কেবলা পরিবর্তন ও মুশরিকদের আপত্তি
রাসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় যাওয়ার পর প্রায় ষোলো মাস বাইতুল মাকদিসের অভিমুখী হয়ে নামাজ পড়েছেন। কিন্তু তার মনের ইচ্ছা ছিল কাবাকে যেন মুসলমানদের কেবলা বানানো হয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতেই কেবলা পরিবর্তনের হুকুম অবতীর্ণ হয়।
এরপর মুশরিক ও মুনাফিকরা বিভিন্ন ভিত্তিহীন আপত্তি ওঠাতে থাকে। তারা খুব আশ্চর্য হয়ে বলত "তারা যে দিকে মুখ করে ইবাদত করত তাদেরকে সেই কেবলা থেকে কোন জিনিস ফিরিয়ে দিলো!' কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটা ছিল তাদের হঠকারিতামূলক আপত্তি।
আল্লাহ তায়ালা তার নবীকে বলেন, 'আপনি তাদের বলে দিন পূর্ব-পশ্চিম সকল দিকই আল্লাহর।' আল্লাহর ইচ্ছা, তিনি যেদিককে চান তাকেই কেবলা বানাতে পাবেন। যেন এটা বলা হল যে, সকল দিকই আল্লাহর অধীন। তাই কেবলা পরিবর্তনের ব্যাপারে তাদের এসব আপত্তি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
প্রকৃত পুণ্যের মানদণ্ড:
কেবলা পরিবর্তন সংক্রান্ত আলোচনায় এক চূড়ান্ত নাতি বলে দেওয়া হয়েছে, সাওয়াবের মানদণ্ড পূর্ব-পশ্চিম নয়; বরং তার মানদণ্ড হচ্ছে আকিদা-বিশ্বাস, আমল-আখলাক ও লেনদেন; সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর প্রতি মনোনিবেশ করা। আল্লাহ তায়ালাকে সন্তুষ্ট করার জন্য শুধু চেহারাই নয়; বরং অন্তর ও গোটা জিন্দেগির পথের রোগ পরিবর্তন করা আবশ্যক।
বইঃ খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা)
লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আসলাম শেখোপুরী রহমাতুল্লাহ
অনুবাদঃ মুজাহিদুল মাইমুন
পৃষ্ঠাঃ ৩৫-৩৬
Comments
Post a Comment