এ সূরায় তিনটি শিক্ষণীয় ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনাই অস্বাভাবিক ও আশ্চর্যজনক, যার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার মহত্ত্ব বুঝে আসে।
প্রথম ঘটনাঃ
হজরত মারিয়াম আলাইহাস সালামের পিতা হজরত ইমরান আলাইহিস সালান আল্লাহ তায়ালার নেককার বান্দা ছিলেন, তার স্ত্রী হান্না বিনতে ফাকুজ অত্যন্ত বিদ্বান ও নেককার নারী ছিলেন। দীর্ঘকাল পর্যন্ত তার কোনো সন্তান হচ্ছিল না। একদিন তিনি (হান্না বিনতে ফাকুজ) একটি পাখি দেখলেন যে, সে তার বাচ্চাকে খাবার খাওয়াচ্ছে। এই দৃশ্য দেখে তার মনে নাড়া দেয়। সন্তান লাভের আশা জেগে ওঠে। আল্লাহ তায়ালার নিকট দোয়া করেন যে, যদি আল্লাহ তাকে কোনো সন্তান দেন তা হলে তাকে বাইতুল মাকদিসের খেদমতে ওয়াকফ করে দেবেন। আল্লাহ তায়ালা তার দোয়া কবুল করেন। তার এক কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। আল্লাহ তায়ালা পূর্বের রীতির বিপরীতে ইমরানের স্ত্রীর মানত কবুল করে নেন।
তৎকালীন যুগের উত্তম ব্যক্তি হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালামকে এ মেয়ের ভরণ-পোষণ ও দেখাশোনার জন্য নির্বাচন করেন। হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালাম একদিন তাকে অসময়ে ফল (মৌসুমি ফল নয়) খেতে দেখে জিজ্ঞেস করেন, মারিয়াম, তোমার কাছে এই রিজিক কোত্থেকে এলো? তিনি উত্তর দেন যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে। নিশ্চয় তিনি যাকে চান তাকে অগুনতি রিজিক দান করেন।'
দ্বিতীয় ঘটনাঃ
নিষ্পাপ মেয়ের ঈমানি জবাব শুনে হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালানের অন্তর সন্তানের জন্য ব্যকুল হয়ে ওঠে। অথচ তার বয়স একশরও বেশি ছিল। স্ত্রীও ছিল বৃদ্ধ। বাহ্যিক উপকরণ না থাকা সত্ত্বেও অত্যন্ত বিনয়াবনত হয়ে তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন যে, হে আমার প্রতিপালক, আপনি আপনার একান্ত অনুগ্রহে আমাকে নেককার সন্তান দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি দোয়া কবুলকারী। আল্লাহ তায়ালা ভগ্ন হৃদয়ের দোয়া কবুল করেন। আল্লাহ তাকে এক সন্তানের সুসংবাদ দান করেন।
তৃতীয় ঘটনাঃ
হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের জন্ম হচ্ছে তৃতীয় শিক্ষণীয় বিষয়। যদি হজরত মারিয়াম আলাইহাস সালাম ও ইয়াহইয়া আলাইহিস সালামের জন্মগ্রহণের ঘটনায় বিস্ময়কর ও আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন থেকে থাকে, কেননা তাদের উভয়ের পিতাই ছিলেন বৃদ্ধ, তা হলে হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের বিষয়টি আরও অধিক বিস্ময়কর। কেননা পিতা ছাড়া অলৌকিকভাবে তার জন্ম হয়েছিল। ফেরেশতারা যখন মারিয়াম আলাইহাস সালামকে সন্তান জন্মের সংবাদ দেয় তখন তিনি আশ্চর্য হয়ে বলেছিলেন, কীভাবে আমার সন্তান হবে; অথচ কোনো পুরুষ আমাকে স্পর্শ করেনি।
আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে উত্তর দেওয়া হয়েছে এভাবেই, আল্লাহ যা চান তা সৃষ্টি করেন। যখন তিনি কোনো কাজের ফয়সালা করেন তখন তিনি বলেন, হয়ে যাও আর তা হয়ে যায়।
ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তায়ালা বহু মুজিজা দান করেছিলেন। কিন্তু এসব মুজিজা দেখা সত্ত্বেও ইহুদিদের ঈমান আনার সৌভাগ্য হয়নি; বরং তারা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাকে তাদের হাত থেকে রক্ষার ফয়সালা করেছিলেন। সকলেই জানে যে, আল্লাহ তায়ালার ফয়সালা বাস্তবায়িত হয়েছিল। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'তারা চক্রান্ত করেছিল। আল্লাহ কৌশল অবলম্বন করেছিলেন আর আল্লাহ হচ্ছেন সর্বোত্তম কৌশল প্রণয়নকারী।'
বইঃ খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা)
লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আসলাম শেখোপুরী রহমাতুল্লাহ
অনুবাদঃ মুজাহিদুল মাইমুন
পৃষ্ঠাঃ ৫৩-৫৬
Comments
Post a Comment