অনলাইনে মিথ্যা ও বানোয়াট খবরের বহুমুখী রূপ রয়েছে। বহু উদ্ভট খবরের শিরোনাম আমাদের চোখের সামনে হরহামেশাই পড়ছে। এবং সেই খবরগুলোর ঠিক ভুল যাচাই না করে মানুষ অনায়াসে শেয়ার করে বেড়াচ্ছে। ভুল তথ্যের এই মহামারী যেন করোনা মহামারীর চেয়েও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। কারণ করোনা ভাইরাসের কারণে আপনার সর্বোচ্চ মৃত্যু হতে পারে। কিন্তু আপনি যদি এমন কোন ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেন যা হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যায় তাহলে আপনি মিথ্যাবাদী হিসেবে সাব্যস্ত হয়ে গেলেন। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একজন মানুষের মিথ্যাবাদী হিসেবে সাব্যস্ত হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে তাই বলে বেড়ায়। আপনি ভাবতে পারেন আমি তো আরেকজনের নিউজ শেয়ার দিয়েছি নিজে তো মিথ্যা কথা রটাই নি। বা আমি তো জানতাম না খবরটা সঠিক নয় জানলে কখনো শেয়ার করতাম না। এবং এখানেই আমাদের অভ্যাসে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। এই জায়গাটায় ছোট ছোট পরিবর্তনের সুযোগ নেই ব্যাপারটা খুব সিরিয়াস। আপনি তখনই কোন নিউজ শেয়ার দিবেন যখন আপনি যাচাই করে দেখে ফেলেছেন, খবরটা সত্য কিনা। যদি পুরোপুরি যাচাই করার সুযোগ না থাকে তাহলে নিউজটা শেয়ার দিবেন না। কিছুদিন অপেক্ষা করে দেখুন সেই বিষয়টা আরেকটু পরিষ্কার হয় কিনা। তা ছাড়া সব বিষয়ে আমাদের মুখ খোলাটা জরুরী নয়। আর যদি আপনি আপনার সাধ্যমত যাচাই করার পর কোন একটি খবর শেয়ার করার কিছুদিন পর আপনার কাছে খবর আসে। সেই খবরটিতে কিছু ভুল তথ্য ছিল তাহলে অবশ্যই যাদের সাথে আপনি নিউজটা শেয়ার করেছিলেন তাদের জানিয়ে দিবেন যে আপনি ভুল খবর শেয়ার করেছিলেন এবং এজন্য তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবেন। এর পাশাপাশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবেন যে খবরটির সত্যতা যাচাই করা সত্ত্বেও আপনার ভুল হয়ে গেছে যেন তিনি আপনার এই ভুলটা ক্ষমা করে দেন। সোশ্যাল মিডিয়ার জগতে শেয়ার বাটনটা ট্যাপ করা এত সহজ হয়ে পড়েছে যে আমাদের মনেই থাকে না ব্যাপারটা আসলে কতটা সিরিয়াস। আজ থেকে কোন খবর, কোন আপডেট, কোন হেলথ টিপস, কোন ধরনের তথ্যই, ভালোভাবে যাচাই-বাছাই না করে আমাদের প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করব না।
মূল: Baseera
তথ্যসুত্র: https://www.youtube.com/watch?v=zc6jJREVcH8

Comments
Post a Comment