বর্তমান যুগের মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা কি? নিঃসন্দেহে অনেকেই এই প্রশ্নের উত্তরে বলবেনঃ অশ্লীলতা। বিশেষ করে মোবাইল ফোন আর ইন্টারনেট এর কারণে এই সমস্যাটি একটি গোটা প্রজন্মের জন্য একটি বিরাট ফিতনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অশ্লীলতা পর্নোগ্রাফির বিষয়ে আসলে সর্বপ্রথম আমাদের যেই ব্যাপারটি সবার আগে স্বীকার করে নিতে হবে তা হল এর সুস্পষ্ট সমাধান আমাদের জানা নেই। কারণ এই সমস্যাটাই মানব সমাজের জন্য তুলনামূলকভাবে নতুন। হ্যাঁ যেনা করার ফেতনা হয়তো আদিকাল থেকেই মানুষের জন্য একটা পরীক্ষা হয়েছিল কিন্তু বর্তমান সময়ে চোখের জেনার ফাঁদে ফেলা যত সহজ, এত সহজ হয়তো কয়েক যুগ আগেও ছিল না। দ্বিতীয় যে বিষয়টি আমাদের মেনে নিতে হবে তাহলে আমরা সবাই জানি এই কাজটি খারাপ। আমাদের যে এই ছোট ভাইটি এই সমস্যায় খুব খারাপভাবে ভুগছে সেও মনের অন্তঃস্থলে বিশ্বাস করে এটি একটি পাপ কাজ এবং এটা ছেড়ে দেয়াই শ্রেয়। কিন্তু সেটা করতে পারছে না সে বারবার একই ফাঁদে পা ফেলছে এবং এক প্রকার আসক্ত হয়ে পড়েছে। এই সমস্যার সমাধান নিয়ে অবশ্যই এক দুই মিনিট আলোচনা করা সম্ভব নয় বরং এটা নিয়ে সামষ্টিকভাবে আমাদের কাজ করতে হবে। কিন্তু আজকের এই ছোট্ট রিমাইন্ডারে আমরা একটা পরামর্শ দেবো। যা আমাদের ছোট ভাই বোনেরা এখন থেকেই কাজে লাগাতে পারে। দেখুন আপনার মূল সমস্যাটাই হল আপনি যেই মুহূর্তে এই পাপ কাজের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন সেই মুহূর্তে আপনার আর নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনি জানেন কাজটি খারাপ কিন্তু সেই মুহূর্তে কোন কারণে আপনি নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। কিন্তু সেই পাপ কাজে লিপ্ত হওয়ার পর আবার আপনার নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ আসে আপনার মনে অপরাধ বোধ জেগে ওঠে। আপনি উপলব্ধি করেন আপনি আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করেছেন। এই মুহূর্তে আপনাকে শয়তান আর আপনার নাফস মিলে আপনাকে আবারও ধোকা দিবে। আপনাকে আপনার এই অপরাধবোধ থেকে অন্য কোন দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি আপনার নিয়ন্ত্রণে আপনি বুঝতে পারছেন আপনি ভুল করে ফেলেছেন এবং আদম সন্তান যখন ভুল করে তখন সে তার বাবা আদম আলাইহিস সালাম এর কাছ থেকে শিক্ষা নেয়। সেই মুহূর্তে আল্লাহর কাছে তওবা করুন। পবিত্র হওয়ার প্রয়োজন হলে পবিত্র হয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়ে ফেলুন। নামাজে আল্লাহর কাছে মনের অন্তঃস্থল থেকে ক্ষমা চেয়ে নিন। তার কাছে আপনার দুর্বলতার কথা জানিয়ে দিন। আপনি বারবার একই ভুল করছেন। আপনি সেই ভুল থেকে ফিরে আসতে চান। সে কথা আল্লাহকে বলুন। মন খুলে দোয়া করুন, তওবা করুন। এবং এরপর কোন একটা ভালো কাজ করুন হয়। হয় কোরআন পড়ুন বা দান সাদাকা করুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন পাপ করে ফেললে, ভাল কাজ করো। সেটা পাপ কাজ থেকে মুছে দিবে। সেই মুহূর্তেই নির্ধারণ করে নিন যে এই পাপ আপনি আর করবেন না। কিন্তু যদি ভবিষ্যতে আবারো সেই পাপ হয়ে যায়। তাহলে আবারও একই ভাবে তওবা করে নিতে হবে। আবারও কোনো ভালো কাজ করতে হবে। কিন্তু তাহলে কি আমি মুনাফিক হয়ে যাচ্ছি না। অবশ্যই না। দুটি ব্যক্তির কথা চিন্তা করুন, একজন ব্যক্তি পাপ কাজ করলো এরপর তাওবা করল এবং তওবা করার সময়ই তার মনের মধ্যে সে জানে যে, পরের দিন সে সেই পাপ কাজটি আবার করবে। অন্যজনের পাপ কাজ করলো, তাওবা করল এবং তওবা করার সময় মনের গভীরে সে প্রতিজ্ঞা করেছে সে সেই পাপ কাজ আর কখনো করবে না। কিন্তু এই প্রতিজ্ঞা করা সত্ত্বেও সে কিছুদিন পর আবার দুর্বল হয়ে পড়ল। আবার অভাব কাজটি করে ফেলল। এই দুই ব্যক্তির মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। আপনার তওবা কি কবুল হচ্ছে কিনা। তা নির্ভর করবে আপনার মনের ভেতরে সেই পাপ কাজে ফিরে না যাওয়ার প্রতিজ্ঞা টা কতদূর মজবুত। কতটা আন্তরিকতাপূর্ণ। অশ্লীলতার সমস্যা এই প্রজন্মের সবচেয়ে বড় সমস্যা। যারা এই ভিডিওটি শুনছেন ভেবে দেখুন আপনি শেষ কবে বা কখন এই পাপ কাজ করে ফেলেছিলেন এবং সেই পাপ কাজ করার পর আপনার কি মনে হয়েছে আল্লাহ আপনাকে পরিত্যাগ করেছেন? যে তিনি আপনাকে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন না? যে তিনি চান না আপনি জান্নাতে প্রবেশ করুন? যদি তাই সত্য হতো তাহলে আমার প্রিয় ভাই এই ভিডিওটি আপনার কাছে কার হুকুমে পৌঁছালো আর আপনিই বা কাকে পাবার আশায় মন দিয়ে এসব কথা শুনলেন।
মূল: Baseera
তথ্যসুত্র: https://www.youtube.com/watch?v=ttQ6HzQa2qQ

Comments
Post a Comment