সুন্নাতুল ইবতিলা
অন্যান্য মাক্কি সুরার মতো। এর আলোচ্য বিষয় হচ্ছে সুন্নাতুল ইবতিলা অর্থাৎ মানব-জীবনে কষ্ট-মুসিবত, বিপদ-আপদ অবশ্যই আসা।
মক্কি জীবনে মুসলমানদের বিভিন্ন ধরনের কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। বিপদ- আপন যখন একের পর এক লেগেই ছিল, তা আর থামছিল না, তখন কিছু সাহাবি ঘাবড়ে যান। তাদেরকে বোঝানোর জন্য বলা হয়েছে, মুমিনদের পরীক্ষা করা আল্লাহ তায়ালার রীতি।
এর মাধ্যমে সত্য ও মিথ্যা এবং প্রকৃত মুমিন ও মুনাফিকের মাঝে পার্থক্য হয়ে যায়। মুমিনকে বড় বড় বিপদের সামনেও অবিচল থাকতে দেখা যায়। আর মুখে মুখে ঈমানের দাবিদারদের পা তখন পিছলে যায়। তাদের অনেকে দুনিয়াবি কষ্ট-মুসিবত থেকে বাঁচার জন্য মুরতাদ পর্যন্ত হয়ে যায়।
মুমিনদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপদ নবীদের উপর এসেছে। এ কারণে এ সুরায় হজরত নুহ, হজরত ইবরাহিম, হজরত মুসা, হজরত হারুন আলাইহিমুস সালামের ঘটনা সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে। যেন মুমিনরা বুঝতে পারে হকপন্থীদের উপর বিপদ এসেই থাকে। তবে তা স্থায়ী হয় না। পরিশেষে তাদেরই বিজয় হয়। তাদের বিরোধিতাকারীরা নিপাত যায়।
মুশরিকদের মূর্তিগুলোকে মাকড়সার সাথে তুলনা দেওয়া হয়েছে। যেমনভাবে মাকড়সার জাল অত্যন্ত দুর্বল হয়ে থাকে, এ জাল মাকড়সাকেই শীত-গরম ও প্রচণ্ড বাতাসে কোনোকিছু থেকে রক্ষা করতে পারে না, তেমনিভাবে মুশরিকদের মুর্তিগুলো তাদেরকে কোনো ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে না। কোনো ধরনের উপকারও করতে পারে না।
একুশতম পারা সুরা আনকাবুতের যে অংশটুকু স্থান পেয়েছে, তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তুলে ধরা হল :
১. সুরা আনকাবুতের ৪৫তম আয়াতে আল্লাহর কিতাব তেলাওয়াত এবং নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নামাজের উপকারিতার কথা বলা হয়েছে, নামাজ মানুষকে নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতা থেকে বিরত রাখে। আল্লাহ তায়ালা যা বলেছেন তা-ই বাস্তব। যখন সকল শর্ত ও আদবের প্রতি লক্ষ রেখে নামাজ আদায় করা হয় তখন অবশ্যই তার উপকারিতা পাওয়া যায়। নামাজ তার ও গুনাহের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
২. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যবাদিতার সুস্পষ্ট নিদর্শন হচ্ছে তিনি উম্মি ছিলেন। পড়ালেখা জানতেন না। যদি তিনি লেখাপড়া জানতেন (উম্মি না হতেন) তা হলে বাতিলপন্থিরা তার ব্যাপারে সন্দেহ করত।
৩. বিরোধীদের অবস্থা উল্লেখ করার পর মুত্তাকিদের আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে হিজরত করার এবং দীনের পথে আসা বিপদ- আপদ সহ্য করার নির্দেশ দিয়েছেন। যারা স্বীয় মাতৃভূমি ছেড়ে দেয় তাদের অবশ্যই জীবন-জীবিকার ব্যাপারে চিন্তা এসে যায়। ভিনদেশে তারা কীভাবে খাবারদাবারের ব্যবস্থা করবে? এই কারণে সান্ত্বনা দিয়ে বলা হয়েছে, যে মহান সত্তা নিতান্ত দুর্বল প্রাণীদের খাবারের ব্যবস্থা করেন, তিনি তোমাদেরকে রিজিক দেবেন। তাই হিজরতের ক্ষেত্রে দরিদ্রতার ভয় করার কোনো কারণ নেই।
৪. বলা যেতে পারে, এ সুরার শেষআয়াতে আল্লাহ তায়ালা পুরো কোরআনের সারসংক্ষেপ উল্লেখ করে দিয়েছেন। বলা হয়েছে, 'যারা আমার জন্য চেষ্টা- প্রচেষ্টা করে আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার রাস্তা দেখাই। এবং নিঃসন্দেহে। আল্লাহ তায়ালা সংকর্মশালদের সাথে আছেন। যারা আল্লাহর সম্ভারে নফস ও শয়তানের সাথে জিহাদ করে, আল্লাহ তায়ালা দুনিয়া ও আখেরাতে তাদেরকে সফলতার রাজপথ পর্যন্ত পৌঁছার তাওফিক দিয়ে থাকেন।
বইঃ খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা)
লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আসলাম শেখোপুরী রহমাতুল্লাহ
অনুবাদঃ মুজাহিদুল মাইমুন
পৃষ্ঠাঃ ২০৫-২০৮
Comments
Post a Comment