এ সুরায় হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের কথা আলোচনা করা হয়েছে যাকে ইহুদি এবং খ্রিস্ট্রান উভয় সম্প্রদায়ই স্বীকার করে থাকে এবং গর্বের সাথে নিজেদেরকে হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে থাকে । অথচ এ দাবিতে সত্যবাদী হলে অবশ্যই তারা আমাদের রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করত।
আল্লাহ তায়ালা হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে বিভিন্ন প্রকার বিপদ ও পরীক্ষায় নিপতিত করেছিলেন এবং তিনি সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। মূর্তিপূজার কারণে পিতার প্রতি অসন্তুষ্টি, , আগুনে নিক্ষেপ, মরুভূমিতে স্ত্রী-সন্তানকে রেখে আসা, প্রাণপ্রিয় সন্তানকে নিজ হাতে কোরবান করতে উদ্যোগী হওয়া—সকল ক্ষেত্রেই তিনি দৃঢ় ও অবিচল ছিলেন। এ দৃঢ়তার কারণেই তার দোয়া কবুল হয়েছে। মক্কা এক নিরাপদ শহরে পরিণত হয়েছে এবং অধিবাসীদের দান করা হয়েছে ফল ফলাদির রিজিক। আর ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সব চেয়ে বড় দোয়াটিও কবুল হয়েছে, সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তায়ালা কুরাইশ বংশে পাঠিয়েছেন।
হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের মিল্লাতে ইবরাহিমি থেকে শুধু সেই ব্যক্তি বিমুখ হতে পারে, যে দুর্ভাগা, বোকা ও প্রবৃত্তির গোলাম। যদিও ইহুদি এবং খ্রিস্ট্রান স্বীকার করে নিজেদেরকে হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সাথে সম্পৃক্ত করত। কিন্তু তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস ছিল যে, হানাফিয়াত অনুসরণের মধ্যে কোনো মুক্তি নেই টা তাদের এই হঠকারিতার পরোয়া না করতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের বিচার করবেন।
বইঃ খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা)
লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আসলাম শেখোপুরী রহমাতুল্লাহ
অনুবাদঃ মুজাহিদুল মাইমুন
পৃষ্ঠাঃ ৩২-৩৪
Comments
Post a Comment