কোরআন ও সাহিবুল কোরআনের সত্যতা
কোরআনের মহত্ত্বের আলোচনার মাধ্যমে এর সূচনা হয়েছে। এ কোরআনের ব্যাপারে মুশরিকরা বিভিন্ন আপত্তি উত্থাপন করত। এর আয়াতসমূহ মিথ্যা প্রতিপন্ন করত।
এরপর সাহিবুল কোরআন তথা রাসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। হঠকারী লোকেরা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করত। তাদের ধারণা ছিল, মানুষ কখনো নবী হতে পারে না। নবী হতে পারে কেবল ফেরেশতারাই।
আল্লাহ তায়ালা সুস্পষ্ট দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে তাদের ভ্রান্ত আপত্তি খণ্ডন করেছেন। উনিশতম পারার শুরুতেও মুশরিকদের দাবি এবং বিভিন্ন আপত্তি খণ্ডন করা হয়েছে।
আমল কবুল হওয়ার মৌলিক শর্ত—ঈমানই তাদের নেই, এ কারণে কেয়ামতের দিন তাদের কোনো আমলই তাদের কাজে আসবে না। সব ছাই হয়ে যাবে।
সেদিনটি তাদের জন্য অত্যন্ত পেরেশানির দিন হবে। আক্ষেপবশত হাত কামড়াতে থাকবে। আর বলতে থাকবে, হায়, যদি আমরা নবীদের রাস্তা তারী অনুসরণ করতাম! সেদিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নিকট অভিযোগ করবেন, হে আমার প্রতিপালক, আমার সম্প্রদায় এ কোরআন পরিত্যাগ করেছিল।
ইবনুল কাইয়িম রহ. বলেন, কোরআন পরিত্যাগের বিষয়টি কয়েকভাবে হতে পারে। যথা :
১. কোরআন না শোনা এবং তার উপর ঈমান না আনা।
২ . কোরআন তেলাওয়াত করা। তার উপর ঈমান আনা। কিন্তু তার উপর আমল না করা।
৩. বিবাদ-বিসংবাদে তাকে ফয়সালাকারী না মানা।
৪. কোরআনের অর্থ নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা না করা।
২. কোরআন দিয়ে অন্তরের রোগ দূর না করা।
মুশরিকরা এই আপত্তিও করত যে, তাওরাত-ইনজিল যেভাবে একত্রে অবতীর্ণ হয়েছে কোরআন কেন সেভাবে একসাথে অবতীর্ণ করা হল না?
অল্প অল্প করে অবতীর্ণ করার ফলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তর প্রতিনিয়ত কোরআনের নূর দ্বারা আলোকিত হয়ে থাকে। কোরআনের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে তার রুহ-অন্তর শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আমরা অনেকেই জানি যে, হঠাৎ প্রবল বর্ষণ হলে খেত-খামার ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু ধীরে ধীরে উপযোগী সময়ে বৃষ্টি হলে এতে অনেক উপকার হয়।
এরপর হজরত মুসা, হজরত হারুন, হজরত নুহ, হজরত হুদ, হজরত সালেহ আলাইহিমুস সালামের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও আল্লাহ তায়ালার ক্ষমতা ও একত্ববাদের দলিল উল্লেখ করা হয়েছে।
রহমানের বান্দাদের গুণাবলি
এই সুরার শেষে ইবাদুর রহমান তথা রহমানের বান্দাদের গুণাবলি বর্ণনা করা হয়েছে।
১. বিনয় (ভূমিতে নম্রভাবে চলাফেরা করা)।
২. মূর্খদের সাথে তর্কে না জড়ানো।
৩. রাতে নামাজ ও ইবাদত করা।
৪. জাহান্নানের শাস্তির ভয় (আল্লাহর কাছে তা থেকে মুক্তির দোয়া করে)।
৫. খরচের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন। অর্থাৎ অপচয় না করা আবার কার্পণ্যও না করা।
৬. শিরক থেকে পুরোপুরি বেঁচে থাকা।
৭. অন্যায়ভাবে হত্যা না করা।
৮. ব্যভিচার ও অপকর্ম থেকে বেঁচে থাকা।
৯. মিথ্যা সাক্ষ্য না দেওয়া।
১০. গান-বাজনা ও গুনাহের মজলিসে না যাওয়া।
১১. আল্লাহর কিতাব দ্বারা প্রভাবিত হওয়া। তার দ্বারা উপকৃত হওয়া।
১২. আল্লাহর নিকট চক্ষু শীতল করে এমন উত্তম স্ত্রী-সন্তানের জন্য দোয়া করা।
আমরা আল্লাহর নিকট দোয়া করি, দয়াময় আল্লাহ তায়ালা যেন স্বীয় অনুগ্রহে উল্লিখিত বারোটি গুণ আমাদেরকে দান করেন। আমরাও যাতে ইবাদুর রহমানের কাতারে শামিল হতে পারি।
বইঃ খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা)
লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আসলাম শেখোপুরী রহমাতুল্লাহ
অনুবাদঃ মুজাহিদুল মাইমুন
পৃষ্ঠাঃ ১৯০-১৯২
Comments
Post a Comment