে জিজ্ঞেস করেন, মারিয়াম, তোমার কাছে এই রিজিক কোত্থ...

সুরা আলে ইমরান: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ৫.১

তৃতীয় পারার নবম রুকু থেকে সুরা আলে ইমরান শুরু হচ্ছে। এটি মাদানি সুরা। এ সুরায় ইমরান আলাইহিস সালামের বংশধরের আলোচনা এসেছে, তাই একে আলে ইমরান বলা হয়। সুরার ফজিলত সম্পর্কে আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আমি রাসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তোমরা দুই উজ্জ্বল সুরা তথা বাকারা ও আলে ইমরান পাঠ করো।" (সহিহ মুসলিম)  যোগসূত্রঃ  এই দুই সুরার বিষয়বস্তুর মধ্যে কী আশ্চর্য মিল! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সুরাদুটোকে দুটি আলো (সূর্য ও চন্দ্র) বলেছেন, যার দ্বারা উভয় সুরার সাযুজ্যের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এ দুই সুরায় আহলে কিতাব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। তবে সুরা বাকারার অধিকাংশ আলোচনা ইহুদিদের সম্পর্কে ছিল আর সুরা আলে ইমরানে মৌলিকভাবে খ্রিষ্টানদের সম্বোধন করা হয়েছে। তাওহিদ ও ইসলামঃ তাওহিদ ও ঈমানের দলিল-প্রমাণ সুস্পষ্ট। একমাত্র অন্ধ মানুষেরাই তা অস্বীকার করতে পারে। স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা, তার পবিত্র ফেরেশতা এবং আলেমগণও তাওহিদের সাক্ষ্য দেন। যেমনিভাবে আল্লাহ তায়ালা তাওহিদের সাক্ষ্য দেন তেমনি তিনি এ কথার সাক্ষ্য দেন যে, তার নিকট একমাত্র পছন...

সুরা বাকারা: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ৪.২

মৃতকে জীবিতকরণের ৫টি ঘটনা  সুরা বাকারা অধ্যয়নের মাধ্যমে বোঝা যায় যে, এ সুরার মোট পাঁচ জায়গায় মৃতকে পুনর্জীবনের আলোচনা এসেছে : ১. ভাতিজার হাতে নিহত ব্যক্তির ঘটনায়, যার শরীরে গাভীর গোশত লাগানোর পর সে জীবিত হয়েছিল। ২. বনি ইসরাইলের সেই লোকদের দীনায়, যারা হঠকারিতামূলকভাবে আল্লাহ তায়ালাকে দেখার আবেদন করেছিল। ৩. সেই সম্প্রদায়ের ঘটনায়, যারা প্লেগ থেকে বাঁচার জন্য বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছিল।  ৪. হজরত উজাইর আলাইহিস সালামের ঘটনায়।  ৫. এবং হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের ঘটনায়। আল্লাহর রাস্তায় খরচের অপূর্ব দৃষ্টান্তঃ  মানব কল্যাণের এমন কোনো দিক নেই, কোরআন যার প্রতি দাওয়াত দেয়নি, কিংবা এমন কোনো কাজ নেই, ইসলান যার প্রতি উৎসাহিত করেনি। একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর রাস্তায় খরচকারীদের ওই কৃষকের সাথে তুলনা করা। হয়েছে, যে মাটিতে একটি দানা রোপণ করে আর তা থেকে সাতটি শী উদগত হয়। প্রতিটি শীষ থেকে একশ শস্যদানা জন্মায়। আর আল্লাহ চাইলে কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে দেন। কৃষক জমিনে মাত্র একটি শসা দিয়ে তা থেকে হাজার হাজার শস্য লাভ করে। তেমনিভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে তার রাস্তায় এক টাকা...

সুরা বাকারা: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ৪.১

২য় পারার শেষদিকের দুইটি ঘটনা প্রথম ঘটনা হচ্ছে ওই সম্প্রদায়ের, যারা প্লেগ মহামারি থেকে বাঁচার জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে পলায়ন করেছিল। কিন্তু এতে তারা মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে পারেনি। এ ঘটনা থেকে আমরা শিক্ষা পাই যে, মানুষের কোনো চেষ্টা-প্রচেষ্টাই তাকে তাকদিরের ফয়সালা থেকে বাঁচাতে পারে না। দ্বিতীয় ঘটনা বনি ইসরাইল ও হজরত তালুতের, যার নেতৃত্বে জিহাদের গুণাবলিতে পরিপূর্ণ ছোট্ট দল অনেক বড় বাহিনীকে পরাজিত করেছিল। এই ঘটনা শুধু বনি ইসরাইলের কিছু বিশেষ ব্যক্তিই জানত। উম্মি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে ইতিহাসের এই বিস্মৃত দাস্তানের বর্ণনা দেওয়াই বলে দেয় যে, তার সম্পর্ক সে মহান সত্তার সাথে, যার দৃষ্টি থেকে ইতিহাসের সামান্য থেকে সামান্যতর বিষয়ও এড়িয়ে যেতে পারে না। রিসালাত ও নবুওয়াত এবং রাসুল ও নবীঃ  সুরা বাকারায় শরিয়তের  নবুওয়াত ও রিসালাতের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। এখানে তৃতীয় পারায় বিভিন্ন নবীকে যেসব বৈশিষ্ট্য প্রদান করা হয়েছিল তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ  কোনো নবীকে নেতৃত্ব প্রদান করা হয়েছিল। কোনো নবীকে কোনো মাধ্যম ছাড়াই আল্লাহর সাথে কথোপকথনের মর্যাদা প...

সুরা বাকারা: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ২.২

কেবলা পরিবর্তন ও মুশরিকদের আপত্তি রাসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় যাওয়ার পর প্রায় ষোলো মাস বাইতুল মাকদিসের অভিমুখী হয়ে নামাজ পড়েছেন। কিন্তু তার মনের ইচ্ছা ছিল কাবাকে যেন মুসলমানদের কেবলা বানানো হয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতেই কেবলা পরিবর্তনের হুকুম অবতীর্ণ হয়। এরপর মুশরিক ও মুনাফিকরা বিভিন্ন ভিত্তিহীন আপত্তি ওঠাতে থাকে। তারা খুব আশ্চর্য হয়ে বলত "তারা যে দিকে মুখ করে ইবাদত করত তাদেরকে সেই কেবলা থেকে কোন জিনিস ফিরিয়ে দিলো!' কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটা ছিল তাদের হঠকারিতামূলক আপত্তি। আল্লাহ তায়ালা তার নবীকে বলেন, 'আপনি তাদের বলে দিন পূর্ব-পশ্চিম সকল দিকই আল্লাহর।' আল্লাহর ইচ্ছা, তিনি যেদিককে চান তাকেই কেবলা বানাতে পাবেন। যেন এটা বলা হল যে, সকল দিকই আল্লাহর অধীন। তাই কেবলা পরিবর্তনের ব্যাপারে তাদের এসব আপত্তি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।  প্রকৃত পুণ্যের মানদণ্ড: কেবলা পরিবর্তন সংক্রান্ত আলোচনায়  এক চূড়ান্ত নাতি বলে দেওয়া হয়েছে, সাওয়াবের মানদণ্ড পূর্ব-পশ্চিম নয়; বরং তার মানদণ্ড হচ্ছে আকিদা-বিশ্বাস, আমল-আখলাক ও লেনদেন; সর্বক্ষ...

সুরা বাকারা: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ২.১

এ সুরায়  হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের কথা আলোচনা করা হয়েছে যাকে ইহুদি এবং খ্রিস্ট্রান উভয় সম্প্রদায়ই স্বীকার করে থাকে এবং গর্বের সাথে নিজেদেরকে হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে থাকে । অথচ এ দাবিতে সত্যবাদী হলে অবশ্যই তারা আমাদের রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করত।  আল্লাহ তায়ালা হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে বিভিন্ন প্রকার বিপদ ও পরীক্ষায় নিপতিত করেছিলেন এবং তিনি সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। মূর্তিপূজার কারণে পিতার প্রতি অসন্তুষ্টি, , আগুনে নিক্ষেপ, মরুভূমিতে স্ত্রী-সন্তানকে রেখে আসা, প্রাণপ্রিয় সন্তানকে নিজ হাতে কোরবান করতে উদ্যোগী হওয়া—সকল ক্ষেত্রেই তিনি দৃঢ় ও অবিচল ছিলেন। এ দৃঢ়তার কারণেই তার দোয়া কবুল হয়েছে। মক্কা এক নিরাপদ শহরে পরিণত হয়েছে এবং অধিবাসীদের দান করা হয়েছে ফল ফলাদির রিজিক। আর  ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সব চেয়ে বড় দোয়াটিও কবুল হয়েছে, সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তায়ালা কুরাইশ বংশে পাঠিয়েছেন।  হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের মিল্লাতে ইবরাহিমি থেকে শুধু সেই ব্যক্তি বিমুখ হতে পারে, যে দুর্...

সুরা বাকারা: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ১.৪

এ সুরায় হযরত আদম আলাইহিস সালাম ও হাওয়া আলাইহিস সালামের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে, যা ঘটেছিল অভিশপ্ত ইবলিসের সাথে।  আদম আলাইহিস সালামকে পৃথিবীতে  খেলাফত প্রদান করা হয়েছিল এবং এমন ইলম দেয়া হয়েছিল যা ফেরেশতাদের ও ছিল না। খেলাফতের মসনদে আসীন হওয়ার সকল আদম সন্তান এই ব্যাপারে আদিষ্ট যে, পৃথিবীতে তারা আল্লাহর বিধান কায়েম করবে এবং আল্লাহর মর্জি অনুযায়ী পৃথিবী চালাবে।  কোরআনুল কারিমের বহু স্থানে বনি ইসরাইলের আলোচনা এসেছে। কিন্তু সবচেয়ে বিস্তারিত আলোচনা এসেছে সুরা বাকারায়। প্রথম পারার প্রায় পুরোটা জুড়েই তাদের আলোচনা। বনি ইসরাইলকে জাহেরি- বাতেনি, দীনি ও দুনিয়াবি অসংখ্য নেয়ামত প্রদান করা হয়েছিল। যেমন : তাদের বংশ থেকে বহু নবী-রাসুল জন্ম লাভ, তাদেরকে পার্থিব সচ্ছলতা প্রদান করা, তাওহিদ ও ঈমানের আকিদার নেয়ামত দেওয়া এবং ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।  সিনাই মরুভূমিতে যখন তারা সহায় সম্বলহীন ছিল তখন তাদের জন্য মান্না ও সালওয়ার, ছায়ার জন্য শীতল মেঘ, পাথর থেকে ১২টি ঝরনার প্রবাহিত করা হয়েছিল। এত নিয়ামতের পরও তারা শুকরিয়া আদায় করেনি বরং নেয়ামতকে অস্বীকার করে গুনাহে মত্ত...

সুরা বাকারা: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ১.৩

বিশ্বাসের দিক থেকে মানুষ তিন প্রকার। মুমিন, কাফের ও মুনাফিক। মুমিনের ৫ টি গুণ রয়েছে। ৫ টি গুণ নিন্মরূপঃ  ১। পঞ্চেন্দ্রিয়ের মাধ্যমের যে সকল বিষয় অনুভব করা যায় না যেমন জান্নাত, জাহান্নাম, হাশর, মীযান এগুলোর উপর পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন (ঈমান বিল গাইব)  ২। সকল শর্ত ও আদবের প্রতি খেয়াল রেখে সালাত আদায় করা (ইকামাতে সালাত)  ৩। পবিত্র কোরআনে সালাত ও যাকাতের কথা একসাথেই এসেছে। সালাত হচ্ছে আল্লাহর হক আর যাকাত হচ্ছে বান্দার হক। এই উভয় প্রকার হক আদায় না করা পর্যন্ত মানুষের ঈমান পূর্ণতা পায়না ৪। পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদের উপর নাযিলকৃত সকল আসমানী কিতাব  এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর নাযিলকৃত আসমানী কিতাবের উপর ইমান আনা ৫। আখেরাতের উপর বিশ্বাস স্থাপন  এই সুরায় মুনাফিকদের বারোটি বদ-অভ্যাসের কথা তুলে ধরা হয়েছে। মুসলনানদের জন্য এই বদ-অভ্যাস থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখা জরুরি। বদ-অভ্যাসগুলো এই মিথ্যা, ধোঁকা, অনুভূতিহীনতা, অন্তরের ব্যাধি— (হিংসা, অহংকার, লোভ প্রভৃতি) চক্রান্ত, প্রতারণা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা, বিধানের প্রতি অবজ্ঞা, পৃথিবীতে ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি, মূর্খতা, ভ্রষ্ট...

সুরা বাকারা: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ১.২

আল কুরআনের সবচেয়ে দীর্ঘতম এই সুরাটিতে গাভী জবাই করার ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে তাই এই সুরার নাম বাকারা(গাভী)। এই সুরায় হয়রত মুসা আলাইহিস সালামের মাধ্যমে একটি গাভী জবাই করে তার গোশতের কিছু অংশ মৃত বাক্তির শরীরে স্পর্শ করার মাধ্যমে মৃত বাক্তিটি জীবিত হয়ে ওঠে এবং হত্যাকারীর নাম বলে দেয়। এছাড়াও উপস্থিত জনতার মধ্যে একপক্ষ মৃত্যু পরবর্তী জীবনকে অস্বীকার করত । ফলে  নিহত বাক্তির এই পুনরায় জীবিত হওয়ার মাধ্যমে শুধু হত্যাকারীর নাম জানা গেলো না বরং মৃত্যু পরবর্তী জীবনের ব্যাপারেও একটি চাক্ষুষ দলিল হয়ে রইল।  রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্থায়ী মুজিজা কোরানুল কারিমের মাধ্যমে এ সুরার সূচনা হয়েছ। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বহু বস্তুগত এবং অবস্তুগত মুজিজার মধ্যে সবচেয়ে বড় মুজিজা হচ্ছে ইলম বা জ্ঞান। এ সুরার সূচনা আলিফ-লাম-মিম তথা হরফে মুকাত্তায়াত দ্বারা যা আরবদের জন্য সম্পূর্ণ অভিনব ছিল। এর ফলে তাঁরা বাধ্য হয়ে কোরআনের প্রতি মনোনিবেশ করে এবং তার আলোচনা শুরু করে। হরফে মুকাত্তায়াত দ্বারা শুরু হওয়া সুরাসমূহে কোরআনের শ্রেষ্ঠত্ব ও তার সত্যতারও আলোচনা এসেছে।  বইঃ খোলাসাতুল কোরআন...

সুরা ফাতিহা: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ১.১

আল কুরআনের প্রথম সুরা, ফাতিহায় গোটা কোরাআনের মৌলিক উদ্দেশ্যে উঠে আসায় একে উম্মুল কোরআন, আসাসুল কোরআনও বলা হয়।  কোরআনের মৌলিক ৩টি বিষয় তাওহিদ, রিসালাত ও আখিরাতের কথার সবগুলোই এই সুরায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ সুরায় আল্লাহ তায়ালার নাম ও গুণাবলি, তার ইবাদাত, তার কাছে সাহায্য প্রার্থণা, তার পথে অবিচলতা ও তার কাছেই হেদায়েত চাওয়ার বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।  একদিকে নবী ও নেককারদের কথা আলোচনা করা হয়েছে, অন্যদিকে নিজের জ্ঞান ও আদর্শগত ভ্রান্তির কারণে আল্লাহর গজব ও আজাব প্রাপ্ত সম্প্রদায়ের ভ্রষ্ট পথ থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুরা ফাতেহা এক অতুলনীয় দোয়া যাতে বাকি ১১৩ সুরার ঝলক প্রতিফলিত হয়েছে। বইঃ খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা)  লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আসলাম শেখোপুরী রহমাতুল্লাহ অনুবাদঃ মুজাহিদুল মাইমুন পৃষ্ঠাঃ ২৮

নববর্ষ উদযাপন সম্পর্কে

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার ভাই ও বোনেরা আর কিছু দিন বাকি আছে নতুন বছর প্রাক্কালের একজন প্রশ্ন করেছেন যে, একজন মুসলমানের কাছে নতুন বছরের শুরু কী অর্থ বহন করে?  সত্যি বলতে এটা আসলে কিছুই না। ইসলামে এর কোনো ভিত্তি নেই । কোনো আকারে বা কোনো রূপে । আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ সা: আমাদেরকে কিছু উদযাপনের দিন দিয়ে গিয়েছেন। তিনি আমাদেরকে দিয়েছেন ঈদুল ফিতর, যেটি হলো রহমতের রামাদান মাসের পর। তিনি আমাদেরকে দিয়েছেন ঈদুল আযহা, যেটি হলো হজের পর। এবং আমাদের আছে প্রতি শুক্রবার, তথা জুমুয়ার দিন, খুতবার দিন। এটিও মুসলিমদের জন্য ঈদ তথা উদযাপনের দিন। সুতরাং আমার ভাই ও বোনেরা আমরা তাহলে এই নববর্ষের রাতে কি করবো?  সংক্ষেপে বলি, এটা থেকে দূরে থাকুন। এটি উদযাপনের কিছু না। এমন কোথাও যাবেন না যেখানে এই রাতটি উদযাপন করা হবে। জনসমাগম থেকে দূরে থাকুন।  আল্লাহর নারাজ হওয়ার কারণ তথা অশ্লীলতা, মাদকদ্রব্য, গান বাজনা সবকিছু থেকে দূরে থাকুন। আমার ভাই ও বোনেরা যদি এই রাতের সামান্য গুরুত্বও থাকতো তাহলে আমি আপনাকে এবং নিজেকে বলতাম নতুন বছর এর এই রাত আপনার আমার জীবনের প্রতিফলনের রাত।  নিজের জীবনের...

আঘাত না পেলে বিজয়ের আনন্দ কখনই উপভোগ করা যায় না।

ধৈর্য ধরো বাবা। ব্যথা সবসময় ক্ষণস্থায়ী। আঘাত না পেলে বিজয়ের আনন্দ কখনই উপভোগ করা যায় না। কষ্ট পেতে হয় বলেই বিজয়ের আনন্দ, দীর্ঘস্থায়ী হয়। যদি ব্যথায় স্বর্গসুখ না পাওয়া যেত। তাহলে "আল্লাহ" কেন তার প্রিয় বান্দাকে সবচেয়ে বেশি ব্যথা দিবেন? ব্যথা হচ্ছে আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা। বাণীতেঃ ইবনে আরাবী তথ্যসুত্রঃ https://www.facebook.com/watch/?v=1015461659413270 মূলঃ  দিরিলিস আরতুগ্রুল সিরিজ (তুরস্ক)