Skip to main content

সুরা নামল: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ৩২

নামকরণ

এটি হরফে মুকাত্তায়াত ত-সীন দ্বারা শুরু হয়েছে। নামল অর্থ পিপীলিকা। এ সুরায় পিপীলিকার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে বিধায় একে সুরা নামল বলা হয়।

বিশেষ তিনটি সুরা

এই সুরার একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- এটি সেই তিন সুরার একটি, যা যেভাবে অবতীর্ণ হয়েছে সে ধারাবাহিকতায়ই কোরআনে স্থান পেয়েছে। তা হচ্ছে শুআরা, নামল ও কাসাস। হরফে মুকাত্তায়াতযুক্ত অন্যান্য সুরার ন্যায় এটিও কোরআনুল কারিমের শ্রেষ্ঠত্ব ও পরিচয়ের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। বলা হয়েছে, এ কিতাব মুমিনদের জন্য হেদায়েত। (১-৩)

কয়েকজন নবীর ঘটনা

 হজরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের ঘটনা কিছুটা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা মানবজাতি, জিনজাতি এবং পক্ষীকুলকে টি হজরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের অধীন করে দিয়েছিলেন। তিনি পাখিদের ভাষা বুঝতেন। তার যেসব অবস্থা আল্লাহ তায়ালা কোরআনে আলোচনা করেছেন, নিম্নে তার কিছু তুলে ধরা হল :


হজরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম একদিন পিপীলিকার উপত্যকা দিয়ে লোক-লশকর নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি শুনতে পেলেন, এক পিপীলিকা অন্যান্য পিপীলিকাকে বলছে, তোমরা দ্রুত গর্তে ঢুকে পড়ো, যেন সুলাইমান আলাইহিস সালাম এবং তার বাহিনী অজান্তে তোমাদেরকে পিষে না ফেলে। তিনি পিপীলিকার কথা শুনে মুচকি হাসেন। তিনি আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন যে, আপনি আমাকে অনেক নেয়ামত দিয়েছেন। (পাখি ও প্রাণীদের ভাষা বোঝার ক্ষমতা দিয়েছেন।) 

হজরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের দরবারে সবসময় হুদহুদ পাখি থাকত। সে একবার তাকে 'সাবা' রাজ্য এবং তার অধিবাসীদের ব্যাপারে সংবাদ দেয়। সে জানায় যে, তারা সূর্যপূজা করে। তিনি চিঠি লিখে সাবার রানিকে তার নিকট আসতে বলেন। সাবার রানি স্বীয় বস্তুগত উপকরণ নিয়ে অনেক গর্ব করত। কিন্তু যখন সে সুলাইমান আলাইহিস সালামের নিত্যনতুন উপকরণ ও তার মহল দেখতে পেল তখন সে নিজের শক্তি-সামর্থ্যের দুর্বলতা অনুভব করতে পারল। ফলে সে ইসলাম কবুল করে নেয়।

এরপর সালেহ আলাইহিস সালাম ও লুত আলাইহিস সালামের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। সালেহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়কে ঈমানের দাওয়াত দিলে তারা দুই দলে বিভক্ত হয়ে যায়; মুমিন ও কাফের। কাফেরদের মধ্যে নেতাপর্যায়ের নয় ব্যক্তি ছিল। তারা পরস্পর শপথ করেছিল, রাতে আকস্মিকভাবে আক্রমণ করে নবীকে হত্যা করে ফেলবে। কিছু তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হওয়ার পূর্বেই আল্লহ তাদেরকে পাকড়াও করেন। আজ তাদের স্মরণ করার মতো কেউ-ই নেই।

হজরত লুত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের দৃষ্টিশক্তি এতটাই ক্ষীণ হয়ে গিয়েছিল, তাদের অন্তর এতটাই গোমরাহিপূর্ণ হয়ে গিয়েছিল যে, তারা পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট কর্মকে ভালো মনে করতে শুরু করেছে। তাদের এ রীতি বর্তমানেও পাওয়া যায়। যারা হকের উপর চলে, তাদেরকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখা হয়। আর যারা মন্দ পথে চলে, তাদেরকে আধুনিক ও উন্নত চিন্তার অধিকারী মনে করা হয়। এ পর্যায়ে তাদের জনপদকে উলটে দেওয়া হয়। তাদের উপর পাথরের বৃষ্টি বর্ষণ করা হয়। বর্তমানে তারা গোটা বিশ্বের জন্য শিক্ষার উপকরণ হয়ে রয়েছে।



প্রশ্নাকারে আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদ বিশতম পারার শুরুতে প্রশ্নাকারে আল্লাহ তায়ালার একত্ব ও কুদরতের প্রতিটি দলিল উল্লেখ করা হয়েছে।

আল্লাহ তায়ালার উলুহিয়্যাত এবং তার একত্বের উপর কোরআন বিশ্বজগৎ এবং মানুষের চোখের সামনে ছড়িয়ে থাকা বাস্তবতার মাধ্যমে দলিল পেশ করে থাকে। এভাবেই কোরআন বিশ্বজগৎকে আলোচনা- পর্যালোচনার বস্তুতে পরিণত করেছে। এর ফলে বিরোধীরা পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে, আল্লাহ ছাড়া কেউ এসব কাজ করতে পারে না। 

দ্বিতীয় মৌলিক বিষয় পুনরুত্থান

একত্ববাদের আলোচনার পর দ্বিতীয় মৌলিক বিষয় পুনরুত্থান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, মুশরিকদের যা বোধগম্য হতো না।  তাদের এই আপত্তির উত্তরে আল্লাহ তায়ালা তার নবীকে সান্ত্বনা দিয়ে মুশরিকদের শাস্তির হুমকি দিয়েছেন। বলা হয়েছে, অন্যান্য অপরাধীর সাথে যে আচরণ করা হয়েছে, তোমাদের সাথেও তেমন করা হতে পারে। পৃথিবী ঘুরে দেখে নাও যে, তাদের সাথে কীরূপ আচরণ করা হয়েছিল? এরপর কেয়ামতের দৃশ্যের আলোচনা করা হয়েছে। 

এরপর ইসরাফিল আলাইহিস সালামের শিঙ্গায় ফুৎকার না দেওয়া পর্যন্ত এ পৃথিবী বহাল থাকবে। ইসরাফিল যখন প্রথমবার শিঙ্গায় ফুৎকার দেবেন তখন আকাশ ও পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টি জীব প্রকম্পিত হয়ে উঠবে। এরপর দ্বিতীয় ফুৎকার দেওয়া হবে। তখন বিশ্বজগতের সকল জীব মারা যাবে। এরপর যখন তৃতীয় ফুৎকার দেওয়া হবে তখন সকলেই কবর থেকে জীবিত হয়ে উঠে দাঁড়াবে।

কোরআনের আলোচনার মাধ্যমে যেভাবে সুরাটির সূচনা হয়েছিল সেভাবেই সুরার সমাপ্তিতে বলা হয়েছে, এই পবিত্র কিতাবের শিক্ষা মানুষ শক্তভাবে আঁকড়ে ধরলে সফলতা পাবে।

বইঃ খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) 
লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আসলাম শেখোপুরী রহমাতুল্লাহ
অনুবাদঃ মুজাহিদুল মাইমুন
পৃষ্ঠাঃ ১৯৬-২০০

Comments

Popular posts from this blog

অবশ্যপাঠ্য পঞ্চাশটি ইসলামিক বই

 ১। আল কুরআনের সহজ সরল বাংলা অনুবাদ - হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ - আল কুরআন একাডেমী লন্ডন ২। তাফসীর : তাওযীহুল কুরআন - আল্লামা তাকী উসমানী / তাফহীমুল কুরআন - সাইয়েদ আবুল আ’লা / আহসানুল বায়ান - আল্লামা হাফিয সালাহুদ্দিন ইউসুফ / মাআরেফুল কুরআন - মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ শফী ৩।হাদীস : রিয়াদুস সালেহীন - ইমাম মুহিউদ্দীন ইয়াহইয়া আন-নববী ৪। সীরাত : সীরাহ - রেইনড্রপস / আর রাহীকুল মাখতুম - আল্লামা সফিউর রহমান মোবারকপুরী / মানবতার বন্ধু মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ (ﷺ) – নঈম সিদ্দিকী / নবীয়ে রহমত - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী ৫। নবিদের কাহিনি (১,২) - মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব ৬। আসহাবে রাসূলের জীবনকথা- ড. মুহাম্মদ আবদুল মা’বুদ / সাহাবায়ে কেরামের ঈমানদীপ্ত জীবন - ড. আব্দুর রহমান রাফাত পাশা ৭। সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী ৮। ইসলামের বুনিয়াদী শিক্ষা / হাকীকত সিরিজ - সাইয়েদ আবুল আ’লা ৯। ঈমান সবার আগে - মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মালেক ১০। আকীদা : ইসলামী আকীদা - ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর / ইসলামী আকীদা ও ভ্রান্ত মতবাদ - মাওলানা মুহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিন  ১১। ফিকহ : আহকা...

কৃতজ্ঞতা: ছোট ছোট পরিবর্তন ৩

আমাদের দ্বীনে একটা চমৎকার ব্যাপার হলো  বিভিন্নভাবে আমরা আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি।  আমরা মন থেকে আলহামদুলিল্লাহ বলার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, আবার আমরা আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতগুলো আল্লাহ খুশি হন করে এমন কাজে ব্যবহারের মাধ্যমেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, যেমন আল্লাহ আমাদের দুটি চোখ দিয়েছেন, আমরা পবিত্র কোরআন পাঠ করার মাধ্যমে এবং চোখ দিয়ে খারাপ কিছু দেখা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে  কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি। আল্লাহ যাদেরকে ভালো লেখার হাত দিয়েছেন, তারা সবসময় ভালো কথা লিখে লেখালেখির মাধ্যমে দ্বীনের খেদমত করে, মানুষের খেদমত করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি। যাদের অর্থ সম্পদ অনেক রয়েছে তারা বেশি বেশি দান সদকা করতে পারি, যার যেই বিষয়ে দক্ষতা সেই দক্ষতা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজে লাগিয়ে আল্লাহর সেই নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, কিছুক্ষণ ভেবে দেখুন আপনি কোন কাজটিতে এক্সপার্ট, এবার ভেবে দেখুন সেই দক্ষতা কিভাবে আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যবহার করতে পারেন। আল হামদুলিল্লাহ, সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি আপনাকে তার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়ার পথ দেখিয়ে দিয়...

বাংলাদেশে ইসলামী দাওয়াহ এবং কমিউনিটি ভিত্তিক সংস্থাসমূহ

বাংলাদেশে ইসলামী দাওয়াহ এবং কমিউনিটি ভিত্তিক সংস্থাসমূহ সংস্থার নাম ফেসবুক পেইজ এলাকা Dhaka University Dawah Circle https://facebook.com/dudcbd ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় Muslim Youth Noakhali https://www.facebook.com/MuslimYouthNoakhali নোয়াখালী জুলাইয়ের কাফেলা https://www.facebook.com/profile.php?id=61567169805213 ঢাকা উদ্দীপ্ত তরুণ সংঘ https://www.facebook.com/profile.php?id=61565409526695 টঙ্গী, গাজীপুর বিহান https://www.facebook.com/profile.php?id=61560610930267 চাঁদপুর ...

আঘাত না পেলে বিজয়ের আনন্দ কখনই উপভোগ করা যায় না।

ধৈর্য ধরো বাবা। ব্যথা সবসময় ক্ষণস্থায়ী। আঘাত না পেলে বিজয়ের আনন্দ কখনই উপভোগ করা যায় না। কষ্ট পেতে হয় বলেই বিজয়ের আনন্দ, দীর্ঘস্থায়ী হয়। যদি ব্যথায় স্বর্গসুখ না পাওয়া যেত। তাহলে "আল্লাহ" কেন তার প্রিয় বান্দাকে সবচেয়ে বেশি ব্যথা দিবেন? ব্যথা হচ্ছে আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা। বাণীতেঃ ইবনে আরাবী তথ্যসুত্রঃ https://www.facebook.com/watch/?v=1015461659413270 মূলঃ  দিরিলিস আরতুগ্রুল সিরিজ (তুরস্ক)

জুলাই আন্দোলন পরবর্তী ইসলামী ইভেন্টসমূহ (আগস্ট ২০২৪ - ডিসেম্বর ২০২৪)

জুলাই আন্দোলন পরবর্তী ইসলামী ইভেন্টসমূহ ইভেন্টের নাম তারিখ স্থান আয়োজক ইসলামিক কনফারেন্স ২০২৪ ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়াম JU Society of Islamic Knowledge Seekers প্রতিবাদী জনসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ শহীদ চত্ত্বর, পাঁচ রাস্তার মোড়, থানাপাড়া, কুষ্টিয়া কুষ্টিয়া জেলার সর্বস্তরের মুসলিম জনসাধারণ প্রতিবাদী জনসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ কাচারী বাজার, রংপুর সাধারণ মুসলিম সমাজ, রংপুর উত্তরার সাধারণ ছাত্র জনতার আয়োজ...

সুরা নিসা: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ৮

নামকরণ: সুরা নিসার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ চতুর্থ পারায় পড়েছে। এই সুরাকে 'বড় সুরা নিসা' বলা হয়। আর ২৮ পারার সুরা তালাককে 'ছোট সুরা নিসা' বলা হয়। এ সুরায় যেহেতু নারীদের বিধান বেশি বর্ণিত হয়েছে, তাই এর নামকরণ করা হয়েছে সুরা নিসা। এ সুরার যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও বিধান চতুর্থ পারায় এসেছে, তা হল : ১. বালেগ হলে এতিমদের অর্থ-সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া।  ২.এতিম ছেলে-মেয়ে উভয়ের সম্পদের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য।  ৩. একসঙ্গে চারজন নারীকে বিয়ে করার সুযোগ রয়েছে। তবে শর্ত হচ্ছে স্বামীর তাদের অধিকার আদায়ে সক্ষম হতে হবে। তাদের মাঝে ইনসাফসম্মত আচরণ করতে হবে। স্বামী যদি এমনটি করতে না পারে, তা হলে একজন স্ত্রী নিয়েই সম্ভষ্ট থাকতে হবে। ৪. একাধিক স্ত্রীর প্রচলন ইসলামের পূর্বেও ছিল। তবে তার কোনো সংখ্যা নির্দিষ্ট ছিল না। তারা স্ত্রীর বৈবাহিক ও জীবনযাপনের অধিকারও আদায় করত না।  এক্ষেত্রে ইসলাম হক আদায় ফরজ সাব্যস্ত করেছে।  ৫. ইসলামের পূর্বে নারীদের মিরাস দেওয়া হতো না। আরবদের প্রবাদ ছিল আমরা এমন মানুষকে কেন সম্পদ দেব, যারা ঘোড়ায় সওয়ার হতে পারে না, তরবারি বহন করতে পারে না, দুশমনের মো...

The Muslim Minds: বাঙালি মুসলিম আত্মপরিচয়ের সন্ধানের নোট (২য় পর্ব)

  সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকার: মিডিয়া ন্যারেটিভে সেকুলার আধিপত্য - ১৯৭১ এ ভাষাভিত্তিক বিভাজনের ফলে ইসলামিস্টরা পিছিয়ে পড়েছে। কারণ মাদ্রাসার একাডেমিক ভাষা ছিলো উর্দু কিন্তু স্বাধীনতার পর এদেশ উর্ধু নিষিদ্ধ করা হয়। - বাংলা ভুখণ্ডে ২ বার ভাষা নিষিদ্ধ হয়েছে ● ফারসি, ব্রিটিশ আমলে ● উর্দু, বাংলাদেশে। - বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ভাষার বিপরীতে মুসলিম শাসকরাই তৈরি করেছিলেন কারণ আর্য অর্থাৎ উঁচু হিন্দুদের ভাষা ছিল সংস্কৃত তার বিপরীতে এই অঞ্চলের আদিবাসী অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, নিগ্রো, অনার্যর তৎকালীন ভাষা ছিল অপরিণত বাংলা। যেটা ধীরে ধীরে পরিপূর্ণ ভাষায় রূপান্তরিত হয় মুসলিম শাসকদের আমলে। - মিডিয়া সংকট ইস্রা*য়েলের জাতির পিতা দাভিদ বেন গুরিয়ন ছিলেন একজন সম্পাদক তাই উনি সঠিকভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়াতে মিডিয়া ব্যবহার করতে পেরেছিলেন। খেলাফত পতন হয়েছে মিডিয়ার মাধ্যমে ইয়াং তুর্করা আব্দুল হামিদ সানির পতন ঘটেছিল যারা মিডিয়া দ্বারা প্রভাবিত ছিল। - বক্তার মতে আমাদের প্রধান শত্রুকে চিহ্নিত করতে হবে আর তা হচ্ছে মিডিয়া। আমরা মিডিয়াকে আমার মূল প্রতিদ্বন্দী মনে করি না দেখেই আমরা আমাদের মূল সমস্যা নির্ধারণ করতে পারি না এবং আমাদ...

সালাহ: ছোট ছোট পরিবর্তন ৪

আমরা সারাদিন যে কাজগুলো করি এরমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সালাত, নামায পড়া। সময় মতন নামায পড়া এটা আমাদের গোটা প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট। আপনার জীবনে অনেক অশান্তি? সময় মতন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ুন, আপনার জীবনকে উদ্দেশ্যহীন মনে হয়? সময় মতন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ুন। সমাজে অনিয়ম, অনেক অন্যায় অনাচার, সময় মতন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ুন। কত মানুষ দাঁড়ি টুপি রেখে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পরেও ঘুষ খাচ্ছে, দুর্নীতি করছে, আপনি সময় মতন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ুন। নামায পড়েও মনে শান্তি হচ্ছে না, সময় মতন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়তে থাকুন। একদিন পরিবর্তন আসবেই, একদিন আপনার অন্তর খুলে যাবে, বিষণ্ণতা কাটিয়ে উঠে আপনি অন্তরে আনন্দ অনুভব করবেন। বর্তমান মুসলিম উম্মতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, প্রতিটি মুসলিম ওয়াক্ত নিয়মিত নামায পড়ছে না। যেই উম্মতের বেশির ভাগ মানুষ প্রতিদিন কোনো না কোনো ওয়াক্তের নামায কাযা করছে, সেই উম্মত কিভাবে আশা করে তাদের মধ্যে থেকে দুর্নীতি সরে যাবে, তারা প্রশান্তি পাবে, তারা সাফল্য পাবে, তারা বিশ্বজুড়ে মর্যাদা পাবে? আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত একটি জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না , যতক্ষণ পর্যন্তও...

সুরা নুর: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ২৯

 নুর (আলোকিত করে দেয়।) শব্দ ব্যবহৃত হওয়ায় একে সুরা নুর বলা হয়। এ সুরায় এমন আদব- শিষ্টাচার ও বিধি-বিধান বর্ণনা করা হয়েছে, যা সমাজ-জীবনকে নুরানি ও এর অধিকাংশ বিধান সুরায় যেসব বিধান উল্লেখ করেছেন, নিয়ে তা উল্লেখ করা হল : প্রথম ও দ্বিতীয় বিধান ব্যভিচারের শাস্তি সম্পর্কে। ব্যভিচারী নারী-পুরুষ যদি অবিবাহিত হয় তা হলে তাদের একশ বেত্রাঘাত করা হবে। আর যদি তারা বিবাহিত হয় তা হলে তাদেরকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করা।  তৃতীয় বিধানটি অপবাদ সংক্রান্ত। যদি কেউ কোনো বিবেকবান প্রাপ্তবয়স্ক পবিত্র চরিত্রের অধিকারী পুরুষ কিংবা নারীর উপর ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করে তা হলে তাকে বেত্রাঘাত করা হবে।  চতুর্থ বিধানটি স্বামী-স্ত্রীর জন্য। স্বামী যদি স্ত্রীর উপর অপবাদ আরোপ করে; এবং তার নিকট যদি চারজন সাক্ষী না থাকে তা হলে একে অপরের উপর লানত করবে। এরপর তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো হবে। পঞ্চম বিধানটিতে ইফকের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। ইফক অর্থ মিথ্যা অপবাদ। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার উপর কিছু মুনাফিক যখন অপবাদ আরোপ করে, তখন এ বিধান অবতীর্ণ হয়। এটা এক জঘন্য অপবাদ ছিল, সব ব্যক্তি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয...

নিয়মিত সাদাকাহ: ছোট ছোট পরিবর্তন ২

আপনি আজকে এক কোটি টাকা পেলে কি করতেন? যখনই কাউকে এমন প্রশ্ন করা হয়, সব মানুষই কাল্পনিক এ টাকার একটা অংশ রেখে দেন মহৎ কোনো উদ্দেশ্যে দান করে দেওয়ার জন্য। এক মুহুর্তের জন্য সত্যি সত্যি চিন্তা করে দেখুন তো, যদি আজই আপনি আকস্মিকভাবে পুরোপুরি  হালাল উপায়ে এককোটি টাকা পেয়ে যেতেন, আপনি এর কতটুকু দান করে দিতেন? আশ্চর্য বিষয় কি জানেন? আপনি যে পরিমাণই নির্ধারণ করেন না কেন? সে পরিমাণ দান করার যে পুরস্কার  আল্লাহ আপনাকে দিতেন, সেই পুরস্কারটা আপনি আজই পেতে পারেন, সেই বিশাল পরিমাণ টাকা না থাকা সত্ত্বেও। আমাদের দ্বীনে দান সদকার ক্ষেত্রে কে কত টাকা দিলো সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং কে তার সম্পদের কতটুকু অংশ দান করলো সেটাই মুখ্য। অর্থাৎ আপনার ১ কোটি টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা দান করলে যে সওয়াব পেতেন, আপনার ১০০০ টাকা থাকলে সেখান থেকে ১০০ টাকা দান করে দিলেও সেই সওয়াব পেতে পারেন। আমি এখন আর্থিক সমস্যায় আছি, হাতে একটু টাকা পয়সা আসলেই দান করে দিবো। অথবা আমি স্টুডেন্ট মানুষ পড়াশোনা শেষ করে আয় করা শুরু করলেই দান করে দিবো। এমনভাবে চিন্তা না করে আসুন যে যেই অবস্থায় আছি অল্প অল্প করে নিয়মিত সদাকাহ করার অভ্যাস ...