Skip to main content

Posts

পশ্চিমা সভ্যতার পতন কি অবশ্যম্ভাবী

একটি সভ্যতার পতন একদিনেই হয় না, এটা অতি দীর্ঘ একটা প্রক্রিয়া।  সভ্যতা গড়তে, বিকশিত হতে যেমন সুদীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন ঠিক একইভাবে একটা সভ্যতার বিকাশ থমকে যাওয়া, এক সময়ের প্রতাপশালী সভ্যতার প্রভাব, প্রতিপত্তি আর জৌলুস ধীরে ধীরে স্থিমিত হয়ে পতন হতেও অনেক সময়ের প্রয়োজন।  যে সময়টা হুট্ করে দেখে বোঝা যায় না, উল্টো এমন উপলব্ধি আসে যে আরে ওরা তো ভালোই আছে। অন্য সভ্যতার মধ্যে যারা ঐ সভ্যতার মতন জীবনযাপন করতে চায় তাদের মতে, "যদিও কিছু ত্রুটি আছে তবুও শিক্ষা, দীক্ষা, জ্ঞানে, প্রযুক্তিতে, প্রাচুর্যে তো ওরাই এগিয়ে"। কিন্তু এই যে তুচ্ছজ্ঞান করা কিছু ত্রুটি , অপরাধ কিংবা অবক্ষয় , একসময় এসকল ব্যাপারই পুরো সভ্যতাকেই নিচিহ্ন করে দিতে যথেষ্ট।  পূর্ববর্তী যেকোনো বড় সভ্যতার পতনের আগে সকল দিক দিয়ে পার্থিব সাফল্যের সর্বোচ্চ চূড়ায় অবস্থান করে।  হয়ে উঠে অপ্রতিদ্বন্দী, প্রচন্ড প্রতাপশালী, অহংকারী এবং অতি আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু এতে করে সে তার স্থিতিশীলতা হারায়। একটা সভ্যতার বিকাশ তখনই হয় যখন তার বিকশিত হওয়ার লক্ষ্য থাকে। সে লক্ষ্য অর্জনের জন্য সমাজের সকল কাঠামো যেনো যথাযথভাবে কাজ করে সে ব্যাপারে সত...
Recent posts

বাংলাদেশে ইসলামী দাওয়াহ এবং কমিউনিটি ভিত্তিক সংস্থাসমূহ

বাংলাদেশে ইসলামী দাওয়াহ এবং কমিউনিটি ভিত্তিক সংস্থাসমূহ সংস্থার নাম ফেসবুক পেইজ এলাকা Dhaka University Dawah Circle https://facebook.com/dudcbd ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় Muslim Youth Noakhali https://www.facebook.com/MuslimYouthNoakhali নোয়াখালী জুলাইয়ের কাফেলা https://www.facebook.com/profile.php?id=61567169805213 ঢাকা উদ্দীপ্ত তরুণ সংঘ https://www.facebook.com/profile.php?id=61565409526695 টঙ্গী, গাজীপুর বিহান https://www.facebook.com/profile.php?id=61560610930267 চাঁদপুর ...

জুলাই আন্দোলন পরবর্তী ইসলামী ইভেন্টসমূহ (আগস্ট ২০২৪ - ডিসেম্বর ২০২৪)

জুলাই আন্দোলন পরবর্তী ইসলামী ইভেন্টসমূহ ইভেন্টের নাম তারিখ স্থান আয়োজক ইসলামিক কনফারেন্স ২০২৪ ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়াম JU Society of Islamic Knowledge Seekers প্রতিবাদী জনসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ শহীদ চত্ত্বর, পাঁচ রাস্তার মোড়, থানাপাড়া, কুষ্টিয়া কুষ্টিয়া জেলার সর্বস্তরের মুসলিম জনসাধারণ প্রতিবাদী জনসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ কাচারী বাজার, রংপুর সাধারণ মুসলিম সমাজ, রংপুর উত্তরার সাধারণ ছাত্র জনতার আয়োজ...

ক্ষীণ সুখের জন্য অধিক নিশ্চয়তাকে বিসর্জন

পাড়ি দিতে হবে নদী, পাড়ি দিতে হবে তার উত্থাল ঢেউ যাবো বন্ধুকে নিয়ে কোনো এক গন্তব্যে, কিন্তু নদীর এধারে ওধারে কিছু নেই মনে শংকা পাড়ি দিবো নদী কিভাবে? দিতে হবে নদী পাড়ি, ওপাড়েতে আনন্দ আর সুখ করে জড়াজড়ি কেটে যাবে শঙ্কা ওপাড়েতে গেলে, হাজারো বিপদ আর ভয় দেয় হাতছানা এপাড়েতে থাকলে। নদী পার হবার বিশাল চ্যালেঞ্জে জোগাড় হলো কিছু কাঠ, বানাতে হবে ভেলা, কিন্তু কাঠ জোগাড় করতে গিয়েই নেমে পড়লো সন্ধ্যার অবসাদ।  শীতের সন্ধ্যা,অন্ধকার, কুয়াশার প্রলেপ ঝাঁকিয়ে নেমেছে শীত অন্ধকার কাটিয়ে ভোরের আলোয় পার হবো করলেন তা ঠিক, প্রচণ্ড শীতে কাঠ জ্বালিয়ে নিজেদেরকে উষ্ণ রাখার চেষ্টা দুজনেই আলাদা আলাদাভাবে কিছু কাঠে আগুন ধরিয়ে ভোর হবার প্রচেষ্টা। শীতের দিনে আগুনের উষ্ণতায় ভালো লাগছে দুই বন্ধুর  আহা! কী তৃপ্তির জীবন! এভাবেই তো চালিয়ে দেয়া যাবে বহুদিন। উষ্ণতার লোভে বন্ধু আমার সকল কাঠকে দেয় বিসর্জন, কালকের নদীর পাড়ি দিতে হবে ভুলে উপভোগ করতে থাকে আগুনের উষ্ণ আলিঙ্গন। এক কোণায় অল্প কাঠে জ্বলছে আমার আগুন পাচ্ছি মৃদু উষ্ণতা ভোর হলেই পাড়ি দিতে হবে নদী এই কাঠগুলো ছাড়া উপায় কি করছি আমি সেই চিন্তা। ঢেউয়ের তর্জনে সকালে ঘুম ...

The Muslim Minds: বাঙালি মুসলিম আত্মপরিচয়ের সন্ধানের নোট (২য় পর্ব)

  সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকার: মিডিয়া ন্যারেটিভে সেকুলার আধিপত্য - ১৯৭১ এ ভাষাভিত্তিক বিভাজনের ফলে ইসলামিস্টরা পিছিয়ে পড়েছে। কারণ মাদ্রাসার একাডেমিক ভাষা ছিলো উর্দু কিন্তু স্বাধীনতার পর এদেশ উর্ধু নিষিদ্ধ করা হয়। - বাংলা ভুখণ্ডে ২ বার ভাষা নিষিদ্ধ হয়েছে ● ফারসি, ব্রিটিশ আমলে ● উর্দু, বাংলাদেশে। - বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ভাষার বিপরীতে মুসলিম শাসকরাই তৈরি করেছিলেন কারণ আর্য অর্থাৎ উঁচু হিন্দুদের ভাষা ছিল সংস্কৃত তার বিপরীতে এই অঞ্চলের আদিবাসী অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, নিগ্রো, অনার্যর তৎকালীন ভাষা ছিল অপরিণত বাংলা। যেটা ধীরে ধীরে পরিপূর্ণ ভাষায় রূপান্তরিত হয় মুসলিম শাসকদের আমলে। - মিডিয়া সংকট ইস্রা*য়েলের জাতির পিতা দাভিদ বেন গুরিয়ন ছিলেন একজন সম্পাদক তাই উনি সঠিকভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়াতে মিডিয়া ব্যবহার করতে পেরেছিলেন। খেলাফত পতন হয়েছে মিডিয়ার মাধ্যমে ইয়াং তুর্করা আব্দুল হামিদ সানির পতন ঘটেছিল যারা মিডিয়া দ্বারা প্রভাবিত ছিল। - বক্তার মতে আমাদের প্রধান শত্রুকে চিহ্নিত করতে হবে আর তা হচ্ছে মিডিয়া। আমরা মিডিয়াকে আমার মূল প্রতিদ্বন্দী মনে করি না দেখেই আমরা আমাদের মূল সমস্যা নির্ধারণ করতে পারি না এবং আমাদ...

The Muslim Minds: বাঙালি মুসলিম আত্মপরিচয়ের সন্ধানের নোট (১ম পর্ব)

আব্দুল্লাহ আল মাসউদ: বাঙালি মুসলিম আত্মপরিচয়ের সংকট - বাঙালি, মুসলিম, আত্মপরিচয়, সংকট চারটি শব্দ নিয়ে কথা বলেন। আত্মপরিচয়ের সংকট থেকেই আমি আগে বাঙালি নাকি আগে মুসলিম প্রশ্নের উত্থান। - হিন্দুয়ানী চিন্তাগুলো বাঙালির পরিচয় হিসেবে তুলে ধরে মুসলিমকে মাইনাইস করা হয়। যেমন আগে অনেক জায়গায় কোনো হিন্দুপাড়া থাকলে তাকে বাঙালি পাড়া বলা হতো। - আত্মপরিচয়ের সংকটের উত্থানের কারণ মুসলিমরা নাকি তুরস্ক, আফগানিস্থান সহ মধ্যপ্রাচের দেশগুলো থেকে আসছে অন্যদিকে আর্যরা আদিবাসী কিন্তু হিন্দুরা তথা আর্যরাও আদিবাসী না বরং তারা পারস্য থেকে এসেছে। মুসলিমরা এক হাজার বছর আগে এসেছে, আর্যরা হইতো তারও কয়েকহাজার বছর আগে আসছে কিন্তু তারাও মূলত এই ভূখণ্ডের আদিবাসী না (অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, নিগ্রো, অনার্যরা এইদেশের আদিবাসী)। আর ইসলামিক কিছু শাসকরা এদেশে এসে এদেশে থেকেই শাসন করেছে, কিন্তু এদেশের সাধারণ মানুষই মূলত মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেছে। - অতএব, নিজেদের ভিনদেশী ভাবা যাবে না, আমরা ভিনদেশী নই। ভিনদেশী ভাবলে মানসিক শক্তি কমে যাবে। ডা. রাফান আহমেদ: ইসলামোফোবিয়া ঘরে বাইরে - ইসলামোফোবিয়া, ঘরেই সমস্যা শুরু। দাড়ি রাখা যাবে না যদি সমা...

সাম্যতন্ত্র ও সেকুস্থান

সুখে সমৃদ্ধিতে ভরপুর এক কাল্পনিক দেশ নাম তার সাম্যতন্ত্র সেখানে দেশ পরিচালিত হতে রয়েছে ইসলামী গণতন্ত্র। সাম্যের দেশে সমতা করতে হবে গণভোট কিন্তু সেই দেশের মানুষ যে ভাই মদকে বৈধ করতে একজোট। ওই দেশে রয়েছে ইসলামী শরিয়াহ এবং তার সাথে জনগণের গণতন্ত্র মদ তো শরিয়াহ বিরোধী কিন্তু জনগণ তো চায় সেটাই, অতএব সরকার বিভ্রান্ত। তবে এ দেশে শরিয়াহ আগে, ইসলামের প্রতি তার প্রায়োর কমিটমেন্ট। মদ এবং এরকম আরো কিছু বিষয়ে তার বিশ্বাস ও অবস্থান অপরিবর্তনীয় তাই মেজরিটি মদ চাইলেও এখানে তা বর্জনীয় ইসলামী বিশ্বাসের তাদের কাছে বেশি প্রয়োজনীয়। এবার একটু ঘুরে আসি মুদ্রার ওপর পিঠের আরেকটা কাল্পনিক দেশ থেকে সাম্যতন্ত্র থেকে সেকুস্থান যারা সহিহ লিবারেল-সেক্যুলারিসমের রং মাখে। সেকুস্থানেও সমতা করতে হলো গণভোট ঘরের বাইরে নারীদের স্কার্ফ নিয়ে এখানে জনগণ হলো এক জোট। এ দেশে লিবারেলিসম আগে,তার প্রতি তার প্রায়োর কমিটমেন্ট, পর্দা এবং এরকম আরো কিছু বিষয়ে তার বিশ্বাস ও অবস্থান অপরিবর্তনীয়। তাই এখানেও মেজরিটি পেলো না পাত্তা, জনগণই সব বলা রাষ্ট্র সে দুষ্টু প্ৰেতাত্মা, জনগণ রায় দিলেই বা কি হবে ভাই, গ্রহণতো হবে না, লিবারেলিসমে পর্দা প্ৰ...

হযরত মুহাম্মদ (সা.)

  সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মোহাম্মদ (সা) এর জীবনী লিখে শেষ করা যাবেনা।উনার জীবনের প্রতিটি সেকেন্ড আমাদের অনুসরণীয় আদর্শ। হযরত মোহাম্মদ সা:কে গভীরভাবে জানতে হলে বিভিন্ন সিরাত গ্রন্থ পড়তে পারেন। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনী। [ Dream Light Al-Quran  থেকে নেওয়া] জন্মঃ হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্তমান সৌদি আরবে অবস্থিত মক্কা নগরীর কুরাইশ গোত্রের বনি হাশিম বংশে জন্মগ্রহণ করেন। প্রচলিত ধারনা মোতাবেক, উনার জন্ম ৫৭০ খৃস্টাব্দে। প্রখ্যাত ইতিহাসবেত্তা মন্টগোমারি ওয়াট তার পুস্তকে ৫৭০ সনই ব্যবহার করেছেন। তবে উনার প্রকৃত জন্মতারিখ বের করা বেশ কষ্টসাধ্য। তাছাড়া মুহাম্মদ(সা.)নিজে কোনো মন্তব্য করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমান পাওয়া যায়নি. এজন্যই এ নিয়ে ব্যাপক মতবিরোধ রয়েছে। এমনকি জন্মমাস নিয়েও ব্যপক মতবিরোধ পাওয়া যায়। যেমন, এক বর্ণনা মতে, উনার জন্ম ৫৭১ সালের ২০ বা ২২ শে এপ্রিল। সাইয়েদ সোলাইমান নদভী, সালমান মনসুরপুরী এবং মোহাম্মদ পাশা ফালাকির গবেষণায় এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তবে শেষোক্ত মতই ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে বেশী নির্ভরযোগ্য। যাই হোক, নবীর জন্মে...

হযরত ঈসা (আ.)

হযরত ঈসা (আঃ) ছিলেন বনু ইস্রাঈল বংশের সর্বশেষ নবী ও কিতাবধারী রাসূল। তিনি ‘ইনজীল’ প্রাপ্ত হয়েছিলেন। তাঁরপর থেকে শেষনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আবির্ভাব পর্যন্ত আর কোন নবী আগমন করেননি। এই সময়টাকে فترة الرسل বা ‘রাসূল আগমনের বিরতিকাল’ বলা হয়।  ক্বিয়ামত সংঘটিত হওয়ার অব্যবহিত কাল পূর্বে হযরত ঈসা (আঃ) আল্লাহর হুকুমে পুনরায় পৃথিবীতে অবতরণ করবেন এবং মুহাম্মাদী শরী‘আত অনুসরণে ইমাম মাহদীর নেতৃত্বে সারা পৃথিবীতে শান্তির রাজ্য কায়েম করবেন। তিনি উম্মতে মুহাম্মাদীর সাথে বিশ্ব সংস্কারে ব্রতী হবেন। তাই তাঁর সম্পর্কে সঠিক ও বিস্তৃত ধারণা দেওয়া অত্যন্ত যরূরী বিবেচনা করে আল্লাহ পাক শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, মূসা (আঃ)-এর অনুসারী হওয়ার দাবীদার ইহুদীরা তাঁকে নবী বলেই স্বীকার করেনি। অত্যন্ত লজ্জাষ্করভাবে তারা তাঁকে জনৈক ইউসুফ মিস্ত্রীর জারজ সন্তান বলে আখ্যায়িত করেছে (নাঊযুবিল্লাহ)। অন্যদিকে ঈসা (আঃ)-এর ভক্ত ও অনুসারী হবার দাবীদার খৃষ্টানরা বাড়াবাড়ি করে তাঁকে ‘আল্লাহর পুত্র’ (তওবাহ ৯/৩০) বানিয়েছে’। বরং ত্রিত্ববাদী খৃষ্টানরা তাঁকে সরাসরি ‘আল্লাহ’ সাব্যস্ত কর...

হযরত জাকারিয়া (আ.)

হজরত জাকারিয়া (আ.) গাছের ভেতরে ঢুকে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কথাটি কতটুকু সহিহ? হযরত যাকারিয়া আ. সম্পর্কে লোকমুখে শুনা যায় যে, তাকে কাফেররা হত্যার জন্য ঘিরে নিলে তিনি নিরুপায় হয়ে গাছের কাছে আশ্রয় চাইলে গাছ দ্বিখন্ডিত হয়ে যায়। তিনি ঐ গাছের মধ্যে আশ্রয় নেন। গাছ পূর্ববৎ হয়ে যায়। কিন্তু তাঁর জামার আচল বের হয়ে থাকায় কাফেররা চিনে ফেলে এবং অস্ত্র দিয়ে গাছ চিরে, এতে নবীও দুই ভাগ হয়ে যান। এরূপ একটি কাহিনী শুনা যায়। এটা কতটুকু সত্য? বর্ণিত ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সহীহ হাদীসে তা পাওয়া যায় না। ইবনে কাছীর রাহ. আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া(২/২২৮-২২৯) গ্রন্থে এই ঘটনাটি খুবই আপত্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন। সুতরাং তা বর্ণনা করা যাবে না। হযরত যাকারিয়া আ. ও অন্যান্য নবীদের সম্পর্কে করআন মজীদ ও সহীহ হাদীসে যতটুকু বর্ণনা আছে ততটুকু জানাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। তাই হযরত যাকারিয়া আ.-এর সম্পর্কে কুরআন মজীদের কয়েকটি আয়াতের তরজমা ও একটি সহীহ হাদীসের অনুবাদ পেশ করা হল। (তরজমা) আপনার পালনকর্তার অনুগ্রহের বিবরণ, তার বান্দা যাকারিয়া আ.-এর প্রতি, যখন তিনি নিজ পালনকর্তাকে গোপনে আহবান করেছিলেন। তিনি প্রার্থনা কর...

হযরত হারুন (আ.)

হযরত হারুন (আঃ) এর জীবনী। নাম হারুন। তিনি আল্লাহর একজন নবী। মূসা কালিমুল্লাহ (আঃ) এর বড় ভাই। তিন বছরের বড় তিনি মুসা (আ:) চেয়ে। আল্লাহ যখন মুসা (আঃ) কে রাসুল নিয়োগ করেন, তখন তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন তিনি যেনো তাঁর ভাই হারুনকেও নবী নিয়োগ করে তাঁর হাত শক্ত করেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন এবং হারুন (আ:)কে মুসার সহযোগী নবী নিয়োগ করেন। হযরত হারুন ছিলেন বনী ইসরাইলদের শ নবী, তিনি ছিলেন সুবক্তা। দাওয়াতী ও সাংগঠনিক জীবন মহান আল্লাহ বলেন – “আমি মূসা ও হারুনের প্রতি অনুগ্রহ করেছি। তাঁদের উভয়কে আমি উদ্ধার করেছি মহাকষ্ট থেকে। আমি তাঁদের সাহায্য করেছি। ফলে তারা বিজয়ী হয়েছে। তাঁদের আমি সঠিক পথ দেখিয়েছি। তাঁদের উভয়কে আমি সুস্পষ্ট কিতাব দান করেছি। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তাঁদের উভয়ের সুনাম অক্ষুন্ন রেখেছি। মুসা ও হারুনের প্রতি বর্ষিত হোক সালাম। এভাবেই আমি উপকারী লোকদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। আসলে ওরা দু’জনেই ছিলো আমার প্রতি বিশ্বস্ত দাস।” (সূরা আস সাফফাত, আয়াত ১১৪-১২২) আল্লাহর এ বানী থেকে হযরত হারুনের সঠিক মর্যাদা বুঝা যায়। তিনি ভাই মুসার সাথে ফেরাউনের দরবারে উপস্থিত হন। ফেরাউনকে দাওয়াত প্রদান করেন।...

হযরত মুসা (আ.)

হজরত মুসা (আ.)-এর কাহিনি আমরা কেবল মোজেজা বা মুখরোচক আশ্চর্য ঘটনা হিসাবেই শুনে থাকি। লাঠির আঘাতে লোহিত সাগরের পানি দুই দিকে সরে গিয়ে তলদেশ বের হয়ে আসা, তারপর বনি ইসরাইলের সাগরের ওপারে চলে যাওয়ার পর ফেরাউন বাহিনীর ডুবে মরা মুসা (আ.)-এর কাহিনি বলতে কেবল এ সবেই দৃষ্টি সীমাবদ্ধ রাখা হয়, অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হয় না। অথচ এ কাহিনির প্রকৃত মর্ম হলো প্রত্যেক মানুষের জন্য জরুরি যে নিজ জাতিকে জুলুম ও জিল্লতি থেকে উদ্ধার করে উন্নতির পথ প্রদর্শন করা। বনি ইসরাইল নেহায়েত অসহায় অবস্থায় ছিল, শাসকশ্রেণি তাদের পুত্রসন্তানদের হত্যা করত আর কন্যাসন্তানদের জোরপূর্বক সেবাদাসী বানিয়ে রাখত। মুসা (আ.)-এর কাহিনি সেসব গুণ অর্জনের শিক্ষা দেয় যার মাধ্যমে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ জাতিকে উন্নত করার ক্ষমতায় বলিয়ান হতে সক্ষম। আল্লাহতায়ালা হজরত মুসা (আ.)-কে নির্দেশ করেন, তুমি এবং তোমার ভাই হারুন, দুজনেই ফেরাউনের কাছে যাও। আল্লাহ বলেন-যাও তার কাছে এবং বলো, আমরা তোমার রবের প্রেরিত, বনি ইসরাইলকে আমাদের সঙ্গে যাওয়ার জন্য ছেড়ে দাও এবং তাদের কষ্ট দিও না। আমরা তোমার কাছে নিয়ে এসেছি তোমার রবের নিদর্শন এবং শান্তি ত...

হযরত সোলায়মান (আ.)

হযরত সোলায়মান (আ) এর জীবনী। আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর শুরু থেকে শেষপর্যন্ত অসংখ্য নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন।যার সঠিক সংখ্যার কোনোসুস্পষ্ট তথ্য নেই।কুরআনের বর্ণনা মতে এ সকল নবী-রাসূলদেরমধ্যে তিনি যাদেরকে নবুয়ত দানের পাশাপাশি রাজত্ব ও হিকমত প্রদান করেছেন, তাদের মধ্যেহজরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম অন্যতম সংক্ষেপে তার রাজত্বের বিবরণ তুলে ধরা হলো- জন্ম পরিচিতি সুলাইমান আলাইহিস সালাম হজরত দাউদ আলাইহিস সালামের ১৯ সন্তানের মধ্যে একজন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনের প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে নবুয়ত লাভ করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে প্রজ্ঞা, জ্ঞান ও নবুয়ত দান করেন। তিনি শাম ও ইরাক অঞ্চলে তাঁর পিতার রেখে যাওয়া রাজ্যের বাদশাহি লাভ করেন। শৈশবকাল আল্লাহ তাআলা হজরত সুলাইমান আলাইহিস সালামকে শৈশবেই প্রখর মেধা ও প্রজ্ঞা দান করেছিলেন। যার প্রমাণ পাওয়া যায়- তাঁর পিতার (দাউদ আলাইহিস সালাম) দরবারে বকরির পাল ও শষ্যক্ষেত্র বিনষ্টের বিচারের ফয়সালায়। হজরত দাউদ আলাইহিস সালাম বিচারে তাঁর দেয়া ফয়সালা বাতিল করে হজরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের ফয়সালা বহাল রাখেন। তাছাড়া দুই মহিলার ‘এক সন্তান’কে উ...

হযরত দাউদ (আ.)

হজরত দাউদ (আ) এর জীবনী আল্লাহর নবী হজরত দাউদ (সা) বনি ইসরাইল সম্প্রদায় থেকে নবী হিসেবে দুনিয়ায় আগমণ করেন। তাঁর পিতার নাম ইশা। হজরত দাউদ (আ) খুব সাহসী ও নির্ভিক ছিলেন। তিনি বীরত্বের জন্য সবার শ্রদ্ধার পাত্রে পরিণত হন। আল্লাহ তাঁকে নবীর মর্যাদার পাশাপাশি রাজার সম্মানও দান করেন। তিনি ইরাক, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, জর্দান ও হিজাজ শাসন করেন। দাউদ (আ) ‘জবুর’ কিতাব লাভ করেছিলেন। আল্লাহ তাঁকে অনেক অলৌকিক ক্ষমতা দান করেন। তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল অত্যন্ত সুমিষ্ঠ। তিনি মধুর সুরে জবুর কিতাব তেলাওয়াত করলে পশু-পাখি, এমনকি পাহাড়-পর্বতও আল্লাহর প্রশংসায় মেতে উঠতো। আল্লাহর সাহায্যে তিনি গুলতি দিয়ে তখনকার অত্যাচারী শাসক জালুতকে হত্যা করেন এবং বনি ইসরাইল সম্প্রদায়কে জুলুমের হাত থেকে রক্ষা করেন। তাঁর জীবনের আরো অনেক চমকপ্রদ ও শিক্ষণীয় ঘটনা। মহান আল্লাহ হযরত দাউদ আলাইহিস সালামের প্রতি যে অসংখ্য অনুগ্রহ বর্ষণ করেছিলেন সেদিকে ইংগিত করা হয়েছে। তিনি ছিলেন বাইতুল লাহমের ইয়াহুদা গোত্রের একজন সাধারণ যুবক। ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধের জালুতের মতো এক বিশাল দেহী ভয়ংকর শত্রুকে হত্যা করে তিনি রাতারাতি বনী ইরাঈ...