এ সুরায় দস্তরখানের কথা আলোচনা করা হয়েছে দেখে এই সুরার নামকরন মায়েদা করা হয়েছে। এটি সর্বশেষ নাজিলকৃত সুরা। এখানে যেসব ঘটনা, মাসআলা ও বিধান উল্লেখ করা হয়েছে, নিম্নে প্রদত্ত হল :
এ সুরার একটি আয়াত বিদায় হজের সময় নাজিল হয়েছে যাতে দীন পূর্ণ হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ সুরায় মুমিনদের অঙ্গীকার পূরণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কোনোকিছু হালাল কিংবা হারাম ঘোষণা দেওয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহ তায়ালার। আল্লাহ তায়ালার অজু ও গোসলের নেয়ামত দান করেছেন। সপ্তম রুকুতে ইহুদীদের ভীরুতা, ফাসাদ সৃষ্টি ও অহংকার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এ সুরায় হাবিল ও কাবিলের ঘটনাও বর্ণনা করা হয়েছে। ডাকাত, রাষ্ট্রদোহী ও বিশৃঙ্খলাকারীদের শাস্তির কথা আলোচনা করা হয়েছে।
দশম রুকুতে পুরুষ চোর ও নারীদের হাত কেটে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরপর দুই ফেতনাবাজ সম্প্রদায় মুনাফিক ও ইহুদিদের কথা আলোচনা করা হয়েছে। এ সুরায় হেদায়াত ও গোমরাহির মধ্যে পার্থক্যকারী কোরআনের আলোচনা করা হয়েছে। এরপর ইহুদী ও খ্রিস্টানদের সাথে অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব নিষেধ করা হয়েছে বরং সত্যিকারের মুমিনদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ার হুকুম দেয়া হয়েছে। ইহুদী ও খ্রিস্টানদের ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে ও প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। ষষ্ঠ পারার শেষ রুকুতে ইহুদীদের উপর আল্লাহ লানত বর্ষিত হওয়ার কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এই সুরাতেই উল্লেখ করা হয়েছে ইহুদী ও মুশরিকরা মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দুশমন।
এখানে যেসব মাসআলা ও বিধান উল্লেখ করা হয়েছে, নিম্নে প্রদত্ত হল :
১. কোনোকিছু হালাল কিংবা হারাম ঘোষণা দেওয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহ তায়ালার।
২. মদ, জুয়া, দাবাখেলা ও মূর্তি সম্পূর্ণ হারাম এবং শয়তানি কাজ। শয়তান এর মাধ্যমে মুমিনদের অন্তরে ঘৃণা ও শত্রুতার বীজ বপন করে। তাদের আল্লাহর স্মরণ এবং নামাজ থেকে গাফেল করে রাখে।
৩. ইহরামের আলোচনা প্রসঙ্গে কাবা শরিফ ও হারাম শরিফের আলোচনা করা হয়েছে। কাবার একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা কাবা শরিফ এবং তার চারপাশের এলাকাকে নিরাপদ বলে ঘোষণা করেছেন।
৪ এ সূরায় কেয়ামত দিবসের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
বইঃ খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা)
লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আসলাম শেখোপুরী রহমাতুল্লাহ
অনুবাদঃ মুজাহিদুল মাইমুন
পৃষ্ঠাঃ ৭৭-৮৮
Comments
Post a Comment