Skip to main content

হযরত ইলিয়াস (আ.)




 হযরত ইলিয়াস (আ.)-এর জীবনী।

পবিত্র কুরআনে মাত্র দু’জায়গায় হযরত ইলিয়াস (আঃ)-এর আলোচনা দেখা যায়। সূরা আন‘আম ৮৫ আয়াতে ও সূরা ছাফফাত ১২৩-১৩২ আয়াতে। সূরা আন‘আমে ৮৩-৮৫ আয়াতে ১৮ জন নবীর তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। সেখানে কোন আলোচনা স্থান পায়নি। তবে সূরা ছাফফাতে সংক্ষেপে হ’লেও তাঁর দাওয়াতের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। ঐতিহাসিক বর্ণনায় এ বিষয়ে প্রায় সবাই একমত যে, তিনি হযরত হিয্ক্বীল (আঃ)-এর পর এবং হযরত আল-ইয়াসা‘ (আঃ)-এর পূর্বে দামেষ্কের পশ্চিমে বা‘লা বাক্কা (بعلبك) অঞ্চলের বনু ইস্রাঈলগণের প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন। 

এই সময় হযরত সুলায়মান (আঃ)-এর উত্তরসুরীদের অপকর্মের দরুণ বনু ইস্রাঈলের সাম্রাজ্য দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। এক ভাগকে ‘ইয়াহূদিয়াহ’ বলা হ’ত এবং তাদের রাজধানী ছিল বায়তুল মুক্বাদ্দাসে। অপর ভাগের নাম ছিল ‘ইস্রাঈল’ এবং তাদের রাজধানী ছিল তৎকালীন সামেরাহ এবং বর্তমান নাবলুসে। ইলিয়াসের জন্মস্থান : হযরত ইলিয়াস (আঃ) ফিলিস্তীনের পার্শ্ববর্তী জর্ডানের আল‘আদ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। আল্লাহ পাক তাঁকে নবী হিসাবে মনোনীত করেন এবং ফিলিস্তীন অঞ্চলে তাওহীদের প্রচার ও প্রসারের নির্দেশ দান করেন। ফিলিস্তীনের ধর্মীয় ও সামাজিক অবস্থা : এই সময় ফিলিস্তীনের বায়তুল মুক্বাদ্দাস ও নাবলুস অঞ্চলে বনু ইস্রাঈলদের দুই গ্রুপের দু’টি রাজধানী ছিল। তারা আপোষে পরস্পরে মারমুখী ছিল। ফেলে আসা নবুঅতী সমাজ ব্যবস্থা থেকে তারা অনেক দূরে একটি পতিত সমাজে পরিণত হয়েছিল। কিতাবধারী ও কিতাবহীন জাহেলী সমাজের মধ্যে পার্থক্য করার কোন উপায় ছিল না। তখনকার ‘ইস্রাঈল’-এর শাসনকর্তার নাম ছিল ‘আখিয়াব’ বা ‘আখীব’। তার স্ত্রী ছিল ‘ইযবীল’। যে বা‘ল (بعل) নামক এক দেবমূর্তির পূজা করত। সে বা‘ল মূর্তির নামে এক বিশাল উপাসনালয় তৈরী করে এবং সেখানে সকল বনু ইস্রাঈলকে মূর্তিপূজায় আহবান করে। 

দলে দলে লোক সেদিকে আকৃষ্ট হচ্ছিল। মূসা-হারূণ, দাঊদ ও সুলায়মান নবীর উম্মতেরা বিনা দ্বিধায় শিরকের মহাপাতকে আত্মাহুতি দিচ্ছিল। এমন এক মর্মান্তিক অবস্থায় আল্লাহ পাক তাদের নিকটে তাওহীদের বাণী প্রচারের জন্য ইলিয়াসকে নবী হিসাবে প্রেরণ করেন। ইলিয়াসের দাওয়াত : শিরকে আচ্ছন্ন ফিলিস্তীনবাসীকে হযরত ইলিয়াস (আঃ) তাওহীদের দাওয়াত দেন এবং শিরক পরিত্যাগ করার আহবান জানান। কেননা শিরক ও তাওহীদের একত্র সহাবস্থান কখনোই সম্ভব নয়। ইলিয়াস ও তাঁর দাওয়াত সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, وَإِنَّ إِلْيَاسَ لَمِنَ الْمُرْسَلِيْنَ- إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَلاَ تَتَّقُوْنَ- أَتَدْعُوْنَ بَعْلاً وَتَذَرُوْنَ أَحْسَنَ الْخَالِقِيْنَ- اللهَ رَبَّكُمْ وَرَبَّ آبَائِكُمُ الْأَوَّلِيْنَ- فَكَذَّبُوْهُ فَإِنَّهُمْ لَمُحْضَرُوْنَ- إِلاَّ عِبَادَ اللهِ الْمُخْلَصِيْنَ- وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الْآخِرِيْنَ- سَلاَمٌ عَلَى إِلْ يَاسِيْنَ- إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِيْنَ- إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِيْنَ- (ছাফফাত ১২৩-১৩২)- ‘নিশ্চয়ই ইলিয়াস ছিল প্রেরিত রাসূলগণের অন্যতম’ (ছাফফাত ১২৩)। ‘যখন সে তার সম্প্রদায়কে বলল, তোমরা কি ভয় কর না’? (১২৪) ‘তোমরা কি বা‘ল দেবতার পূজা করবে আর সর্বোত্তম স্রষ্টাকে পরিত্যাগ করবে’? (১২৫) ‘যিনি আল্লাহ, তোমাদের পালনকর্তা ও তোমাদের পূর্বপুরুষদের পালনকর্তা’ (১২৬)। ‘অতঃপর তারা তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। অতএব তারা অবশ্যই গ্রেফতার হয়ে আসবে’ (১২৭)। ‘কিন্তু আল্লাহর খাঁটি বান্দাগণ ব্যতীত’ (১২৮)। আমরা এই নিয়মের উপরে পরবর্তীদেরকেও রেখে দিয়েছি’ (১২৯)। ‘ইলিয়াস-এর উপরে শান্তি বর্ষিত হৌক’ (১৩০)। ‘এভাবেই আমরা সৎকর্মীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি’ (১৩১)। ‘নিশ্চয়ই ইলিয়াস ছিল আমাদের বিশ্বাসী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত’ (ছাফফাত ৩৭/১২৩-১৩২)। 

দাওয়াতের ফলশ্রুতি : বিগত নবীগণের যে দুরবস্থা হয়েছিল, ইলিয়াস (আঃ)-এর ভাগ্যে তার ব্যতিক্রম হয়নি। তিনি ইস্রাঈলের শাসক আখিয়াব ও তার প্রজাবৃন্দকে বা‘ল দেবমূর্তির পূজা করতে নিষেধ করলেন এবং এক আল্লাহর প্রতি ইবাদতের আহবান জানালেন। কিন্তু দু’একজন হকপন্থী ব্যক্তি ছাড়া কেউ তাঁর কথায় কর্ণপাত করল না। তারা ইলিয়াস (আঃ)-এর বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারে লিপ্ত হ’ল। তাকে যত্রতত্র অপমান-অপদস্থ করা শুরু করল। এমনকি দৈহিক নির্যাতনও শুরু হয়ে গেল। কিন্তু ইলিয়াস (আঃ) তাঁর দাওয়াত চালিয়ে যেতে থাকেন। অবশেষে রাজা ও রাণী তাঁকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে তিনি রাজধানী ছেড়ে অনেক দূরে এক পাহাড়ের গুহায় আত্মগোপন করলেন এবং দুর্ভিক্ষ নাযিলের জন্য আল্লাহর নিকটে প্রার্থনা করলেন। ফলে সারা দেশে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। 

ইলিয়াস (আঃ) মনে করলেন দুর্ভিক্ষ দূর করার জন্য তিনি যদি তাদেরকে মো‘জেযা প্রদর্শন করেন, তাহ’লে হয়ত তারা শিরক বর্জন করে তাওহীদ কবুল করবে এবং এক আল্লাহর ইবাদতে ফিরে আসবে। বাদশাহর দরবারে ইলিয়াসের উপস্থিতি : আল্লাহর হুকুমে হযরত ইলিয়াস (আঃ) তাওহীদের দাওয়াত নিয়ে সরাসরি ইস্রাঈলের বাদশাহ আখিয়াবের দরবারে হাযির হ’লেন। তিনি বললেন, দেশব্যাপী এই দুর্ভিক্ষের কারণ হ’ল আল্লাহর নাফরমানী। তোমরা নাফরমানী থেকে বিরত হ’লে এ আযাব দূর হ’তে পারে। তোমরা বলে থাক যে, তোমাদের বা‘ল দেবতার নাকি সাড়ে চারশ’ নবী (!) আছে। তাই যদি হয়, তাহ’লে তুমি তাদের সবাইকে একত্রিত কর। তারা এই দুর্ভিক্ষ দূর করার জন্য বা‘ল দেবতার নামে কুরবানী করুক। আর আমি একই উদ্দেশ্যে আল্লাহর নামে কুরবানী পেশ করি। যার কুরবানী আসমান থেকে আগুন এসে ভস্ম করে দেবে, তার ধর্মই সত্য বলে গণ্য হবে। ইলিয়াস (আঃ)-এর এ প্রস্তাব সবাই সানন্দে মেনে নিল। আল্লাহ ও বা‘ল দেবতার নামে কুরবানীর ঘটনা : পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘কোহে কারমাল’ নামক পাহাড়ী উপত্যকায় সকলে সমবেত হ’ল। 

বা‘ল দেবতার নামে তার মিথ্যা নবীরা কুরবানী পেশ করল। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বা‘ল দেবতার উদ্দেশ্যে আকুতি-মিনতি ও কান্নাকাটি করে প্রার্থনা করা হ’ল। কিন্তু দেবতার কোন সাড়া পাওয়া গেল না। আসমান থেকে কোন আগুন নাযিল হ’ল না। অতঃপর হযরত ইলিয়াস (আঃ) আল্লাহর নামে কুরবানী করলেন এবং যথাসময়ে আসমান থেকে আগুন এসে তা খেয়ে গেল। বস্ত্ততঃ এটাই ছিল কুরবানী কবুল হওয়ার নিদর্শন। এভাবেই কবুল হয়েছিল আদমপুত্র হাবীলের কুরবানী। তখনকার সময় মুশরিকদের মধ্যেও এ রীতি গ্রহণযোগ্য ছিল, যা ইলিয়াসের বর্তমান ঘটনায় প্রমাণিত হয়। আসমান থেকে আগুন এসে কুরবানী কবুলের এই অভাবনীয় দৃশ্য দেখে অনেকে সাথে সাথে সিজদায় পড়ে গেল এবং ইলিয়াসের দ্বীন কবুল করে নিল। সকলের নিকটে ইলিয়াস (আঃ)-এর সত্যতা স্পষ্ট হয়ে গেল। কিন্তু বা‘ল পূজারী কথিত ধর্মনেতারা তাদের যিদের উপরে অটল রইল। এইসব মিথ্যা নবীরা ও তাদের স্বার্থান্ধ অনুসারীরা ঈমান আনল না। ইলিয়াস (আঃ)-কে পুনরায় হত্যার ষড়যন্ত্র : ওদিকে আখিয়াবের স্ত্রী ইখবীল হযরত ইলিয়াস (আঃ)-কে পুনরায় হত্যার চক্রান্ত শুরু করে দিল। ফলে তিনি রাজধানী সামেরাহ (নাবলুস) ছেড়ে চলে গেলেন এবং কিছুদিন পর বনু ইস্রাঈলের অপর রাজ্য পার্শ্ববর্তী ইয়াহূদিয়াহতে উপস্থিত হ’লেন। ঐসময় বা‘ল পূজার ঢেউ এখানেও লেগেছিল। হযরত ইলিয়াস (আঃ) সেখানে পৌঁছে তাওহীদের দাওয়াত শুরু করলেন। 

সেখানকার সম্রাট ‘ইহুরাম’-এর কাছেও তিনি দাওয়াত দিলেন। কিন্তু নিরাশ হ’লেন। অবশেষে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী সে ধ্বংসপ্রাপ্ত হ’ল। কয়েক বছর পর ইলিয়াস (আঃ) পুনরায় ‘ইস্রাঈলে’ ফিরে এলেন এবং ‘আখিয়াব’ ও তার পুত্র ‘আখযিয়া’-কে সত্য পথে আনার চেষ্টা করলেন। কিন্তু তারা তাদের শিরকী ধ্যান-ধারণায় অটল রইল। অবশেষে তাদের উপরে বৈদেশিক আক্রমণ ও মারাত্মক রোগ-ব্যধির গযব নাযিল হ’ল। অতঃপর আল্লাহ পাক তাঁর নবীকে উঠিয়ে নিলেন। হযরত ইলিয়াস (আঃ) জীবিত আছেন কি? সুয়ূত্বী, ইবনে আসাকির, হাকেম প্রমুখের বিভিন্ন বর্ণনায় প্রতীয়মান হয় যে, চারজন নবী জীবিত আছেন। তন্মধ্যে খিযির ও ইলিয়াস দুনিয়াতে এবং ইদরীস ও ঈসা আসমানে রয়েছেন। কিন্তু হাকেম ও ইবনু কাছীর এসব বর্ণনাকে বিশুদ্ধ বলেননি। সারকথা, হযরত ইলিয়াস (আঃ)-এর জীবিত থাকার বিষয়টি কোন ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত নয়। অতএব এসব বর্ণনার প্রতি কর্ণপাত করার কোন প্রয়োজন নেই। ইলিয়াস (আঃ) স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মৃত্যুবরণ করেছেন বলেই আমরা বিশ্বাস করব।

লেখকঃ Muhammad Moklesur Rahman

Comments

Popular posts from this blog

অবশ্যপাঠ্য পঞ্চাশটি ইসলামিক বই

 ১। আল কুরআনের সহজ সরল বাংলা অনুবাদ - হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ - আল কুরআন একাডেমী লন্ডন ২। তাফসীর : তাওযীহুল কুরআন - আল্লামা তাকী উসমানী / তাফহীমুল কুরআন - সাইয়েদ আবুল আ’লা / আহসানুল বায়ান - আল্লামা হাফিয সালাহুদ্দিন ইউসুফ / মাআরেফুল কুরআন - মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ শফী ৩।হাদীস : রিয়াদুস সালেহীন - ইমাম মুহিউদ্দীন ইয়াহইয়া আন-নববী ৪। সীরাত : সীরাহ - রেইনড্রপস / আর রাহীকুল মাখতুম - আল্লামা সফিউর রহমান মোবারকপুরী / মানবতার বন্ধু মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ (ﷺ) – নঈম সিদ্দিকী / নবীয়ে রহমত - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী ৫। নবিদের কাহিনি (১,২) - মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব ৬। আসহাবে রাসূলের জীবনকথা- ড. মুহাম্মদ আবদুল মা’বুদ / সাহাবায়ে কেরামের ঈমানদীপ্ত জীবন - ড. আব্দুর রহমান রাফাত পাশা ৭। সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী ৮। ইসলামের বুনিয়াদী শিক্ষা / হাকীকত সিরিজ - সাইয়েদ আবুল আ’লা ৯। ঈমান সবার আগে - মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মালেক ১০। আকীদা : ইসলামী আকীদা - ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর / ইসলামী আকীদা ও ভ্রান্ত মতবাদ - মাওলানা মুহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিন  ১১। ফিকহ : আহকা...

কৃতজ্ঞতা: ছোট ছোট পরিবর্তন ৩

আমাদের দ্বীনে একটা চমৎকার ব্যাপার হলো  বিভিন্নভাবে আমরা আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি।  আমরা মন থেকে আলহামদুলিল্লাহ বলার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, আবার আমরা আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতগুলো আল্লাহ খুশি হন করে এমন কাজে ব্যবহারের মাধ্যমেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, যেমন আল্লাহ আমাদের দুটি চোখ দিয়েছেন, আমরা পবিত্র কোরআন পাঠ করার মাধ্যমে এবং চোখ দিয়ে খারাপ কিছু দেখা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে  কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি। আল্লাহ যাদেরকে ভালো লেখার হাত দিয়েছেন, তারা সবসময় ভালো কথা লিখে লেখালেখির মাধ্যমে দ্বীনের খেদমত করে, মানুষের খেদমত করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি। যাদের অর্থ সম্পদ অনেক রয়েছে তারা বেশি বেশি দান সদকা করতে পারি, যার যেই বিষয়ে দক্ষতা সেই দক্ষতা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজে লাগিয়ে আল্লাহর সেই নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, কিছুক্ষণ ভেবে দেখুন আপনি কোন কাজটিতে এক্সপার্ট, এবার ভেবে দেখুন সেই দক্ষতা কিভাবে আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যবহার করতে পারেন। আল হামদুলিল্লাহ, সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি আপনাকে তার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়ার পথ দেখিয়ে দিয়...

বাংলাদেশে ইসলামী দাওয়াহ এবং কমিউনিটি ভিত্তিক সংস্থাসমূহ

বাংলাদেশে ইসলামী দাওয়াহ এবং কমিউনিটি ভিত্তিক সংস্থাসমূহ সংস্থার নাম ফেসবুক পেইজ এলাকা Dhaka University Dawah Circle https://facebook.com/dudcbd ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় Muslim Youth Noakhali https://www.facebook.com/MuslimYouthNoakhali নোয়াখালী জুলাইয়ের কাফেলা https://www.facebook.com/profile.php?id=61567169805213 ঢাকা উদ্দীপ্ত তরুণ সংঘ https://www.facebook.com/profile.php?id=61565409526695 টঙ্গী, গাজীপুর বিহান https://www.facebook.com/profile.php?id=61560610930267 চাঁদপুর ...

আঘাত না পেলে বিজয়ের আনন্দ কখনই উপভোগ করা যায় না।

ধৈর্য ধরো বাবা। ব্যথা সবসময় ক্ষণস্থায়ী। আঘাত না পেলে বিজয়ের আনন্দ কখনই উপভোগ করা যায় না। কষ্ট পেতে হয় বলেই বিজয়ের আনন্দ, দীর্ঘস্থায়ী হয়। যদি ব্যথায় স্বর্গসুখ না পাওয়া যেত। তাহলে "আল্লাহ" কেন তার প্রিয় বান্দাকে সবচেয়ে বেশি ব্যথা দিবেন? ব্যথা হচ্ছে আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা। বাণীতেঃ ইবনে আরাবী তথ্যসুত্রঃ https://www.facebook.com/watch/?v=1015461659413270 মূলঃ  দিরিলিস আরতুগ্রুল সিরিজ (তুরস্ক)

জুলাই আন্দোলন পরবর্তী ইসলামী ইভেন্টসমূহ (আগস্ট ২০২৪ - ডিসেম্বর ২০২৪)

জুলাই আন্দোলন পরবর্তী ইসলামী ইভেন্টসমূহ ইভেন্টের নাম তারিখ স্থান আয়োজক ইসলামিক কনফারেন্স ২০২৪ ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়াম JU Society of Islamic Knowledge Seekers প্রতিবাদী জনসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ শহীদ চত্ত্বর, পাঁচ রাস্তার মোড়, থানাপাড়া, কুষ্টিয়া কুষ্টিয়া জেলার সর্বস্তরের মুসলিম জনসাধারণ প্রতিবাদী জনসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ কাচারী বাজার, রংপুর সাধারণ মুসলিম সমাজ, রংপুর উত্তরার সাধারণ ছাত্র জনতার আয়োজ...

সুরা নিসা: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ৮

নামকরণ: সুরা নিসার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ চতুর্থ পারায় পড়েছে। এই সুরাকে 'বড় সুরা নিসা' বলা হয়। আর ২৮ পারার সুরা তালাককে 'ছোট সুরা নিসা' বলা হয়। এ সুরায় যেহেতু নারীদের বিধান বেশি বর্ণিত হয়েছে, তাই এর নামকরণ করা হয়েছে সুরা নিসা। এ সুরার যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও বিধান চতুর্থ পারায় এসেছে, তা হল : ১. বালেগ হলে এতিমদের অর্থ-সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া।  ২.এতিম ছেলে-মেয়ে উভয়ের সম্পদের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য।  ৩. একসঙ্গে চারজন নারীকে বিয়ে করার সুযোগ রয়েছে। তবে শর্ত হচ্ছে স্বামীর তাদের অধিকার আদায়ে সক্ষম হতে হবে। তাদের মাঝে ইনসাফসম্মত আচরণ করতে হবে। স্বামী যদি এমনটি করতে না পারে, তা হলে একজন স্ত্রী নিয়েই সম্ভষ্ট থাকতে হবে। ৪. একাধিক স্ত্রীর প্রচলন ইসলামের পূর্বেও ছিল। তবে তার কোনো সংখ্যা নির্দিষ্ট ছিল না। তারা স্ত্রীর বৈবাহিক ও জীবনযাপনের অধিকারও আদায় করত না।  এক্ষেত্রে ইসলাম হক আদায় ফরজ সাব্যস্ত করেছে।  ৫. ইসলামের পূর্বে নারীদের মিরাস দেওয়া হতো না। আরবদের প্রবাদ ছিল আমরা এমন মানুষকে কেন সম্পদ দেব, যারা ঘোড়ায় সওয়ার হতে পারে না, তরবারি বহন করতে পারে না, দুশমনের মো...

The Muslim Minds: বাঙালি মুসলিম আত্মপরিচয়ের সন্ধানের নোট (২য় পর্ব)

  সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকার: মিডিয়া ন্যারেটিভে সেকুলার আধিপত্য - ১৯৭১ এ ভাষাভিত্তিক বিভাজনের ফলে ইসলামিস্টরা পিছিয়ে পড়েছে। কারণ মাদ্রাসার একাডেমিক ভাষা ছিলো উর্দু কিন্তু স্বাধীনতার পর এদেশ উর্ধু নিষিদ্ধ করা হয়। - বাংলা ভুখণ্ডে ২ বার ভাষা নিষিদ্ধ হয়েছে ● ফারসি, ব্রিটিশ আমলে ● উর্দু, বাংলাদেশে। - বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ভাষার বিপরীতে মুসলিম শাসকরাই তৈরি করেছিলেন কারণ আর্য অর্থাৎ উঁচু হিন্দুদের ভাষা ছিল সংস্কৃত তার বিপরীতে এই অঞ্চলের আদিবাসী অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, নিগ্রো, অনার্যর তৎকালীন ভাষা ছিল অপরিণত বাংলা। যেটা ধীরে ধীরে পরিপূর্ণ ভাষায় রূপান্তরিত হয় মুসলিম শাসকদের আমলে। - মিডিয়া সংকট ইস্রা*য়েলের জাতির পিতা দাভিদ বেন গুরিয়ন ছিলেন একজন সম্পাদক তাই উনি সঠিকভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়াতে মিডিয়া ব্যবহার করতে পেরেছিলেন। খেলাফত পতন হয়েছে মিডিয়ার মাধ্যমে ইয়াং তুর্করা আব্দুল হামিদ সানির পতন ঘটেছিল যারা মিডিয়া দ্বারা প্রভাবিত ছিল। - বক্তার মতে আমাদের প্রধান শত্রুকে চিহ্নিত করতে হবে আর তা হচ্ছে মিডিয়া। আমরা মিডিয়াকে আমার মূল প্রতিদ্বন্দী মনে করি না দেখেই আমরা আমাদের মূল সমস্যা নির্ধারণ করতে পারি না এবং আমাদ...

সালাহ: ছোট ছোট পরিবর্তন ৪

আমরা সারাদিন যে কাজগুলো করি এরমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সালাত, নামায পড়া। সময় মতন নামায পড়া এটা আমাদের গোটা প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট। আপনার জীবনে অনেক অশান্তি? সময় মতন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ুন, আপনার জীবনকে উদ্দেশ্যহীন মনে হয়? সময় মতন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ুন। সমাজে অনিয়ম, অনেক অন্যায় অনাচার, সময় মতন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ুন। কত মানুষ দাঁড়ি টুপি রেখে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পরেও ঘুষ খাচ্ছে, দুর্নীতি করছে, আপনি সময় মতন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ুন। নামায পড়েও মনে শান্তি হচ্ছে না, সময় মতন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়তে থাকুন। একদিন পরিবর্তন আসবেই, একদিন আপনার অন্তর খুলে যাবে, বিষণ্ণতা কাটিয়ে উঠে আপনি অন্তরে আনন্দ অনুভব করবেন। বর্তমান মুসলিম উম্মতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, প্রতিটি মুসলিম ওয়াক্ত নিয়মিত নামায পড়ছে না। যেই উম্মতের বেশির ভাগ মানুষ প্রতিদিন কোনো না কোনো ওয়াক্তের নামায কাযা করছে, সেই উম্মত কিভাবে আশা করে তাদের মধ্যে থেকে দুর্নীতি সরে যাবে, তারা প্রশান্তি পাবে, তারা সাফল্য পাবে, তারা বিশ্বজুড়ে মর্যাদা পাবে? আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত একটি জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না , যতক্ষণ পর্যন্তও...

সুরা নুর: খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা) পর্ব ২৯

 নুর (আলোকিত করে দেয়।) শব্দ ব্যবহৃত হওয়ায় একে সুরা নুর বলা হয়। এ সুরায় এমন আদব- শিষ্টাচার ও বিধি-বিধান বর্ণনা করা হয়েছে, যা সমাজ-জীবনকে নুরানি ও এর অধিকাংশ বিধান সুরায় যেসব বিধান উল্লেখ করেছেন, নিয়ে তা উল্লেখ করা হল : প্রথম ও দ্বিতীয় বিধান ব্যভিচারের শাস্তি সম্পর্কে। ব্যভিচারী নারী-পুরুষ যদি অবিবাহিত হয় তা হলে তাদের একশ বেত্রাঘাত করা হবে। আর যদি তারা বিবাহিত হয় তা হলে তাদেরকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করা।  তৃতীয় বিধানটি অপবাদ সংক্রান্ত। যদি কেউ কোনো বিবেকবান প্রাপ্তবয়স্ক পবিত্র চরিত্রের অধিকারী পুরুষ কিংবা নারীর উপর ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করে তা হলে তাকে বেত্রাঘাত করা হবে।  চতুর্থ বিধানটি স্বামী-স্ত্রীর জন্য। স্বামী যদি স্ত্রীর উপর অপবাদ আরোপ করে; এবং তার নিকট যদি চারজন সাক্ষী না থাকে তা হলে একে অপরের উপর লানত করবে। এরপর তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো হবে। পঞ্চম বিধানটিতে ইফকের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। ইফক অর্থ মিথ্যা অপবাদ। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার উপর কিছু মুনাফিক যখন অপবাদ আরোপ করে, তখন এ বিধান অবতীর্ণ হয়। এটা এক জঘন্য অপবাদ ছিল, সব ব্যক্তি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয...

নিয়মিত সাদাকাহ: ছোট ছোট পরিবর্তন ২

আপনি আজকে এক কোটি টাকা পেলে কি করতেন? যখনই কাউকে এমন প্রশ্ন করা হয়, সব মানুষই কাল্পনিক এ টাকার একটা অংশ রেখে দেন মহৎ কোনো উদ্দেশ্যে দান করে দেওয়ার জন্য। এক মুহুর্তের জন্য সত্যি সত্যি চিন্তা করে দেখুন তো, যদি আজই আপনি আকস্মিকভাবে পুরোপুরি  হালাল উপায়ে এককোটি টাকা পেয়ে যেতেন, আপনি এর কতটুকু দান করে দিতেন? আশ্চর্য বিষয় কি জানেন? আপনি যে পরিমাণই নির্ধারণ করেন না কেন? সে পরিমাণ দান করার যে পুরস্কার  আল্লাহ আপনাকে দিতেন, সেই পুরস্কারটা আপনি আজই পেতে পারেন, সেই বিশাল পরিমাণ টাকা না থাকা সত্ত্বেও। আমাদের দ্বীনে দান সদকার ক্ষেত্রে কে কত টাকা দিলো সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং কে তার সম্পদের কতটুকু অংশ দান করলো সেটাই মুখ্য। অর্থাৎ আপনার ১ কোটি টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা দান করলে যে সওয়াব পেতেন, আপনার ১০০০ টাকা থাকলে সেখান থেকে ১০০ টাকা দান করে দিলেও সেই সওয়াব পেতে পারেন। আমি এখন আর্থিক সমস্যায় আছি, হাতে একটু টাকা পয়সা আসলেই দান করে দিবো। অথবা আমি স্টুডেন্ট মানুষ পড়াশোনা শেষ করে আয় করা শুরু করলেই দান করে দিবো। এমনভাবে চিন্তা না করে আসুন যে যেই অবস্থায় আছি অল্প অল্প করে নিয়মিত সদাকাহ করার অভ্যাস ...