নামকরণ ও বিষয়বস্তু: কাবাঘর নির্মাণের পর হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের জবানে লোকদেরকে হজ ফরজ হওয়ার ঘোষণার বিষয়টি এ সুরায় উল্লেখ হয়েছে। বিধায় একে সুরা হজ বলা হয়। সুরাটি মাদানি।
এ সুরায় বলা হয়েছে, হে লোকসকল, তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো। নিশ্চয় কেয়ামতের প্রকম্পন একটি ভয়ংকর ব্যাপার। যেদিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী তার দুধের শিশুকে বিস্মৃত হবে। প্রত্যেক গর্ভবতী গর্ভপাত করবে। সেদিন মানুষকে তুমি মাতাল দেখবে অথচ তারা মাতাল নয়। বস্তুত আল্লাহর আজাব অত্যন্ত কঠিন।
পুনরুত্থানের দুটি দলিল
কেয়ামতের আলোচনা করার পর পুনরুত্থানের ব্যাপারে দুটি দলিল দেওয়া হয়েছে। প্রথম দলিলটি মানব-সৃষ্টির বিভিন্ন স্তর সম্পর্কে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ সাতটি স্তর অতিক্রম করে থাকে।
১. আমাদের পিতা হজরত আদম আলাইহিস সালামকে সরাসরি মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর সবাইকে পরোক্ষভাবে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
২. সকলেরই জন্ম হয়েছে বীর্য দ্বারা। এ বীর্য তৈরি হয় রক্ত থেকে। রক্ত তৈরি হয় খাবার থেকে। খাবার মাটি থেকে তৈরি হয়। মাটি ও বীর্যের মাঝে জীবনের রহস্য নিহিত রয়েছে।
৩. তৃতীয় ধাপে রক্ত জমাটবদ্ধ হয়।
৪. চতুর্থ ধাপে তা মাংসপিণ্ডের রূপ ধারণ করে, যা কখনো পূর্ণ হয় আবার কখনো অপূর্ণই রয়ে যায়।
৫. পঞ্চম ধাপে বাচ্চা তৈরি হয়, যার পঞ্চেন্দ্রিয় অত্যন্ত দুর্বল থাকে।
৬. ষষ্ঠ ধাপে সে যৌবনে উপনীত হয়। তার শক্তি-সামর্থ্য ও জ্ঞানবুদ্ধি পূর্ণতায় পৌঁছায়।
৭. সপ্তম ধাপে হয়তো সে যৌবনেই মৃত্যুবরণ করে কিংবা বার্ধক্যে উপনীত হয়।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষকে ছয় ভাগ করা যায়।
১. মুসলমান : তারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও কোরআনের উপর ঈমান রাখে।
২. ইহুদি : তারা মুসা আলাইহিস সালামের উম্মত। তাওরাতের অনুসারী।
৩. খ্রিষ্টান : তারা ঈসা আলাইহিস সালাম ও ইনজিলের অনুসারী।
৪. সাবি: ইবরাহিম আলাইহিস সালামের জমানার মুশরিকদের মতো এক তারকাপূজারি গোষ্ঠী।
৫. অগ্নিপূজক: তারা কোনো ধর্মের অনুসরণ করে না। চন্দ্র-সূর্য ও তারকার পূজা করে।
৬. মুশরিক: তারা মূর্তির পূজা করে।
উল্লিখিত পাঁচটি দলই শয়তানের। কেবল প্রথমটিই রহমানের দল। কেয়ামতের দিন তাদের মাঝে ফয়সালা করা হবে।
হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম আল্লাহর নির্দেশে বাইতুল্লাহ নির্মাণ করেন। এরপর জাবালে আবি কুবাইসে দাঁড়িয়ে তিনি হজের ঘোষণা দেন। আল্লাহ তায়ালা স্বীয় কুদরতে এই ঘোষণা আকাশ ও পৃথিবীবাসীদের কানে পৌঁছে দেন। সকলেই তা শুনতে পেয়েছিল।
প্রকৃত মুমিনের চারটি আলামত
প্রকৃত মুমিনের চারটি আলামত রয়েছে। আল্লাহর ভয়, বিপদে ধৈর্যধারণ, নামাজ আদায় এবং ভালো খাতে ব্যয় করা।
পশু কোরবান করার নির্দেশের পর বলা হয়েছে, এসব প্রাণীর রক্ত ও গোশত আল্লাহর নিকট পৌঁছে না; বরং তার নিকট কেবল বান্দার তাকওয়া পৌঁছে। যার অন্তরে তাকওয়া থাকবে, সে গুনাহ থেকে বেঁচে যাবে। সে তখন শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই নেক কাজ করবে।
জিহাদের অনুমতি
হজের বিধান উল্লেখ করার পর মুসলমানদের জিহাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কেননা কাফেররা মুসলমানদের ধর্মপালন ও মক্কায় প্রবেশ করতে বাধা দেয়। প্রথমে যদিও এক্ষেত্রে ধৈর্যধারণ ও তাদেরকে ক্ষমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু মদিনায় হিজরতের পরও যখন মুশরিকদের বাড়াবাড়ি ও অবাধ্যতা অব্যাহত ছিল। তখন সুরা হজের ৩৯ নং আয়াতের মাধ্যমে জিহাদের অনুমতি দেওয়া হয়।
বইঃ খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা)
লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আসলাম শেখোপুরী রহমাতুল্লাহ
অনুবাদঃ মুজাহিদুল মাইমুন
পৃষ্ঠাঃ ১৭৬-১৭৯
Comments
Post a Comment