বিচার দিবসের আল্লাহর আরশের ছায়ায় জায়গা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আরেকটি দল হলো এমন একজন ব্যক্তি যে তরুণ বয়স থেকেই আল্লাহর ইবাদত করে বড় হয়েছে। শেষ বয়সে এসে মানুষের অভ্যাস পরিবর্তন করা খুবই কষ্টের। একজন যুবক-যুবতী যত সহজে নতুন অভ্যাস গড়ে তুলতে পারবে। একজন বৃদ্ধ ব্যক্তির জন্য তার তুলনামূলকভাবে বেশ কষ্টকর, যদিও অসম্ভব নয়। নতুন প্রজন্মকে সুন্দরভাবে ইসলামের শিক্ষা দিতে হলে, সবার আগে আমাদের নিজেদেরকে ইসলাম নিয়ে জানতে হবে। বর্তমানে এমন বহু পরিবার আছে যে পরিবারে বাবা মা মাশাআল্লাহ করে এসেছে কিন্তু তার যুবক-যুবতী সন্তানেরা আল্লাহর অস্তিত্বেই বিশ্বাস করেনা। কত তরুণ-তরুণী যাদের নাম আব্দুল্লাহ, মোহাম্মদ বা ওমর, যাদের মনে প্রবল সংশয় রয়েছে ইসলামিই সঠিক পথ কিনা এবং এজন্য ঢালাওভাবে ইন্টারনেট বা প্রজন্মকে দোষারোপ করলে হবে না। বরং ভেবে দেখতে হবে তারা কি পরিবারের কাছ থেকে সুন্দরভাবে ইসলাম সম্পর্কে জানতে পেরেছে। পবিত্র কোরআনের শিক্ষা মানে কি ছিল ওদের কাছে বসে আরবি উচ্চারণ শেখা। নাকি এর পাশাপাশি পারিবারিকভাবে বাবা, মা, ভাই, বোন মিলে আলোচনা করা হয়েছিল আল্লাহ কুরআনে কি বলেছেন, কেন বলেছেন। তরুণ বয়সে কি তাদের ধমক দিয়ে বলা হতো নামাজ পড়ো না? কেন নামাজে যাও। নাকি আমরা কেন নামাজ পড়ি, সেই কারণগুলোও বোঝানো হয়েছিল এবং তারা বাবা-মাকে সময় মত নামাজ পড়তে দেখেই বড় হয়েছিল। নূহ আলাইহিস সালাম তার সন্তানদের মধ্যে থেকে একটি পুত্রকে হেদায়েতের পথে আনতে পারেননি। কারণ হেদায়েতের মালিক একমাত্র আল্লাহ। আমরা কোনভাবেই গ্যারান্টি দিতে পারবো না আমাদের সন্তানেরা ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে কিনা। কিন্তু আমরা আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করতে পারি তারা যেন ইসলাম সম্পর্কে জানার, আল্লাহকে জানার একটা পরিবেশ পায়। সেই পরিবেশটাই আমরা তৈরি করতে পারি এবং সেই প্রচেষ্টাগুলোর পাশাপাশি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে তার কাছে তাদের ও আমাদের নিজেদের জন্য দোয়া করতে পারি। "রাব্বানা- হাবলানা- মিন আযওয়াঝিনা- ওয়া জুররিইয়্যা-তিনা- কুররাতা আ’ইউনিওঁ ওয়াঝআ’লনা- লিলমুত্তাক্বিনা ইমা-মা।"
মূল: Baseera
তথ্যসুত্র: https://www.youtube.com/watch?v=r7f1ANdv1nU

Comments
Post a Comment