এছাড়াও সুরা নিসাতে আরও যেসব বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছেঃ
১. তৃতীয় রুকুতে পারিবারিক ব্যবস্থা ঠিক রাখার জন্য কিছু মৌলিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথম নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, ঘরের জিম্মাদার পুরুষ।
দ্বিতীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, নারী যদি অবাধ্য ও বদমেজাজি হয় তা হলে তাকে সঠিক পথে আনার জন্য তিনটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।এগুলো হলো:
১। তাকে বোঝানো হবে, ২। তাকে বিছানা থেকে আলাদা করে দেওয়া হবে, ৩। চূড়ান্ত অবাধ্যতার ক্ষেত্রে সীমার মধ্যে থেকে প্রহার করা হবে।
২. পঞ্চম রুকুতে সমাজ-জীবন ঠিক রাখার জন্য সকল কাজেই ইহসান অবলম্বনের বিধান দেওয়া হয়েছে। এটা বলা হয়েছে যে, ইহসানের ভিত্তি হচ্ছে পরপর কল্যাণকামিতা, আমানত, ইনসাফ ও সহানুভূতি।
৩. সপ্তম রুকুতে মুসলমানদের জিহাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ত বিশুদ্ধ রাখতে, শুধু আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি এবং তার দীনকে উঁচু করার জন্য জিহাদ করতে বলা হয়েছে।
৪. জিহাদের ব্যাপারে মুসলমানদের উৎসাহ দেওয়ার পর মুনাফিকদের সম্পর্কে সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৫. (ইচ্ছাকৃত বা ভুলে) কোনো মুমিনকে হত্যা করার শাস্তি বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, হয়েছে, 'যদি কোনো মুসলমান জেনে-বুঝে অপর কোনো মুসলমানকে হত্যা করে তা হলে তার শাস্তি হচ্ছে জাহান্নাম। যে সর্বদা সেখানে থাকবে। তার উপর আল্লাহ তায়ালা গজব নাজিল করবেন ও তাকে লানত করবেন। আর তার জন্য আল্লাহ তায়ালা মহাশাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।
৬. এরপর দ্বিতীয়বারের মতন জিহাদের গুরুত্ব ও মুজাহিদদের ফজিলত আলোচনা করা হয়েছে।
৭. এরপর হিজরতের আলোচনা করা হয়েছে।
৮.বারোতম রুকুতে সালাতুল খাওফ (ভীতিকর অবস্থার নামাজ)' এবং মুসাফিরের নামাজের আলোচনা করা হয়েছে।
৯. মানুষদের অবাধ্যতার কারণ বলা হয়েছে, তারা আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানের অনুসরণ করে। শয়তান তাদেরকে সঠিক পথ থেকে বহুদূরে নিয়ে যায়।
১০. এরপর নবীদের পিতা হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের আলোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যে-ব্যক্তি তার পথ অনুসরণ করবে সে-ই এ হেদায়েত পাবে।
১১. ষোলোতম রুকুতে দ্বিতীয়বার নারীদের আলোচনা করা হয়েছে। এতে তাদের উপর অত্যাচার করার এবং তাদের অধিকার হরণ করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে।
১২. পঞ্চম পারার শেষরুকুতে দ্বিতীয়বার মুনাফিকদের নিন্দা করা হয়েছে। তাদের প্রতি শাস্তির ধমক উচ্চারণ করা হয়েছে।
বইঃ খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা)
লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আসলাম শেখোপুরী রহমাতুল্লাহ
অনুবাদঃ মুজাহিদুল মাইমুন
পৃষ্ঠাঃ ৬৭-৭৪
Comments
Post a Comment