Skip to main content

Posts

Showing posts from May, 2023

সুরা লোকমান: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ৩৬

সুরা লোকমানের শুরুতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চিরস্থায়ী মুজিজা— হেদায়েতের ঐশীবাণী কোরআনের মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে। কোরআনের ব্যাপারে মানুষ দুই দলে বিভক্ত হয়ে গেছে। একদল তার উপর ঈমান এনেছে। এর প্রতিটি কথা সত্যায়ন করেছে। দ্বিতীয় দল এ কোরআন অস্বীকার করেছে।  কুদরত ও একত্ববাদের চারটি দলিল উল্লেখ করেছেন।  প্রথম দলিল : তিনি খুটিবিহীন আকাশ সৃষ্টি করেছেন; অথচ তাতে উজ্জ্বল নক্ষত্র, চন্দ্র ও সূর্য রয়েছে।  দ্বিতীয় দলিল : আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর স্থিরতা দানের জন্য এতে অসংখ্য পাহাড় স্থাপন করেছেন।   তৃতীয় দলিল : পৃথিবীতে তিনি অসংখ্য চতুষ্পদ জন্তু, কীট-পতঙ্গ, শূন্য ও সমুদ্রে বসবাসকারী হাজার হাজার প্রাণী সৃষ্টি করেছেন, যাদের আকার-আকৃতি ও বৈশিষ্ট্য আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।   চতুর্থ দলিল : তিনি আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, যার মাধ্যমে অনেক মূল্যবান জিনিস উৎপন্ন হয়। এছাড়াও সুরা লোকমানে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে, নিম্নে তা উল্লেখ করা হল : হজরত লোকমান হাকিম ও পাঁচটি অসিয়ত: হজরত লোকমান হাকিম নবী ছিলেন না বটে; কিন্তু আল্লাহ ত...

সুরা রুম: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ৩৫

সুরা রুম কোরআন মাজিদের মুজিজা হওয়ার একটি বিষয় হল তার ভবিষ্যদ্বাণীসমূহ। এই সুরার শুরুতে এক ভবিষ্যদ্বাণীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তীতে যা অক্ষরের অক্ষরে বাস্তবায়িত হয়েছিল। রোমকদের বিষয় সম্পর্কে এই ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল। ভবিষ্যদ্বাণীটি বাস্তবতি হওয়া এক অস্বাভাবিক বিষয় ছিল। কেননা কোরআন যখন এই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, পারসিকরা তখন রোমকদের উপর পূর্ণরূপে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে বসেছিল।  রোমান সাম্রাজ্য মৃত্যুর দুয়ারে উপনীত ছিল। সীমান্ত অত্যন্ত নাজুক হওয়ার পাশাপাশি ভেতরগত অবস্থাও ছিল খুব করুণ। ইউরোপের দিকে দিকে বিদ্রোহ দানা বেঁধে উঠেছিল। রোমক সম্রাট হিরাক্লিয়াস শোচনীয় পরাজয় মুহূর্তে লাঞ্ছনাকর সন্ধি করতে বাধ্য হয়েছিল। যেহেতু তখন পারসিকরা মূর্তিপূজক ছিল আর রোমকরা আল্লাহর ইবাদত করত এ কারণে মক্কার মুশরিকরা পারসিকদের বিজয়ের খবর শুনে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায়। এই অবস্থায় কোরআন ভবিষ্যদ্বাণী করে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে রোমকরা পারসিকদের উপর বিজয়ী হবে।  সন্দেহ নেই কোরআনের ঘোষণা নিয়ে মুশরিকরা বহু ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছে। কিন্তু ঠিক নয় বছরের মাথায় কোরআনের এই ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হ...

সুরা আনকাবুত: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব  ৩৪

সুন্নাতুল ইবতিলা অন্যান্য মাক্কি সুরার মতো। এর আলোচ্য বিষয় হচ্ছে সুন্নাতুল ইবতিলা   অর্থাৎ মানব-জীবনে কষ্ট-মুসিবত, বিপদ-আপদ অবশ্যই আসা। মক্কি জীবনে মুসলমানদের বিভিন্ন ধরনের কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। বিপদ- আপন যখন একের পর এক লেগেই ছিল, তা আর থামছিল না, তখন কিছু সাহাবি ঘাবড়ে যান। তাদেরকে বোঝানোর জন্য বলা হয়েছে, মুমিনদের পরীক্ষা করা আল্লাহ তায়ালার রীতি।  এর মাধ্যমে সত্য ও মিথ্যা এবং প্রকৃত মুমিন ও মুনাফিকের মাঝে পার্থক্য হয়ে যায়। মুমিনকে বড় বড় বিপদের সামনেও অবিচল থাকতে দেখা যায়। আর মুখে মুখে ঈমানের দাবিদারদের পা তখন পিছলে যায়। তাদের অনেকে দুনিয়াবি কষ্ট-মুসিবত থেকে বাঁচার জন্য মুরতাদ পর্যন্ত হয়ে যায়। মুমিনদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপদ নবীদের উপর এসেছে। এ কারণে এ সুরায় হজরত নুহ, হজরত ইবরাহিম, হজরত মুসা, হজরত হারুন আলাইহিমুস সালামের ঘটনা সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে। যেন মুমিনরা বুঝতে পারে হকপন্থীদের উপর বিপদ এসেই থাকে। তবে তা স্থায়ী হয় না। পরিশেষে তাদেরই বিজয় হয়। তাদের বিরোধিতাকারীরা নিপাত যায়। মুশরিকদের মূর্তিগুলোকে মাকড়সার সাথে তুলনা দেওয়া হয়েছে। যেমনভাবে মাকড়...

সুরা কাসাস: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব  ৩৩.২

হজরত মুসা ও ফেরাউনের ঘটনায় উল্লেখযোগ্য তিন ব্যক্তি রয়েছেন। হজরত মুসা আলাইহিস সালাম, বনি ইসরাইল ও ফেরাউন। আলোচ্য সুরায় ঘটনার কিয়দংশ উল্লেখ হয়েছে। পুরো ঘটনাটি গোটা কোরআনের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ রয়েছে। ঘটনা থেকে যেসব শিক্ষা ও উপদেশ হাসিল হয় তা মাওলানা হিফজুর রহমান সিওহারবি রহ. কাসাসুল কোরআনে উল্লেখ করেছেন। সর্বসাধারণের ফায়দার জন্য এখানে তার সারসংক্ষেপ উল্লেখ করা হল : ১. বিপদে-আপদে ধৈর্য ধারণ করলে দুনিয়া ও আখেরাতে তার উত্তম প্রতিদান পাওয়া যায়। ২. যে-ব্যক্তি সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর উপর ভরসা রাখে, আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই তার বিপদ দূর করে দেন। ৩. আল্লাহর সাথে যার প্রীতির সম্পর্ক গড়ে ওঠে, বাতিল যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তার কাছে তা অতি তুচ্ছ মনে হয়। ৪. যদি কোনো ব্যক্তি হকের পয়গাম নিয়ে দৃঢ়তার সাথে দাঁড়ায় তা হলে শত্রুদের মধ্য থেকেই তার সহযোগী তৈরি করে দেওয়া হয়। ৫. যার অন্তরে ঈমান গভীরভাবে স্থান লাভ করে, সে ঈমানের জন্য টাকা-পয়সা, অর্থকড়ি সব বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত হয়ে যায়। ৬.গোলামির সবচেয়ে বড় ক্ষতিকর দিক হচ্ছে, এতে মানুষের দৃঢ় সংকল্প ও ইচ্ছাশক্তি হারিয়ে যায় । ৭. পৃথিবীতে ক্ষ...

সুরা কাসাস: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ৩৩.১

হজরত মুসা ও ফেরাউনের ঘটনা এ সুরার অধিকাংশ স্থানে ফেরাউনের সাথে মুসা আলাইহিস সালামের যে ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল, তার আলোচনা করা হয়েছে। হরফে মুকাত্তায়াত—ত-সীন-মীম দ্বারা সুরাটি শুরু হয়েছে। এরপরই কোরআনের সত্যতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এরপর মুসা আলাইহিস সালামের ঘটনা শুরু হয়েছে। সুরা কাসাসের মাধ্যমে জানা যায়, মিসরের ফেরাউন অত্যন্ত দুরাচার ছিল।  জনগণ যাতে তার ক্ষমতার জন্য কাল হয়ে না দাঁড়ায় এজন্য সে বর্তমানকালের সাম্রাজ্যবাদী নীতিতে মিসরবাসীকে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীতে বিভক্ত করে রেখেছিল। মুসা আলাইহিস সালামের জন্ম হয়, তার মা অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি জানতেন ফেরাউনের বাহিনী যদি এ নবজাত শিশুর সন্ধান পেয়ে যায় তা হলে তাকে বাঁচিয়ে রাখবে না। তখন আল্লাহ তায়ালা তার অন্তরে ইলহাম করেন। সেই অনুযায়ী তিনি একটি সিন্দুক তৈরি করেন। প্রিয় কলিজার টুকরা সন্তানকে সিন্দুকে রেখে তা নীলনদে ভাসিয়ে দেন। পানির ঢেউয়ে দুলতে দুলতে সিন্দুকটি ফেরাউনের সেবিকাদের হাতে পড়ে। সেবিকারা সন্তানটি হজরত আসিয়ার (ফেরাউনের স্ত্রী) কোলে এনে দেয়। ফেরাউন নিষ্পাপ শিশুটিকে হত্যা করতে উদ্যত হয়; কিন্তু আল্লাহর ফয়সালা ছ...

সুরা নামল: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ৩২

নামকরণ এটি হরফে মুকাত্তায়াত ত-সীন দ্বারা শুরু হয়েছে। নামল অর্থ পিপীলিকা। এ সুরায় পিপীলিকার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে বিধায় একে সুরা নামল বলা হয়। বিশেষ তিনটি সুরা এই সুরার একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- এটি সেই তিন সুরার একটি, যা যেভাবে অবতীর্ণ হয়েছে সে ধারাবাহিকতায়ই কোরআনে স্থান পেয়েছে। তা হচ্ছে শুআরা, নামল ও কাসাস। হরফে মুকাত্তায়াতযুক্ত অন্যান্য সুরার ন্যায় এটিও কোরআনুল কারিমের শ্রেষ্ঠত্ব ও পরিচয়ের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। বলা হয়েছে, এ কিতাব মুমিনদের জন্য হেদায়েত। (১-৩) কয়েকজন নবীর ঘটনা  হজরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের ঘটনা কিছুটা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা মানবজাতি, জিনজাতি এবং পক্ষীকুলকে টি হজরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের অধীন করে দিয়েছিলেন। তিনি পাখিদের ভাষা বুঝতেন। তার যেসব অবস্থা আল্লাহ তায়ালা কোরআনে আলোচনা করেছেন, নিম্নে তার কিছু তুলে ধরা হল : হজরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম একদিন পিপীলিকার উপত্যকা দিয়ে লোক-লশকর নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি শুনতে পেলেন, এক পিপীলিকা অন্যান্য পিপীলিকাকে বলছে, তোমরা দ্রুত গর্তে ঢুকে পড়ো, যেন সুলাইমান আলাইহিস সালাম এবং তার বাহিনী অজান্তে তোম...

সুরা শুআরা: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ৩১

সবচেয়ে বড় নেয়ামত কোরআন সুরাটি হরফে মুকাত্তায়াত—ত-সীন-মীম দ্বারা শুরু হয়েছে। এরপর সবচেয়ে বড় নেয়ামত কোরআনের আলোচনা করা হয়েছে। কোরআনের বিধান উম্মতের নিকট পৌঁছানোর জন্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত উদগ্রীব ছিলেন। এমনকি তিনি এজন্য জীবনধ্বংসের ঝুঁকিও নিয়ে নিয়েছিলেন।  পক্ষান্তরে বিরোধীদের নিকট যখনই কোনো নসিহত ও হেদায়েত আসতো, তারা তা প্রত্যাখ্যান করত। আর এ প্রত্যাখ্যান করাকে তারা আবশ্যক দায়িত্ব মনে করত। বিভিন্ন নবীর ঘটনা এক. এরপর এ সুরায় বিভিন্ন নবীর ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথমে মুসা আলাইহিস সালামের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা তাকে নবুওয়াত প্রদান করে ফেরাউনের নিকট যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ পালনার্থে প্রভুত্বের দাবিদার ফেরাউনের নিকট যান। তখন তার ও ফেরাউনের মাঝে যে আলোচনা সংঘটিত হয় এ সুরায় তার কিয়দংশ তুলে ধরা হয়েছে।  ফেরাউন প্রথমে উলটাপালটা কথা বলেছে। কিন্তু মুসা আলাইহিস সালাম সে রাব্বুল আলামিনের পরিচয় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন। এরপর সে কঠোর হয়ে যায়। মুসা আলাইহিস সালামের নিকট মুজিজা দেখতে চায়। এ পরিপ্রেক...

সুরা ফুরকান: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ৩০

কোরআন ও সাহিবুল কোরআনের সত্যতা কোরআনের মহত্ত্বের আলোচনার মাধ্যমে এর সূচনা হয়েছে। এ কোরআনের ব্যাপারে মুশরিকরা বিভিন্ন আপত্তি উত্থাপন করত। এর আয়াতসমূহ মিথ্যা প্রতিপন্ন করত।  এরপর সাহিবুল কোরআন তথা রাসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। হঠকারী লোকেরা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করত। তাদের ধারণা ছিল, মানুষ কখনো নবী হতে পারে না। নবী হতে পারে কেবল ফেরেশতারাই।  আল্লাহ তায়ালা সুস্পষ্ট দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে তাদের ভ্রান্ত আপত্তি খণ্ডন করেছেন। উনিশতম পারার শুরুতেও মুশরিকদের দাবি এবং বিভিন্ন আপত্তি খণ্ডন করা হয়েছে।  আমল কবুল হওয়ার মৌলিক শর্ত—ঈমানই তাদের নেই, এ কারণে কেয়ামতের দিন তাদের কোনো আমলই তাদের কাজে আসবে না। সব ছাই হয়ে যাবে। সেদিনটি তাদের জন্য অত্যন্ত পেরেশানির দিন হবে। আক্ষেপবশত হাত কামড়াতে থাকবে। আর বলতে থাকবে, হায়, যদি আমরা নবীদের রাস্তা তারী অনুসরণ করতাম! সেদিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নিকট অভিযোগ করবেন, হে আমার প্রতিপালক, আমার সম্প্রদায় এ কোরআন পরিত্যাগ করেছিল। ইবনুল কাইয়িম রহ. বলেন, কোরআন পরিত্যাগের বিষয়টি কয়েকভাবে হতে...

সুরা নুর: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ২৯

 নুর (আলোকিত করে দেয়।) শব্দ ব্যবহৃত হওয়ায় একে সুরা নুর বলা হয়। এ সুরায় এমন আদব- শিষ্টাচার ও বিধি-বিধান বর্ণনা করা হয়েছে, যা সমাজ-জীবনকে নুরানি ও এর অধিকাংশ বিধান সুরায় যেসব বিধান উল্লেখ করেছেন, নিয়ে তা উল্লেখ করা হল : প্রথম ও দ্বিতীয় বিধান ব্যভিচারের শাস্তি সম্পর্কে। ব্যভিচারী নারী-পুরুষ যদি অবিবাহিত হয় তা হলে তাদের একশ বেত্রাঘাত করা হবে। আর যদি তারা বিবাহিত হয় তা হলে তাদেরকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করা।  তৃতীয় বিধানটি অপবাদ সংক্রান্ত। যদি কেউ কোনো বিবেকবান প্রাপ্তবয়স্ক পবিত্র চরিত্রের অধিকারী পুরুষ কিংবা নারীর উপর ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করে তা হলে তাকে বেত্রাঘাত করা হবে।  চতুর্থ বিধানটি স্বামী-স্ত্রীর জন্য। স্বামী যদি স্ত্রীর উপর অপবাদ আরোপ করে; এবং তার নিকট যদি চারজন সাক্ষী না থাকে তা হলে একে অপরের উপর লানত করবে। এরপর তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো হবে। পঞ্চম বিধানটিতে ইফকের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। ইফক অর্থ মিথ্যা অপবাদ। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার উপর কিছু মুনাফিক যখন অপবাদ আরোপ করে, তখন এ বিধান অবতীর্ণ হয়। এটা এক জঘন্য অপবাদ ছিল, সব ব্যক্তি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয...