Skip to main content

হযরত হুদ (আ.)



হযরত হুদ (আঃ) এর জীবনী।

হযরত হুদ (আঃ) আদ জাতির নিকট প্রেরিত হল। আদ ছিল হযরত নূহ (আঃ) এর চার অধস্তন পুরুষ। হযরত নূহ (আঃ)-এর পুত্র সাম। সামের পুত্র ইরাম। ইরামের পুত্র আউস। আউসের পুত্র আদ। সামের আর এক পুত্র ছিল তার নাম ছিল আবির। আবিরের পুত্রের নাম ছিল ছামুদ। আদ ও ছামুদের বংশাবলী ক্রমশ বিস্তৃতি লাভ করে। পরবর্তী সময় আদ ও ছামুদের নামে তাদের বংশাবলীর নাম করন করা হয়। কওমে আদ ও কওমে ছামুদ। পবিত্র মেরাজে আদ ও ছামুদ সম্প্রদায়ের প্রতি আল্লাহর নির্দেশাবলীর কথা উল্লেখ আছে।

কওমে আদ পারস্য উপসাগরের অববাহিকায় অবস্থিত ওমান থেকে লোহিত সাগরের প্রান্তে হাজরামাউত ও ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় কয়েকশত বছর আধিপত্য বিস্তার করেছিল। তারা চার দেবতার পূজা অর্চনা করত। এক নম্বরের দেবতার নাম ছিল সাকীয়া। যাকে তারা বৃষ্টি দানকারী, ফসল দানকারী ও অর্থ দানকারী দেবতা বলে শ্রদ্ধা করত। দ্বিতীয় হল হাফিজা যাকে বিপদ মুক্তি, রোগ মুক্তি ও অমঙ্গল থেকে মুক্তি দানকারী বলে বিশ্বাস করত। তিন নম্বরে ছিল রাদিকা। এ দেবতাকে তারা অন্নদানকারী, শান্তি দানকারী ও পরকালের মুক্তি দানকারী দেবতা বলে সন্মান করত। চতুর্থ ছালীমা যাকে স্বাস্থ্য দানকারী, শক্তি দানকারী এবং যুদ্ধে বিজয় দানকারী বলে মনে করে তারা এ দেবতার পূজা করত।

আল্লাহ তা’য়ালা হযরত হুদ (আঃ)-কে এ আদ জাতির হেদায়েতের জন্য তাদের নিকট নবী হিসেবে প্রেরন করেন। হযরত হুদ (আঃ) ছিলেন আদ বংশীয় লোক। আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কোরআনে একথা উল্লেখ করেন। তিনি কওমকে যখন হেদায়েতের দাওয়াত দিলেন তখন তারা নবীর কথা শুনে ঠাট্রা বিদ্রুপ আরম্ভ করে দিল। তারা নবীকে বলল, তুমি আল্লাহর বিশেষ দূত হিসেবে আমাদের হেদায়েত করতে এসেছ তার প্রমান কি? যদি তুমি নবী হও তাহলে উপযুক্ত প্রমান দাও। নবী তাদেরকে বললেন, আল্লাহ তা’য়ালা মানব জাতির মুক্তি ও কল্যাণের নিমিত্তে যুগে যুগে নবী রাসূলদেরকে প্রেরন করে থাকেন। তাঁদের কাজে ও কথায় কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ থাকে না। আল্লাহ তা’য়ালার প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করাই তাঁদের প্রধান কর্তব্য। যখন কোন কওম নৈতিকতা ও ধর্মের ক্ষেত্রে অমনোযোগী হয়ে পড়ে এবং চরম উশৃংখলতার অনুসারী হয় তখন সে কওম ও জাতির পথের দিশা হিসেবে নবীগণের আবির্ভাব ঘটে।

তখন জাতি তার প্রতি আত্মস্মার্পণ করে দ্বীনে হক কবুল করলে আল্লাহ জাতিকে নাজাত দেন। তাঁদের তারাক্কিদান করেন। আর যদি তারা নবীর নাফরমান হিসেবে জীবন-যাপন শুরু করে তবে তাঁদের প্রতি আল্লাহর প্রকাশ্য গজব অবতীর্ণ হয়। অতএব তোমরা যদি স্বাভাবিক ভাবে আল্লাহর প্রতি ঈমান আন এবং দেবদেবীর পূজা-অর্চনা ছেড়ে দাও তাহলে তোমাদের সর্বত্র মঙ্গল হবে, না হয় তোমাদের উপর কঠিন আজাব আসবে, যাতে তোমরা ধ্বংস হবে। তোমাদের কোন অস্তিত্ব পৃথিবীর বুকে অবশিষ্ট থাকবে না। কওমে আদ নবীর নছিহত শুনে বলত আসুক আজাব, আমরা সে আজাবের ভয় করি না। আমরা শরীরে শক্তি রাখি। আজাবের মোকাবেলা করার শক্তি আমাদের আছে। তবুও আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষের ধর্ম পরিত্যাগ করব না। আমরা এসব দেব-দেবীর পূজা অর্চনা করে অনেক উপকার পেয়েছি, ধন সম্পদ ও স্বাস্থ্যের অধিকারী হয়েছি। আমাদের জন্য নতুন ধর্ম গ্রহন করা কোনক্রমে সম্ভব নয়।

আদ জাতির লোকেরা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ও দীর্ঘকায়। তাঁদের মধ্যে উর্দ্ধে চারশ গজ পর্যন্ত লম্বা মানুষ ছিল। আর বেঁটেদের উচ্চতা ছিল সত্তর গজ। তারা দুই তিন জনে একত্রিত হয়ে ছোট ছোট পাহাড় উল্টিয়ে ফেলতে পারত। পাহাড়ের উপরে দাঁড়িয়ে যদি পা দিয়ে আঘাত করত তাহলে পাথরের মধ্যে পা গেড়ে যেত। যে কোন গাছপালা উপড়িয়ে ফেলা ছিল অত্যন্ত সহজ কাজ। তারা সেচ দ্বারা কৃষি কাজ করত। এ জন্য পানি রক্ষণের উদ্দেশ্যে তারা নদীর ন্যায় বড় বড় জলাশয় তৈরি করে রাখত। বর্ষা মৌসুমে সেখানে পানি জমা হত। সারা বছর সে পানি সেচ করে কৃষি কাজ করত। তখনকার দিনে আল্লাহ তা’য়ালা অল্প দিনে ক্ষেত খামারে বহুগুণ ফসল দান করতেন। ক্ষেতে গমবীজ বপন করলে পনের দিনের মধ্যে গম পেকে যেত। আঙুর, বেদানা, আনার, আপেল, ইত্যাদি জাতের ফলের গাছ রোপণ করার দুইতিন মাস পরেই পাকা ফল পাওয়া যেত। মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল খুবই সচ্ছল। কোন অভাব অভিযোগ তাদের ছিল না। শারীরিক অবস্থা ছিল খুবই ভাল। রোগব্যাধি আদৌ ছিল না বললেই চলে।

কওমে আদ যখন নবীর দাওয়াত অগ্রাহ্য করল তখন নবী তাদের জন্য বদদোয়া করলেন। আল্লাহ তা’য়ালা নবীর বদদোয়া কবুল করে একাধারে তিন বছর যাবত বৃষ্টি বন্ধ করে দিলেন। এতে তাদের তৈরি করা সমস্ত ঝিল, নদী, শুকিয়ে গেল, ফলে ফসল উৎপাদন বন্ধ হল। তখন জাতির উপর নেমে আসল ভীষণ দুর্ভিক্ষ। অনাহারে, অর্ধাহারে মানুষ দিন কাটাতে লাগল। বড় বড় পালোয়ানদের শরীরের শক্তি হ্রাস পেল। রাস্তাঘাটে মানুষের লাশ পড়ে থাকতে দেখা গেল। বৃদ্ধা ও শিশুরা অধিক হারে মৃত্যু বরণ করতে লাগল। সারা দেশময় ভীষণ হাহাকার আরম্ভ হয়ে গেল। মানুষ গাছের পাতা ও অখাদ্য কুখাদ্য খেয়ে জীবন ধারণের চেষ্টা আরম্ভ করল।

আদ জাতির মধ্যে সত্তরটি গোত্র ছিল। এ সত্তরটি গোত্রের মোট লোকসংখ্যা ছিল লক্ষাধিক। তাদের মধ্য থেকে মাত্র সত্তর জন মানুষ নবীর দাওয়াত কবুল করে মেহমান হয়েছিল। এ সত্তর ব্যক্তি একদিন নবীর নিকট আরজ করে বলল, হে আল্লাহর নবী! দেশব্যাপী যেভাবে দুর্ভিক্ষের করাল ছায়া নেমে আসছে তাতে আমরা ও আমাদের আপনজনেরা কেউ রেহাই পাব বলে মনে হয় না। অতএব আপনি দোয়া করুন, আল্লাহ তা’য়ালা যেন এবারের জন্য এ গজব সত্বর উঠিয়ে নেন। আমরা জাতিকে হেদায়েতের পথে আনার জন্য আর একবার আপ্রাণ চেষ্টা করে দেখব। নবী উম্মতের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন। আল্লাহ তা’য়ালা নবীর দোয়া কবুল করে বৃষ্টি দিয়ে পুনরায় ফসল উৎপাদনের ব্যবস্থা করলেন। যাতে করে দেশের সকল মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস ত্যাগ করে সুখে স্বাচ্ছন্দে জীবন-যাপন করতে আরম্ভ করে। নবী তাদের নিকট দ্বীনের দাওয়াত পেশ করলে তারা পূর্বের ন্যায় নবীর প্রতি দুর্ব্যবহার করে এবং পরিষ্কার ভাবে বলে দেয় যে, তারা কোন দিনই তার দাওয়াত গ্রহন করবে না।

নবী বার বার তাদের নিকট দাওয়াত পেশ করেন এবং আল্লাহর আজাবের ভীতি প্রদর্শন করেন। কিন্তু তারা কোন ক্রমে নবীর প্রতি ঈমান আনল না। বরং কওমে আদের কতিপয় লোক নবীকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হল। তারা কথাবার্তা ও আলাপ ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য অনেকটা প্রকাশ করল। নবী তাদের আচার আচারন দেখে আল্লাহর দরবারে আশ্রয় প্রার্থনা করলেন।

আল্লাহ তা’য়ালার তরফ থেকে নবীকে জানিয়ে দেয়া হল, হে নবী! আপনি আপনার সত্তর জন উম্মতকে নিয়ে শহর থেকে বেরিয়ে যান এবং পাহাড়ের এক গুহায় গিয়ে আশ্রয় নিন। আমি অতি শীঘ্রই কওমে আদের উপর ঝড় ও বন্যার আজাব প্রেরণ করছি। নবী কওমের নিকট একবার জানিয়ে দিলেন, কওমের লোকেরা নবীর কথায় আস্থাবান হল না। তারা বলল, হে হুদ (আঃ)! তোমার আল্লাহ ও ঝড় বন্যার আজাব পাঠিয়ে আমাদেরকে দুর্বল করতে পারবে না। আমরা সে কৌশল ঠিক করে রেখেছি। এখন তুমি যদি আমাদের আজাব থেকে রক্ষা পেতে চাও তাহলে নবুয়তীর দাবী ত্যাগ করে নির্বিঘ্নে আমাদের মাঝে বসবাস কর। না হয় অতি সত্তর শহর ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যাও। আগামী দিন যেন তোমাদেরকে আমরা এ শহরে আর না দেখি।

নবী আল্লাহ তা’য়ালার নির্দেশ অনুসারে তার উম্মতগণকে নিয়ে শহর ত্যাগ করলেন। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে তিনি পার্বত্য এলাকায় গিয়ে পৌঁছেন। সেখানে তিনি চতুর্দিকে দেখাশুনা করে সর্বশেষে এক গুহায় ঢুকে আশ্রয় নিলেন। নবীর উপর অত্যাচার আল্লাহ কখনই সহ্য করেন না। তাই তিনি কওমে আদের কার্যকালাপের জন্য তাদের উপর গজব চাপিয়ে দিলেন। আল্লাহ তা’য়ালা ফেরেস্তাদিগকে হুকুম দিলেন, কিয়ামতের দিন সিঙ্গা ফুঁকে সৃষ্ট ঝড়ের সামান্য নমুনা কওমের উপর ছেড়ে দাও। ফেরেস্তাগন আল্লাহ তা’য়ালার এ হুকুম পেয়ে সেজদায় পড়ে কান্না কাটি আরম্ভ করলেন এবং বিনয়ের সঙ্গে বললেন, হে পরোয়ারদেগার! আপনি যতটুকু বাতাস প্রবাহের আদেশ দিয়েছেন তাতে পৃথিবীতে মুহূর্তের মধ্যে কয়েক লক্ষ বার প্রলয় ঘটে যাবে। কারণ এখন পৃথিবী অত্যন্ত ছোট। কিয়ামতের দিন পৃথিবীকে অনেক বড় করা হবে। তখন সিঙ্গা সুরের প্রবল বাতাস সহ্য করার মত যোগ্যতা প্রদান করা হবে পৃথিবীকে। কিন্তু আজকের পৃথিবী উহার লক্ষ ভাগের এক ভাগ সহ্য করার ক্ষমতা রাখে না। অতএব আপনি দয়া করে এ সংকট আসান করে দিন। ফেরেস্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তা’য়ালা একটি গরুর নিশ্বাসের বরাবর বাতাস প্রবাহের আদেশ দিলেন। তখন সমস্ত আম্বিয়াদের রুহ একত্রিত হয়ে আল্লাহ তা’য়ালার দরবারে আরজ করে বললেন, হে রহমান রহিম! আপনি যতটুকু বাতাস প্রবাহের আদেশ দিয়েছেন তাতে সমগ্র পৃথিবী একটি জড়পিণ্ডে পরিণত হয়ে যাবে। সেখানে কোন আলো-বাতাস, পাহাড়-পর্বত, নদ নদী কিছুই থাকবে না। সম্পূর্ণ পৃথিবীটা শক্ত একটি পাথরে রুপ নিবে। সেখানে আর কোন দিন কোন প্রাণী বেঁচে থাকতে পারবে না। অতএব আপনি এ আজাবের আদেশ শিথিল করে দিন। আম্বিয়াদের দোয়া কবুল করে আল্লাহ তা’য়ালা আদেশ দিলেন সুচাগ্র পরিমাণ বাতাস প্রবাহ করে দেয়া হোক।

ফেরেস্তাগন আল্লাহ তা’য়ালার শেষোক্ত আদেশ কার্যকারী করার লক্ষ্যে সাতদিন পূর্বে আকাশে লাল, কাল, হলুদ রঙের মেঘের সমাবেশ করলেন। প্রবাহিত নদ-নদীর পানি স্থির করে দিলেন। চলমান সাধারণ বাতাসের গতি রুদ্ধ করলেন। এ অবস্থা দেখে কওমে আদের লোকেরা বিশ্বাস করল যে আল্লাহর আজাব অতি সন্নিকটে। তখন তারা স্ত্রী, পুত্র পরিজন নিয়ে বিভিন্ন পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিল। যখন আর সময় অতিবাহিত হল তখন তারা সারা পৃথিবী অন্ধকারাচ্ছন্ন দেখতে পেল। কওমে আদ এ অবস্থা দেখে কিছুটা ভীত হল এবং তারা পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে নিজ স্ত্রী-পুত্রদেরকে মাঝখানে রেখে চতুর্দিকে যুবকেরা বেরিকেট সৃষ্টি করে দাঁড়াল। তারপর পা দিয়ে পাথরের উপর বার বার আঘাত করে করে হাঁটু পর্যন্ত গেড়ে দাঁড়াল যাতে কোন বাতাসে যেন তাদেরকে স্থানচ্যূত করতে না পারে। নির্দিষ্ট দিনে আল্লাহর আজাব জমিনে পৌঁছল। প্রবল ঝড় আরম্ভ হল। গাছ পালা, ঘর-বাড়ি প্রথমেই নিঃশেষ হয়ে গেল। তার পড়ে উঁচু উঁচু পাহাড় গুলো ভেঙ্গে ভেঙ্গে আকাশে উড়তে আরম্ভ করল। তাতে সমস্ত গুহার আবরন ও ছাদ ধ্বংস হয়ে গেল। ফলে বাতাস মানুষগুলোকে আকাশে উড়িয়ে নিয়ে গেল এবং সেখানে এক জনের সাথে অন্য জনের প্রবল আঘাত দিয়ে ধ্বংস করে দিল। তিন দিন পর্যন্ত মানুষ, গাছ ও পাহাড় শুধু বাতাসের উপর ভেসে ভেসে একে অপরকে প্রচণ্ডভাবে আঘাত করেছিল। তিন দিন পরে ঝড় থেমে গেল। তখন আকাশ থেকে মানুষের লাশ, গাছ ও পাহাড়ের ভগ্নাংশ মাটিতে পতিত হল। মানুষের লাশগুলো দেখতে উপড়ানো শিকড়যুক্ত খেজুর গাছের ন্যায় এলোমেলোভাবে যেখানে সেখানে পড়ে ছিল। পবিত্র কোরআনে দৃশটি এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বাতাস প্রবাহে নাস্তিক ও ধর্মদ্রোহীদের দল প্রায় সবই ধ্বংস হয়ে গেল। যারা নবীর উপর কিছুটা আস্থাশীল ছিল তারা অধিকাংশই রক্ষা পেল। কথিত আছে একদল ঈমানদার ব্যক্তি ঐ সময় উক্ত এলাকায় এমনভাবে নিরাপদে ছিলেন তারা কিছুই জানতে পারেনি। তাদের কাপড়ের আঁচল পর্যন্ত বাতাসে উড়ে নি। তিন দিন পরে যখন নবী কওমের নিকট ফিরে আসলেন তখন জীবিত উম্মতেরা সারা দেশের পরিস্থিতি ও দৃশ্য দেখে অবাক হল। তারা আর কাল বিলম্ব না করে নবীর নিকট দ্বীনের পরিপূর্ণ ছবক গ্রহন করলেন। এ ছবক যারা গ্রহন করেছিল তারা খাটি ঈমানদার হিসেবে পৃথিবীর বুকে ইসলামী রাষ্ট্র পর্যন্ত কায়েম করতে সক্ষম হয়েছিল।

হযরত হুদ (আঃ)-এর ইন্তেকালের পরে একশত বছর পর্যন্ত এ ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম ছিল। হযরত হুদ (আঃ) চারশত বছর জীবিত থেকে কওমকে হেদায়েত করেছেন। হযরত হুদ (আঃ)-এর ইন্তেকালের পরে কয়েক লক্ষ মানুষ তার জানাজা নামায আদায় করে পরম ভক্তিসহকারে তার দাফন কার্য সম্পন্ন করেন। হযরত হুদ (আঃ) নবুয়তীর দায়িত্ব পালনে যতখানি সফলতা লাভ করেছিলেন তা নজির বিহীন। বিনা যুদ্ধে ও বিনা রক্তপাতে এতখানি সফলতা অর্জন করা অন্য কোন নবীর জীবনে দেখা যায় নি।

লেখকঃ Muhammad Moklesur Rahman 

Comments

Popular posts from this blog

অবশ্যপাঠ্য পঞ্চাশটি ইসলামিক বই

 ১। আল কুরআনের সহজ সরল বাংলা অনুবাদ - হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ - আল কুরআন একাডেমী লন্ডন ২। তাফসীর : তাওযীহুল কুরআন - আল্লামা তাকী উসমানী / তাফহীমুল কুরআন - সাইয়েদ আবুল আ’লা / আহসানুল বায়ান - আল্লামা হাফিয সালাহুদ্দিন ইউসুফ / মাআরেফুল কুরআন - মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ শফী ৩।হাদীস : রিয়াদুস সালেহীন - ইমাম মুহিউদ্দীন ইয়াহইয়া আন-নববী ৪। সীরাত : সীরাহ - রেইনড্রপস / আর রাহীকুল মাখতুম - আল্লামা সফিউর রহমান মোবারকপুরী / মানবতার বন্ধু মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ (ﷺ) – নঈম সিদ্দিকী / নবীয়ে রহমত - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী ৫। নবিদের কাহিনি (১,২) - মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব ৬। আসহাবে রাসূলের জীবনকথা- ড. মুহাম্মদ আবদুল মা’বুদ / সাহাবায়ে কেরামের ঈমানদীপ্ত জীবন - ড. আব্দুর রহমান রাফাত পাশা ৭। সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী ৮। ইসলামের বুনিয়াদী শিক্ষা / হাকীকত সিরিজ - সাইয়েদ আবুল আ’লা ৯। ঈমান সবার আগে - মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মালেক ১০। আকীদা : ইসলামী আকীদা - ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর / ইসলামী আকীদা ও ভ্রান্ত মতবাদ - মাওলানা মুহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিন  ১১। ফিকহ : আহকা...

কৃতজ্ঞতা: ছোট ছোট পরিবর্তন ৩

আমাদের দ্বীনে একটা চমৎকার ব্যাপার হলো  বিভিন্নভাবে আমরা আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি।  আমরা মন থেকে আলহামদুলিল্লাহ বলার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, আবার আমরা আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতগুলো আল্লাহ খুশি হন করে এমন কাজে ব্যবহারের মাধ্যমেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, যেমন আল্লাহ আমাদের দুটি চোখ দিয়েছেন, আমরা পবিত্র কোরআন পাঠ করার মাধ্যমে এবং চোখ দিয়ে খারাপ কিছু দেখা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে  কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি। আল্লাহ যাদেরকে ভালো লেখার হাত দিয়েছেন, তারা সবসময় ভালো কথা লিখে লেখালেখির মাধ্যমে দ্বীনের খেদমত করে, মানুষের খেদমত করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি। যাদের অর্থ সম্পদ অনেক রয়েছে তারা বেশি বেশি দান সদকা করতে পারি, যার যেই বিষয়ে দক্ষতা সেই দক্ষতা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজে লাগিয়ে আল্লাহর সেই নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, কিছুক্ষণ ভেবে দেখুন আপনি কোন কাজটিতে এক্সপার্ট, এবার ভেবে দেখুন সেই দক্ষতা কিভাবে আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যবহার করতে পারেন। আল হামদুলিল্লাহ, সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি আপনাকে তার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়ার পথ দেখিয়ে দিয়...

বাংলাদেশে ইসলামী দাওয়াহ এবং কমিউনিটি ভিত্তিক সংস্থাসমূহ

বাংলাদেশে ইসলামী দাওয়াহ এবং কমিউনিটি ভিত্তিক সংস্থাসমূহ সংস্থার নাম ফেসবুক পেইজ এলাকা Dhaka University Dawah Circle https://facebook.com/dudcbd ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় Muslim Youth Noakhali https://www.facebook.com/MuslimYouthNoakhali নোয়াখালী জুলাইয়ের কাফেলা https://www.facebook.com/profile.php?id=61567169805213 ঢাকা উদ্দীপ্ত তরুণ সংঘ https://www.facebook.com/profile.php?id=61565409526695 টঙ্গী, গাজীপুর বিহান https://www.facebook.com/profile.php?id=61560610930267 চাঁদপুর ...

আঘাত না পেলে বিজয়ের আনন্দ কখনই উপভোগ করা যায় না।

ধৈর্য ধরো বাবা। ব্যথা সবসময় ক্ষণস্থায়ী। আঘাত না পেলে বিজয়ের আনন্দ কখনই উপভোগ করা যায় না। কষ্ট পেতে হয় বলেই বিজয়ের আনন্দ, দীর্ঘস্থায়ী হয়। যদি ব্যথায় স্বর্গসুখ না পাওয়া যেত। তাহলে "আল্লাহ" কেন তার প্রিয় বান্দাকে সবচেয়ে বেশি ব্যথা দিবেন? ব্যথা হচ্ছে আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা। বাণীতেঃ ইবনে আরাবী তথ্যসুত্রঃ https://www.facebook.com/watch/?v=1015461659413270 মূলঃ  দিরিলিস আরতুগ্রুল সিরিজ (তুরস্ক)

জুলাই আন্দোলন পরবর্তী ইসলামী ইভেন্টসমূহ (আগস্ট ২০২৪ - ডিসেম্বর ২০২৪)

জুলাই আন্দোলন পরবর্তী ইসলামী ইভেন্টসমূহ ইভেন্টের নাম তারিখ স্থান আয়োজক ইসলামিক কনফারেন্স ২০২৪ ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়াম JU Society of Islamic Knowledge Seekers প্রতিবাদী জনসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ শহীদ চত্ত্বর, পাঁচ রাস্তার মোড়, থানাপাড়া, কুষ্টিয়া কুষ্টিয়া জেলার সর্বস্তরের মুসলিম জনসাধারণ প্রতিবাদী জনসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ কাচারী বাজার, রংপুর সাধারণ মুসলিম সমাজ, রংপুর উত্তরার সাধারণ ছাত্র জনতার আয়োজ...

সুরা নিসা: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ৮

নামকরণ: সুরা নিসার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ চতুর্থ পারায় পড়েছে। এই সুরাকে 'বড় সুরা নিসা' বলা হয়। আর ২৮ পারার সুরা তালাককে 'ছোট সুরা নিসা' বলা হয়। এ সুরায় যেহেতু নারীদের বিধান বেশি বর্ণিত হয়েছে, তাই এর নামকরণ করা হয়েছে সুরা নিসা। এ সুরার যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও বিধান চতুর্থ পারায় এসেছে, তা হল : ১. বালেগ হলে এতিমদের অর্থ-সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া।  ২.এতিম ছেলে-মেয়ে উভয়ের সম্পদের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য।  ৩. একসঙ্গে চারজন নারীকে বিয়ে করার সুযোগ রয়েছে। তবে শর্ত হচ্ছে স্বামীর তাদের অধিকার আদায়ে সক্ষম হতে হবে। তাদের মাঝে ইনসাফসম্মত আচরণ করতে হবে। স্বামী যদি এমনটি করতে না পারে, তা হলে একজন স্ত্রী নিয়েই সম্ভষ্ট থাকতে হবে। ৪. একাধিক স্ত্রীর প্রচলন ইসলামের পূর্বেও ছিল। তবে তার কোনো সংখ্যা নির্দিষ্ট ছিল না। তারা স্ত্রীর বৈবাহিক ও জীবনযাপনের অধিকারও আদায় করত না।  এক্ষেত্রে ইসলাম হক আদায় ফরজ সাব্যস্ত করেছে।  ৫. ইসলামের পূর্বে নারীদের মিরাস দেওয়া হতো না। আরবদের প্রবাদ ছিল আমরা এমন মানুষকে কেন সম্পদ দেব, যারা ঘোড়ায় সওয়ার হতে পারে না, তরবারি বহন করতে পারে না, দুশমনের মো...

The Muslim Minds: বাঙালি মুসলিম আত্মপরিচয়ের সন্ধানের নোট (২য় পর্ব)

  সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকার: মিডিয়া ন্যারেটিভে সেকুলার আধিপত্য - ১৯৭১ এ ভাষাভিত্তিক বিভাজনের ফলে ইসলামিস্টরা পিছিয়ে পড়েছে। কারণ মাদ্রাসার একাডেমিক ভাষা ছিলো উর্দু কিন্তু স্বাধীনতার পর এদেশ উর্ধু নিষিদ্ধ করা হয়। - বাংলা ভুখণ্ডে ২ বার ভাষা নিষিদ্ধ হয়েছে ● ফারসি, ব্রিটিশ আমলে ● উর্দু, বাংলাদেশে। - বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ভাষার বিপরীতে মুসলিম শাসকরাই তৈরি করেছিলেন কারণ আর্য অর্থাৎ উঁচু হিন্দুদের ভাষা ছিল সংস্কৃত তার বিপরীতে এই অঞ্চলের আদিবাসী অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, নিগ্রো, অনার্যর তৎকালীন ভাষা ছিল অপরিণত বাংলা। যেটা ধীরে ধীরে পরিপূর্ণ ভাষায় রূপান্তরিত হয় মুসলিম শাসকদের আমলে। - মিডিয়া সংকট ইস্রা*য়েলের জাতির পিতা দাভিদ বেন গুরিয়ন ছিলেন একজন সম্পাদক তাই উনি সঠিকভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়াতে মিডিয়া ব্যবহার করতে পেরেছিলেন। খেলাফত পতন হয়েছে মিডিয়ার মাধ্যমে ইয়াং তুর্করা আব্দুল হামিদ সানির পতন ঘটেছিল যারা মিডিয়া দ্বারা প্রভাবিত ছিল। - বক্তার মতে আমাদের প্রধান শত্রুকে চিহ্নিত করতে হবে আর তা হচ্ছে মিডিয়া। আমরা মিডিয়াকে আমার মূল প্রতিদ্বন্দী মনে করি না দেখেই আমরা আমাদের মূল সমস্যা নির্ধারণ করতে পারি না এবং আমাদ...

সালাহ: ছোট ছোট পরিবর্তন ৪

আমরা সারাদিন যে কাজগুলো করি এরমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সালাত, নামায পড়া। সময় মতন নামায পড়া এটা আমাদের গোটা প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট। আপনার জীবনে অনেক অশান্তি? সময় মতন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ুন, আপনার জীবনকে উদ্দেশ্যহীন মনে হয়? সময় মতন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ুন। সমাজে অনিয়ম, অনেক অন্যায় অনাচার, সময় মতন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ুন। কত মানুষ দাঁড়ি টুপি রেখে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পরেও ঘুষ খাচ্ছে, দুর্নীতি করছে, আপনি সময় মতন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ুন। নামায পড়েও মনে শান্তি হচ্ছে না, সময় মতন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়তে থাকুন। একদিন পরিবর্তন আসবেই, একদিন আপনার অন্তর খুলে যাবে, বিষণ্ণতা কাটিয়ে উঠে আপনি অন্তরে আনন্দ অনুভব করবেন। বর্তমান মুসলিম উম্মতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, প্রতিটি মুসলিম ওয়াক্ত নিয়মিত নামায পড়ছে না। যেই উম্মতের বেশির ভাগ মানুষ প্রতিদিন কোনো না কোনো ওয়াক্তের নামায কাযা করছে, সেই উম্মত কিভাবে আশা করে তাদের মধ্যে থেকে দুর্নীতি সরে যাবে, তারা প্রশান্তি পাবে, তারা সাফল্য পাবে, তারা বিশ্বজুড়ে মর্যাদা পাবে? আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত একটি জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না , যতক্ষণ পর্যন্তও...

সুরা নুর: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ২৯

 নুর (আলোকিত করে দেয়।) শব্দ ব্যবহৃত হওয়ায় একে সুরা নুর বলা হয়। এ সুরায় এমন আদব- শিষ্টাচার ও বিধি-বিধান বর্ণনা করা হয়েছে, যা সমাজ-জীবনকে নুরানি ও এর অধিকাংশ বিধান সুরায় যেসব বিধান উল্লেখ করেছেন, নিয়ে তা উল্লেখ করা হল : প্রথম ও দ্বিতীয় বিধান ব্যভিচারের শাস্তি সম্পর্কে। ব্যভিচারী নারী-পুরুষ যদি অবিবাহিত হয় তা হলে তাদের একশ বেত্রাঘাত করা হবে। আর যদি তারা বিবাহিত হয় তা হলে তাদেরকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করা।  তৃতীয় বিধানটি অপবাদ সংক্রান্ত। যদি কেউ কোনো বিবেকবান প্রাপ্তবয়স্ক পবিত্র চরিত্রের অধিকারী পুরুষ কিংবা নারীর উপর ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করে তা হলে তাকে বেত্রাঘাত করা হবে।  চতুর্থ বিধানটি স্বামী-স্ত্রীর জন্য। স্বামী যদি স্ত্রীর উপর অপবাদ আরোপ করে; এবং তার নিকট যদি চারজন সাক্ষী না থাকে তা হলে একে অপরের উপর লানত করবে। এরপর তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো হবে। পঞ্চম বিধানটিতে ইফকের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। ইফক অর্থ মিথ্যা অপবাদ। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার উপর কিছু মুনাফিক যখন অপবাদ আরোপ করে, তখন এ বিধান অবতীর্ণ হয়। এটা এক জঘন্য অপবাদ ছিল, সব ব্যক্তি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয...

নিয়মিত সাদাকাহ: ছোট ছোট পরিবর্তন ২

আপনি আজকে এক কোটি টাকা পেলে কি করতেন? যখনই কাউকে এমন প্রশ্ন করা হয়, সব মানুষই কাল্পনিক এ টাকার একটা অংশ রেখে দেন মহৎ কোনো উদ্দেশ্যে দান করে দেওয়ার জন্য। এক মুহুর্তের জন্য সত্যি সত্যি চিন্তা করে দেখুন তো, যদি আজই আপনি আকস্মিকভাবে পুরোপুরি  হালাল উপায়ে এককোটি টাকা পেয়ে যেতেন, আপনি এর কতটুকু দান করে দিতেন? আশ্চর্য বিষয় কি জানেন? আপনি যে পরিমাণই নির্ধারণ করেন না কেন? সে পরিমাণ দান করার যে পুরস্কার  আল্লাহ আপনাকে দিতেন, সেই পুরস্কারটা আপনি আজই পেতে পারেন, সেই বিশাল পরিমাণ টাকা না থাকা সত্ত্বেও। আমাদের দ্বীনে দান সদকার ক্ষেত্রে কে কত টাকা দিলো সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং কে তার সম্পদের কতটুকু অংশ দান করলো সেটাই মুখ্য। অর্থাৎ আপনার ১ কোটি টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা দান করলে যে সওয়াব পেতেন, আপনার ১০০০ টাকা থাকলে সেখান থেকে ১০০ টাকা দান করে দিলেও সেই সওয়াব পেতে পারেন। আমি এখন আর্থিক সমস্যায় আছি, হাতে একটু টাকা পয়সা আসলেই দান করে দিবো। অথবা আমি স্টুডেন্ট মানুষ পড়াশোনা শেষ করে আয় করা শুরু করলেই দান করে দিবো। এমনভাবে চিন্তা না করে আসুন যে যেই অবস্থায় আছি অল্প অল্প করে নিয়মিত সদাকাহ করার অভ্যাস ...