আজ ইফতারের যা যা খেলেন। তার যেকোনো একটা আইটেম নিয়ে একবার ভাবুন তো। ঠিক কতজন মানুষের পরিশ্রম। প্রকৃতির কত আশ্চর্য সব প্রক্রিয়া এবং কত দীর্ঘ সময় লেগেছে এই একটি খাদ্য দ্রব্য তৈরি করতে। অনুমান করা যায় আল্লাহর হুকুমে কতবার সূর্যের চারপাশে পৃথিবী ঘুরেছে বলে। মেঘ ছুটে গিয়ে বৃষ্টি হয়েছে বলে। কত কৃষাণ-কৃষাণীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন বলে। কত শ্রমিকেরা ফ্যাক্টরিতে কাজ করেছেন বলে। কত ট্রাক আর বাস চালকেরা মাল বহন করেছেন বলে। কত ব্যবসায়ীরা দোকান দিয়েছেন বলে। পরিবারের কত সদস্য মমতা ভরে রান্না করেছেন বলে। কত গৃহকর্মী দিনের পর দিন তাদের প্রিয়জনদের ছেড়ে অজানা শহরের কনক্রিট দেয়ালে আবদ্ধ জীবন কাটিয়ে দিচ্ছেন বলে। আপনার সামনে এসে পৌঁছে গিয়েছে আপনার প্রিয় খাবারটি। এবার ভেবে দেখুন তো আল্লাহ যখন তাঁর সৃষ্টিকে এভাবে একত্র করে এনেছেন শুধুমাত্র আপনার রিজিকের অংশটুকু আপনার কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য। তখন আপনি যদি সেই খাবারটা মুখে দিয়ে সেই খাবারের সমালোচনা করেন এর চাইতে অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ আচরণ কি হতে পারে? এক ফোটা অপবিত্র তরল থেকে তৈরি হওয়া আদম সন্তান পৃথিবীতে এমন কি অর্জন করে ফেলেছে সে তার রবের প্রেরিত উপহার পেয়ে নাখোশ হয়ে, সে তার খুঁত ধরে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি চমৎকার সুন্নত ছিল, তিনি কখনও খাবারের সমালোচনা করতেন না। তার কোন খাবার ভালো লাগলে তিনি সেটার প্রশংসা করতেন। আর যদি খুব একটা ভালো না লাগতো তাহলে তার খেতেন না। কিন্তু সেই খাবারটা নিয়ে কোন খারাপ মন্তব্য তিনি করতেন না। এই রমাদান থেকে আমরা এই অভ্যাসটা কে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে পারি। খাবার ভালো লাগলে সেটার প্রশংসা করা। ভালো না লাগলে চুপ থাকা। একেবারে কোন অবস্থাতেই কোন দোষ ত্রুটি বের করা যাবে না। এবং সব অবস্থাতেই খাবারটি পেয়ে আল্লাহর প্রশংসা করা। মনের অন্তঃস্থল থেকে আলহামদুলিল্লাহ বলা।
মূল: Baseera
তথ্যসুত্র: https://www.youtube.com/watch?v=bOpm1ZcqFF8

Comments
Post a Comment