লাইলাতুল ক্বদর বা শবে ক্বদর একটি রাত যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। কোন রাত সেটি? বুখারী ও মুসলিমের হাদীসে বর্ণিত আছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন রমজানের শেষ দশ দিনে এই রাতটি খুঁজতে। শেষ রাতে লাইলাতুল ক্বদরকে খোঁজা মানে কি? মানে শেষ দশ রাতের প্রতি রাতেই বেশি বেশি করে ইবাদাত করা। আজ থেকেই ঠিক করে নিন, রমাদান মাসের শেষ দশ রাতে আপনি কি কি ইবাদত করবেন। কিছু অংশ কোরান পড়বেন ঠিক করে নিন। দিনের কোন সময়টায় কোরান পড়বেন এবং কতক্ষণ কোরান পড়বেন। শুধু তেলাওয়াত করবেন নাকি তেলাওয়াতের পাশাপাশি অনুবাদ ও তাফসীরও পড়বেন। প্রতিদিন কিছু টাকা দান করুন এবং এখনই নির্ধারণ করে রাখুন কবে কিভাবে সেই টাকাগুলো দান করবেন। এবং একটি খাতে দান না করে আপনার সদকাহকে ডাইভারসিফাইড করুন বিভিন্নভাবে দান করুন। রোগে আক্রান্ত কোন ব্যক্তিকে সাহায্য করা। মসজিদে দান করা। কারো খাবার-দাবারের বন্দোবস্ত করা। কোন আত্মীয় স্বজনের সাহায্য করা। কোন ইয়াতিমের সাহায্য করা ইত্যাদি। যিকির করবেন, কোন সময়টায় আপনি নির্জনে বসে আল্লাহর কথা স্মরণ করতে করতে যিকির করতে পারবেন। কোন যিকিরগুলো করবেন। দোয়া করবেন দোয়া করার সময় বেশি বেশি পড়বেন আল্লাহুম্মা ইন্নাকা 'আফুউউন তুহিব্বুল 'আফওয়াহ, ফা'ফু 'আন্নি এবং এইসব কাজ করতে কত সময় লাগবে হিসাব করে নিন। ধরুন কোরআন এর জন্য আপনি একঘন্টা নির্ধারণ করলেন। দান করার জন্য ১৫ মিনিট। যিকির করার জন্য আরও ১৫ মিনিটের। দোয়ার জন্য আরও 15 মিনিট এবং অন্যান্য নফল ইবাদতের জন্যে আরো ১৫ মিনিট। মোট হলো দুই ঘণ্টা। এই ২ ঘন্টা কি আপনার হাতে আছে? দিনের পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ, নফল নামাজ, ঘুম ও বিশ্রাম, পেশাগত কাজ ঘরের কাজ, পারিবারিক দায়িত্ব ইত্যাদির পর এই দুই ঘন্টা পাওয়া কি আপনার জন্য সহজ হবে? নাকি এই ২ ঘন্টা বের করতে হলে আপনাকে বর্তমান কোন কাজ বাদ দিতে হবে। বাদ দিতে হলে কোন কাজটি বাদ দিবেন এবং সেই কাজটি টানা ১০ দিন বাদ দিলে আপনার কোন সমস্যা হবে কি? সব বিষয় বিবেচনা করে এই শেষ রাত্রির জন্য প্রস্তুত থাকুন। ভাইয়েরা, বোনেরা, আপনার নিজের সন্তান বিয়ে দিতে হলে যতোটুকু প্রস্তুতি নিতেন অথবা আপন ভাই বা আপন বোনের বিয়ের জন্য যতটা উৎফুল্ল থাকতেন। যতটা আয়োজন করতেন। মুসলিম হিসেবে এই শেষ রাতের জন্য আরও বেশি ভালোভাবে প্রস্তুত থাকা উচিত। আরো বেশি আয়োজন করা উচিত। এই শেষ দশ তার তো উৎসবের দশদিন। এটা হল কুরআনের উৎসব। কারণ এই রাত্রিতেই আল্লাহ তাআলা কুরআন নাযিল করেছিলেন। এটা হল মাগফেরাতের উৎসব। কারণ এই রাত আল্লাহ তাঁর এতো বান্দাদের এতো পাপ ক্ষমা করে দেন। এটা হল দোয়ার উৎসব। যিকিরের উৎসব। সাদাকাহর উৎসব। সব ধরনের ভালো কাজের উৎসব। কারণ লাইলাতুল ক্বদরে প্রতিটি ভালো কাজের পুরস্কার আল্লাহ বাড়িয়ে দেবেন হাজার হাজার গুনে। এই উৎসব কি মিস করা যায়? প্রিয়জনদের মধ্যে কেউ যেন এই আনন্দময় ইবাদতের উৎসব মিস না করে। তারা যেন মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে এই দশ রাতের ইবাদত আরম্ভ করতে পারে। আপনার প্রতিটি কাছের মানুষের সাথে এই ভিডিওর লিংকটি শেয়ার করে দিন। আপনি যাদেরকে জান্নাতে আপনার সাথে দেখতে চান। তাদের সাথেই শেয়ার করুন এবং এরপর ইবাদতের ফেস্টিভ্যালের প্রস্তুতি আরম্ভ করে দিন।
মূল: Baseera
তথ্যসুত্র: https://www.youtube.com/watch?v=VKvTzeoUevs

Comments
Post a Comment