এ সুরায় হযরত আদম আলাইহিস সালাম ও হাওয়া আলাইহিস সালামের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে, যা ঘটেছিল অভিশপ্ত ইবলিসের সাথে। আদম আলাইহিস সালামকে পৃথিবীতে খেলাফত প্রদান করা হয়েছিল এবং এমন ইলম দেয়া হয়েছিল যা ফেরেশতাদের ও ছিল না। খেলাফতের মসনদে আসীন হওয়ার সকল আদম সন্তান এই ব্যাপারে আদিষ্ট যে, পৃথিবীতে তারা আল্লাহর বিধান কায়েম করবে এবং আল্লাহর মর্জি অনুযায়ী পৃথিবী চালাবে।
কোরআনুল কারিমের বহু স্থানে বনি ইসরাইলের আলোচনা এসেছে। কিন্তু সবচেয়ে বিস্তারিত আলোচনা এসেছে সুরা বাকারায়। প্রথম পারার প্রায় পুরোটা জুড়েই তাদের আলোচনা। বনি ইসরাইলকে জাহেরি- বাতেনি, দীনি ও দুনিয়াবি অসংখ্য নেয়ামত প্রদান করা হয়েছিল। যেমন : তাদের বংশ থেকে বহু নবী-রাসুল জন্ম লাভ, তাদেরকে পার্থিব সচ্ছলতা প্রদান করা, তাওহিদ ও ঈমানের আকিদার নেয়ামত দেওয়া এবং ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
সিনাই মরুভূমিতে যখন তারা সহায় সম্বলহীন ছিল তখন তাদের জন্য মান্না ও সালওয়ার, ছায়ার জন্য শীতল মেঘ, পাথর থেকে ১২টি ঝরনার প্রবাহিত করা হয়েছিল। এত নিয়ামতের পরও তারা শুকরিয়া আদায় করেনি বরং নেয়ামতকে অস্বীকার করে গুনাহে মত্ত হয়েছিল। এতো পাপাচার সত্ত্বেও তারা নিজেদের মনে করত জান্নাতের একমাত্র ঠিকাদার। তারা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলত, জান্নাতে শুধু তারাই যাবে, যারা ইহুদি হবে। অনুরূপ দাবি খ্রিস্ট্রানও করত।
বইঃ খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা)
লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আসলাম শেখোপুরী রহমাতুল্লাহ
অনুবাদঃ মুজাহিদুল মাইমুন
পৃষ্ঠাঃ ৩০-৩২
Comments
Post a Comment